Madhyamik Bengali Suggestion 2027 (Wbbse Class 10)(পথের দাবী)

Madhyamik Bengali Suggestion 2027 (WBBSE Class 10)

পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের (WBBSE) ২০২৭ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের জন্য বাংলা প্রথম ভাষার সম্ভাব্য এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নাবলির সম্পূর্ণ তালিকা নিচে দেওয়া হলো। পাঠ্যবই খুঁটিয়ে পড়ার পাশাপাশি এই নির্বাচিত প্রশ্নগুলি প্রস্তুত করলে পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বর তোলা সহজ হবে।

Bengali Suggestion Banner

মাধ্যমিক বাংলা সাজেশন ২০২৭: সম্পূর্ণ অধ্যায়ভিত্তিক প্রস্তুতি নির্দেশিকা

পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের (WBBSE 2027) মাধ্যমিক পরীক্ষায় বাংলা একটি অন্যতম প্রধান ও বেশি নম্বর তোলার মতো বিষয়। সঠিক পরিকল্পনা, প্রশ্নকাঠামো বোঝা এবং বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলো নিয়মিত অনুশীলন করলে বাংলায় ৯০ শতাংশের বেশি নম্বর পাওয়া কঠিন নয়। নিচে পাঠ্যক্রমের প্রতিটি বিভাগ থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও প্রস্তুতির বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হলো।

সেরা প্রস্তুতি কৌশল: মাধ্যমিক বাংলা পরীক্ষায় ভালো নম্বরের জন্য সেরা প্রস্তুতি নির্দেশিকা। গল্প, কবিতা, নাটক, ব্যাকরণ ও প্রবন্ধ রচনার গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এবং নম্বর তোলার সহজ কৌশল জানুন এখানে।

পথের দাবী, জ্ঞানচক্ষু, বহুরূপী, আফ্রিকা, অভিষেক এবং ব্যাকরণ ও নির্মিতির গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নাবলি বিশেষভাবে প্রস্তুত রাখুন।


ট্যাগ / কি-ওয়ার্ডস: WBBSE Class 10 Bengali suggestion 2027, মাধ্যমিক বাংলা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, Madhyamik Bengali question paper, পথের দাবী গল্প সাজেশন

পথের দাবী — শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

১. বহু বিকল্পভিত্তিক প্রশ্নোত্তর [MCQ] (মান – ১)

১. "তার ________ এই কালো চামড়ার নীচে জ্বলে না, তলওয়ারকর।" [শূন্যস্থান পূরণ করো]

[A] লাঞ্ছনা [B] গঞ্জনা [C] খেয়ালিপনা [D] সুখ
উত্তর: [A] লাঞ্ছনা


২. পলিটিক্যাল সাসপেক্টের নাম ছিল—

[A] সব্যসাচী মল্লিক [B] শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় [C] নিমাই মল্লিক [D] অপূর্ব রায়
উত্তর: [A] সব্যসাচী মল্লিক


৩. "বামুনের ছেলে, বাংলা লেখাপড়া, শাস্তর-টাস্তর সবই কিছু কিছু শিখেছিলাম"— একথা বলেছিলেন—

[A] সব্যসাচী মল্লিক [B] রামদাস তলওয়াকর [C] গিরিশ মহাপাত্র [D] অপূর্ব রায়
উত্তর: [C] গিরিশ মহাপাত্র


৪. "তোমার চিন্তা নেই ঠাকুর।"— 'ঠাকুর' বলতে যাকে বোঝানো হয়েছে, তার নাম হল—

[A] গিরীশ মহাপাত্র [B] তেওয়ারী [C] অপূর্ব রায় [D] তলওয়ারকর
উত্তর: [B] তেওয়ারী


৫. "আমার মনে হয় এ শহরে আরও কিছুদিন নজর রাখা দরকার।"— শহরটির নাম—

[A] ভামো [B] শোএবো [C] রেঙ্গুন [D] প্রোম
উত্তর: [C] রেঙ্গুন


৬. রাতেরবেলা ট্রেনের মধ্যে পুলিশের লোক অপূর্বর বার-তিনেক ঘুম ভাঙাবার কারণ—

[A] চুরি হওয়া জিনিসপত্রের লিস্ট নেওয়ার জন্য [B] যারা তার টাকা-পয়সা চুরি করেছিল তাদের নাম জানার জন্য [C] ভারতীয় বিদ্রোহীদের নাম জানার জন্য [D] নাম-ধাম-ঠিকানা লেখার জন্য
উত্তর: [D] নাম-ধাম-ঠিকানা লেখার জন্য


৭. "আশ্চয্যি নেহি হ্যায় বাবুসাহেব।"— 'বাবুসাহেব'টি হলেন—

[A] অপূর্ব [B] পুলিশ ইনস্পেক্টর [C] জগদীশবাবু [D] সব্যসাচী মল্লিক
উত্তর: [A] অপূর্ব


৮. "সুমুখের ঘড়িতে ________ বাজিতে সে উঠিয়া দাঁড়াইল।” [শূন্যস্থান পূরণ করো]

[A] একটা [B] তিনটা [C] পাঁচটা [D] সাতটা
উত্তর: [B] তিনটা


৯. "এতবড়ো ________ মেয়ে আর যে কেহ আছে মনে হয় না হে তলওয়ারকর।" [শূন্যস্থান পূরণ করো]

[A] কর্মকুশলী [B] কর্মেপটু [C] কার্যকুশলা [D] কর্মে পটিয়সী
উত্তর: [C] কার্যকুশলা


১০. "এই জানোয়ারটাকে ________ করার দরকার নেই, বড়োবাবু।” [শূন্যস্থান পূরণ করো]

[A] ওয়াচ [B] দেখা [C] মারার [D] বন্ধ
উত্তর: [A] ওয়াচ


১১. ফিরিঙ্গি ছোঁড়ারা লাথি মেরে প্ল্যাটফর্ম থেকে বের করে দিয়েছিল—

[A] নিমাইকে [B] অপূর্বকে [C] জগদীশবাবুকে [D] সব্যসাচীকে
উত্তর: [B] অপূর্বকে


১২. "অথচ, গভর্নমেন্টের কত টাকাই না এরা বুনো হাঁসের পিছনে ছুটোছুটি করে অপব্যয় করলে!”— 'বুনো হাঁসের পিছনে ছুটোছুটি' বলতে বোঝানো হয়েছে—

[A] অপ্রাপ্য বস্তুর চাহিদা [B] হাতির পিছনে ছোটা [C] চোরা শিকারীদের পিছনে ছোটা [D] অসম্ভব কল্পনা করে ছোটা
উত্তর: [A] অপ্রাপ্য বস্তুর চাহিদা


১৩. সুমুখের হলঘরের বাঙালিরা সকলেই—

[A] পূর্বব্রহ্মে তেলের খনির কারখানায় দারোয়ানের কাজ করছিল [B] পশ্চিমব্রহ্মে তেলের খনির কারখানায় চাপরাশির কাজ করছিল [C] উত্তরব্রহ্মে তেলের খনির কারখানায় মিস্ত্রির কাজ করছিল [D] দক্ষিণব্রহ্মে তেলের খনির কারখানায় ম্যানেজারের কাজ করছিল
উত্তর: [C] উত্তরব্রহ্মে তেলের খনির কারখানায় মিস্ত্রির কাজ করছিল


১৪. "যাকে খুঁজছেন সে যে এ নয়, আমি তার জামিন হতে পারি।”— বক্তা হলেন—

[A] পবন সরকার [B] অপূর্ব রায় [C] জগদীশবাবু [D] সব্যসাচী মল্লিক
উত্তর: [B] অপূর্ব রায়


১৫. যার কৃপায় অপূর্বর টাকাকড়ি ছাড়া বাকি সবকিছু চুরি হওয়ার থেকে বেঁচে গিয়েছিল—

[A] ক্রিশ্চান মেয়েটির কৃপায় [B] রামদাসের স্ত্রীর কৃপায় [C] জগদীশবাবুর কৃপায় [D] গিরীশ মহাপাত্রের কৃপায়
উত্তর: [A] ক্রিশ্চান মেয়েটির কৃপায়


১৬. মহাপাত্রের ট্যাঁকে পাওয়া গিয়েছিল—

[A] পাঁচটি টাকা ও গন্ডা আটেক পয়সা [B] একটি টাকা ও গন্ডা ছয়েক পয়সা [C] তিনটি টাকা ও গণ্ডা সাতেক পয়সা [D] দুটি টাকা ও গন্ডা চারেক পয়সা
উত্তর: [B] একটি টাকা ও গন্ডা ছয়েক পয়সা


১৭. মহাপাত্রের বক্তব্য ছিল, "পরকে সেজে দি, নিজে খাইনে।”— জিনিসটি ছিল—

[A] তামাক [B] পান [C] গাঁজা [D] দোক্তা
উত্তর: [C] গাঁজা


১৮. পুলিশ স্টেশনে মোটঘাট নিয়ে বসে থাকা বাঙালির সংখ্যা ছিল—

[A] তিনজন [B] পাঁচজন [C] ছয়জন [D] দশজন
উত্তর: [C] ছয়জন


১৯. তেলের খনির কারখানার মিস্ত্রিরা চাকুরির উদ্দেশ্যে গিয়েছিল—

[A] ভুটানে [B] শ্রীলঙ্কায় [C] থাইল্যান্ডে [D] রেঙ্গুনে
উত্তর: [D] রেঙ্গুনে


মাধ্যমিক বাংলা: অন্যান্য সমস্ত অধ্যায়


২. অতিসংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্নোত্তর (মান – ১)

১. পলিটিক্যাল সাসপেক্ট ব্যক্তিটি তার কী নাম বলেছিল?

উত্তর: রেঙ্গুন পুলিশের বড়ো কর্তা নিমাইবাবু নাম জিজ্ঞাসা করায় পলিটিক্যাল সাসপেক্ট তার নাম বলেছিল গিরীশ মহাপাত্র।


২. পলিটিক্যাল সাসপেক্ট বলতে কী বোঝায়?

উত্তর: পলিটিক্যাল সাসপেক্ট বলতে বোঝায় রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে সন্দেহভাজন ব্যক্তি। শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত 'পথের দাবী' পাঠ্যাংশে বিপ্লবী সব্যসাচী মল্লিককে উক্ত অভিধায় ভূষিত করা হয়েছে।


৩. কাকে, কী সন্দেহে আটকে রাখা হয়েছিল?

উত্তর: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত 'পথের দাবী' গল্পাংশে রাজবিদ্রোহী সব্যসাচী মল্লিক সন্দেহে গিরীশ মহাপাত্রকে পুলিশ স্টেশনে আটকে রাখা হয়েছিল।


৪. "কিন্তু শখ ষোলো আনাই বজায় আছে।”— কোন্ প্রসঙ্গে কে এমন উক্তি করেছিলেন?

উত্তর: গিরীশ মহাপাত্রের রুগ্ন ভগ্ন শরীরের বিপরীতে তার বাহারি ও অদ্ভুত পোশাক-পরিচ্ছদের বহর দেখে রেঙ্গুন পুলিশের বড়োবাবু নিমাইবাবু প্রশ্নোদ্ভূত উক্তিটি করেছিলেন।


৫. সব্যসাচীর চোখের দৃষ্টি দেখে কী মনে হয়েছিল?

উত্তর: ছদ্মবেশী রাজদ্রোহী সব্যসাচী পোশাকের আড়ালে নিজেকে ঢাকলেও তাঁর বুদ্ধিদীপ্ত জলাশয়ের মতো অতল গভীর চোখ দুটি দেখে মনে হচ্ছিল যে, এর সঙ্গে কোনো খেলা বা চাতুরী না করে সসম্ভ্রমে দূরে সরে দাঁড়ানোই শ্রেয়; এই চোখের গভীরে এমন এক প্রাণশক্তি লুকোনো ছিল যেখানে মৃত্যুও প্রবেশ করতে ভয় পায়।


৬. "সে যে বর্মায় এসেছে এখবর সত্য।"— 'সে' বলতে এখানে কার কথা বলা হয়েছে?

উত্তর: 'সে' বলতে এখানে ভারতের বিশিষ্ট রাজবিদ্রোহী বিপ্লবী সব্যসাচী মল্লিকের কথা বলা হয়েছে।


৭. ভামো নগরের উদ্দেশ্যে কে কাদের সঙ্গে রওনা হল?

উত্তর: অপূর্ব ভামো নগরের উদ্দেশ্যে বিকেলবেলার ট্রেনে তার আরদালি এবং অফিসের একজন হিন্দুস্থানী ব্রাহ্মণ পেয়াদার সঙ্গে রওনা হল।


৮. "তুমি তো ইউরোপিয়ান নও।"— উক্তিটির বক্তা কে?

উত্তর: প্রশ্নোদ্ভূত উক্তিটির বক্তা হলেন বর্মার রেলওয়ে পুলিশের একজন ইউরোপিয়ান সাব-ইন্সপেক্টর।


৯. "এই সেই গিরীশ মহাপাত্র"— 'এই সেই' বলার অন্তর্নিহিত কারণ কী?

উত্তর: অপূর্বর মুখে গিরীশ মহাপাত্রের পোশাক ও অদ্ভুত চেহারার পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ শুনে রামদাস তলওয়ারকর রেলওয়ে স্টেশনে তাকে দেখামাত্র এক নিমেষেই চিনে ফেলতে পেরেছিল, সে কারণেই সে এমন মন্তব্য করেছিল।


১০. "তিনি ঢের বেশি আমার আপনার"— কোন্ প্রসঙ্গে এমন উক্তিটি করা হয়েছে?

উত্তর: দেশমাতৃকার সেবায় আত্মনিবেদনকারী বিপ্লবী সব্যসাচী মল্লিক ইংরেজ সরকারের পুলিশ নিমাইবাবুর (যিনি অপূর্বর আত্মীয় ও শুভাকাঙ্ক্ষী) চেয়েও অপূর্বর কাছে অনেক বেশি শ্রদ্ধেয় ও আপনজন— এই অনুভূতি প্রকাশ করতেই অপূর্ব এমন উক্তি করেছিল।


১১. গিরীশ মহাপাত্রের পকেট থেকে কী কী পাওয়া গিয়েছিল?

উত্তর: গিরীশ মহাপাত্রের পকেট থেকে একটি লোহার কম্পাস, একটি কাঠের ফুটরুল, কয়েকটি বিড়ি, একটি দেশলাই ও একটি গাঁজা সেবনের কলকে পাওয়া গিয়েছিল।


১২. "তার লাঞ্ছনা এই কালো চামড়ার নীচে কম জ্বলে না।"— বক্তা কোন্ লাঞ্ছনার কথা বলেছিল?

উত্তর: ফিরিঙ্গি ছোঁড়াদের অন্যায় দুর্ব্যবহারের প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে স্টেশনমাস্টার কর্তৃক দেশি লোক হওয়ার অপরাধে প্ল্যাটফর্ম থেকে লাথি মেরে বিতাড়িত হওয়ার অপমানের কথা বক্তা অপূর্ব বলেছিল।


মাধ্যমিক বাংলা: অন্যান্য সমস্ত অধ্যায়


১৩. কোন ঘটনা পরাধীন ভারতবর্ষে প্রায় নিত্য ঘটনায় পরিণত হয়েছিল?

উত্তর: পরাধীন ভারতবর্ষে স্বদেশে সাধারণ ভারতবাসীদের বিদেশি ইংরেজ ও ফিরিঙ্গিদের হাতে অহেতুক অপমান, লাঞ্ছনা ও অত্যাচারের শিকার হওয়ার ঘটনা প্রায় নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছিল।


১৪. "বড়োবাবু হাসিতে লাগিলেন।"— বড়োবাবুর হাসির কারণ কী?

উত্তর: গিরীশ মহাপাত্রের অদ্ভুত বেশভূষা, বোকাটে আচরণ এবং মাথায় মাখা উৎকট লেবুর তেলের গন্ধে থানার সকলের মাথা ধরার উপক্রম হলে জগদীশবাবু বিরক্তি প্রকাশ করায় বড়োবাবু নিমাইবাবু হাসতে লাগলেন।


১৫. তেলের খনির কারখানার মিস্ত্রিরা কেন রেঙ্গুনে চলে এসেছিল?

উত্তর: উত্তর ব্রহ্মে বর্মা অয়েল কোম্পানির তেলের খনির অস্বাস্থ্যকর জল-হাওয়া তাদের সহ্য না হওয়ায়, তারা নতুন কাজের সন্ধানে রেঙ্গুনে চলে এসেছিল।


৩. সংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্নোত্তর (মান – ৩)

১. "জগদীশবাবু ইতিমধ্যেই তাদের টিনের তোরঙ্গ, ছোটো বাক্স, পুঁটুলি তুলিয়া তদারক শুরু করে দিয়েছেন।"— 'তাহাদের' বলতে কাদের কথা বলা হয়েছে? তাদের জিনিসপত্র তদারকের কারণ কী?

তেলের খনির মিস্ত্রি: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'পথের দাবী' রচনায় 'তাদের' বলতে উত্তর ব্রহ্মের তেলের খনির কারখানায় কর্মরত ছয়জন বাঙালি মিস্ত্রির কথা বলা হয়েছে, যারা সেখানকার জল-হাওয়া সহ্য না হওয়ায় রেঙ্গুনে কাজের সন্ধানে এসেছিল।

তদারকের কারণ: পুলিশের কাছে গোপন সূত্রে খবর ছিল যে ভারতের বিপজ্জনক বিপ্লবী সব্যসাচী মল্লিক বর্মায় প্রবেশ করেছেন। সেই সন্দেহের বশেই বর্মা পুলিশের কর্তারা জাহাজ থেকে নামা প্রতিটি বাঙালি যাত্রীর ব্যাগ ও তল্পিতল্পা কঠোরভাবে তল্লাশি করছিলেন।।



২. গিরীশ মহাপাত্রের চেহারার বর্ণনা দাও।

চেহারার বর্ণনা: গিরীশ মহাপাত্রের বয়স আনুমানিক ত্রিশ-বত্রিশ বছর, কিন্তু অতিরিক্ত রোগা চেহারার জন্য তাঁকে আরও দুর্বল ও জীর্ণ দেখাচ্ছিল। তাঁর গায়ের রং ফর্সা হলেও রোদে পুড়ে তামাটে হয়ে গিয়েছিল। তিনি অনবরত কাশছিলেন এবং কাশির পরিশ্রমে হাঁপিয়ে পড়ছিলেন। কিন্তু তাঁর শীর্ণ রুগ্ন দেহের মধ্যেও সবচেয়ে লক্ষণীয় ছিল তাঁর গভীর ও উজ্জ্বল দুটি চোখ, যার গভীরে এক অদ্ভুত অপরাজিত প্রাণশক্তি সুপ্ত ছিল।।



৩. "বাবুটির স্বাস্থ্য গেছে কিন্তু শখ ষোলো আনাই বজায় আছে।”—বাবুটির শখ কেমন?

বাবুটির শখ: গিরীশ মহাপাত্রের অদ্ভুত ও বাহারি পোশাক-পরিচ্ছদই ছিল তাঁর শখের পরিচয়। তিনি পরেছিলেন জাপানি সিল্কের রামধনু রঙের পাঞ্জাবি, যার বুকপকেটে বাঘ আঁকা রুমাল গোঁজা ছিল। পরনে বিলাতি মিলের কালো মখমল পাড়ের সূক্ষ্ম শাড়ি, পায়ে সবুজ রঙের ফুল মোজা যা হাঁটুর ওপরে লাল ফিতে দিয়ে বাঁধা ছিল। এছাড়া পায়ে চকচকে পাম্প-শু এবং হাতে ছিল হরিণের শিঙের হাতল দেওয়া একগাছা বেতের ছড়ি। মাথায় ছিল চেরা সিঁথি ও লেবুর তেলের গন্ধ। জাহাজের ধকলে পোশাক নোংরা হলেও তাঁর সাজপোশাকের বাহার সবাইকে তাজ্জব করেছিল।



৪. "কীরূপ সদাশয় ব্যক্তি ইনি"— সদাশয় ব্যক্তি কাকে কেন বলা হয়েছে?

সদাশয় ব্যক্তি বলার কারণ: পুলিশ স্টেশনে তল্লাশির সময় গিরীশ মহাপাত্রের পকেট থেকে একটি গাঁজার কলকে পাওয়া যায়। নিমাইবাবু জিজ্ঞাসা করলে গিরীশ অত্যন্ত নিরীহ মুখে জানায় যে সে নিজে গাঁজা খায় না, ওটি রাস্তায় কুড়িয়ে পেয়েছে। যদি কোনো গাঁজাখোর মানুষের উপকারে লাগে, সেই ভেবে সেটিকে পরম যত্নে নিজের কাছে রেখে দিয়েছে। তার এই অদ্ভুত ও হাস্যকর 'পরোপকারী' যুক্তি শুনে নিমাইবাবু কৌতুকভরে তাকে 'সদাশয় ব্যক্তি' বলে কটাক্ষ করেছিলেন।



মাধ্যমিক বাংলা: অন্যান্য সমস্ত অধ্যায়


৫. অপূর্বর ঘরে চুরি হওয়ার ঘটনাটি বর্ণনা কর।

চুরির ঘটনা: অপূর্ব যখন বাড়িতে ছিল না, তখন চোর এসে তার ঘরের সমস্ত কিছু লুট করে নিয়ে যায়। চোরেরা সমস্ত নগদ টাকাকড়ি নিয়ে চম্পট দেয়। তবে উপরতলার এক খ্রিস্টান মেয়ের তৎপরতায় জামাকাপড় ও অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্র বেঁচে যায়। সেই মেয়েটি সাহসিকতার সঙ্গে চোর তাড়িয়ে অপূর্বর জিনিসপত্র গুছিয়ে দেয় এবং কী কী খোয়া গেছে তার একটি তালিকাও তৈরি করে দিয়েছিল।



৬. 'বুনো হাঁস ধরা এদের কাজ'— একথা কে বলেছিলেন? একথা বলার কারণ কী?

বক্তা ও কারণ: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'পথের দাবী' রচনাংশে মন্তব্যটি করেছিলেন অপূর্বর সহকর্মী রামদাস তলওয়ারকর।

অপূর্ব যখন জানায় যে পুলিশ গিরীশ মহাপাত্র রূপী বিপ্লবী সব্যসাচী মল্লিককে হাতের নাগালে পেয়েও কেবলমাত্র বোকাটে পোশাক দেখে তাকে ছেড়ে দিয়েছে এবং অপূর্বর ঘরে হওয়া চুরির কিনারাও করতে পারেনি, তখন পুলিশের অযোগ্যতা ও ভিত্তিহীন সন্দেহের পেছনে অযথা দৌড়াদৌড়ি করার প্রবণতাকে ব্যঙ্গ করেই রামদাস কৌতুকভরে এই মন্তব্যটি করেছিল।।



৪. রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর (মান – ৫)

১. 'পথের দাবী' রচনায় অপূর্ব চরিত্রটি সংক্ষেপে আলোচনা কর।

ভূমিকা: অমর কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত কালজয়ী রাজনৈতিক উপন্যাস 'পথের দাবী'-র অন্যতম প্রধান চরিত্র হলেন অপূর্ব। তিনি ছিলেন স্বাদেশিক অনুভূতিতে উদ্বুদ্ধ এক সাধারণ চাকরিজীবী যুবক।

বিপ্লবীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা: অপূর্ব নিশ্চিত ছিল যে গিরীশ মহাপাত্র আসলে রাজবিদ্রোহী সব্যসাচী মল্লিক। স্বদেশপ্রেম ও আত্মত্যাগের জন্য সব্যসাচীর প্রতি অপূর্বর মনে ছিল এক অনাবিল ও গভীর শ্রদ্ধা। পুলিশ স্টেশনে সব্যসাচীর নির্বিঘ্ন মুক্তি সে অন্তরের সঙ্গে কামনা করেছিল।

দেশপ্রেম ও আত্মমর্যাদাবোধ: আত্মীয় ও স্বদেশীয় নিমাইবাবু ইংরেজ সরকারের অধীনে কাজ করলেও অপূর্ব কিন্তু বিপ্লবীর পক্ষ নিয়েছিল। সে স্পষ্ট জানিয়েছিল, দেশের জন্য সর্বস্ব ত্যাগকারী সব্যসাচী মল্লিক নিমাইবাবুর চেয়েও তার অনেক বেশি আপন।

লাঞ্ছনা ও প্রতিবাদের জ্বালা: রেলওয়ে প্ল্যাটফর্মে কোনো অপরাধ ছাড়াই শ্বেতাঙ্গ ফিরিঙ্গি ছোঁড়াদের লাথি খেয়ে স্টেশন থেকে বিতাড়িত হওয়ার অপমান অপূর্বর হৃদয়ে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি করেছিল। পরাধীন জাতির অপমান তার অন্তরে অনবরত জ্বলত।

মূল্যায়ন: পারিবারিক সংস্কার ও অমায়িক ব্যক্তিত্বের অধিকারী হয়েও অপূর্ব তাঁর অন্তর্নিহিত দেশপ্রেম এবং ন্যায়নিষ্ঠার জন্য সমগ্র কাহিনিতে পাঠকের সহমর্মিতা লাভ করেছে।



২. 'পথের দাবী' রচনায় নিমাইবাবুর চরিত্রটি ব্যাখ্যা কর।

ভূমিকা: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'পথের দাবী' উপন্যাসে পুলিশ সুপারিনটেনডেন্ট নিমাইবাবু এক দক্ষ অথচ দায়িত্ববান ব্রিটিশ ভারতীয় পুলিশ কর্মকর্তার প্রতিনিধি।

দায়িত্বশীল নেতৃত্ব ও কর্তব্যপরায়ণতা: ব্রিটিশ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্তা হিসেবে তিনি রাজবিদ্রোহী সব্যসাচী মল্লিককে গ্রেপ্তার করতে অত্যন্ত তৎপর ও সতর্ক ছিলেন। থানায় নিজের কর্মচারীদের ওপর তাঁর স্পষ্ট কর্তৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণ বজায় ছিল।

রসবোধ ও কৌতুকপ্রিয়তা: গিরীশ মহাপাত্রের জঘন্য স্বাস্থ্য ও বাহারি পোশাকের বৈপরীত্য দেখে নিমাইবাবু শুধু কৌতুকই অনুভব করেননি, বরং অপূর্বর দৃষ্টি আকর্ষণ করে উপভোগও করেছিলেন। তাঁর ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্যগুলিতে রসবোধের পরিচয় পাওয়া যায়।

মানবিকতা ও পরিমিতিবোধ: একজন কঠোর পুলিশ অফিসার হলেও নিমাইবাবুর মধ্যে কিছুটা মানবিক কোমলতা অবশিষ্ট ছিল। গিরীশের ভগ্ন স্বাস্থ্য দেখে তিনি তাকে গাঁজা খেতে নিষেধ করেছিলেন এবং অহেতুক অত্যাচার না করে মুক্ত করে দিয়েছিলেন।।

মূল্যায়ন: নিমাইবাবু ব্রিটিশ শাসনের তল্পিবাহক পুলিশ হলেও তাঁর ব্যবহারিক বিচক্ষণতা, কৌতুকপ্রবণতা ও আত্মীয়বাৎসল্য চরিত্রটিকে এক পৃথক স্বাতন্ত্র্য দান করেছে।



৩. 'পথের দাবী' রচনায় গিরীশ মহাপাত্রের চরিত্রটি সংক্ষেপে লেখ।

ভূমিকা: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'পথের দাবী' উপন্যাসে গিরীশ মহাপাত্র আসলে কোনো সাধারণ ব্যক্তি নন, তিনি বিপ্লবী নায়ক ডাক্তার সব্যসাচী মল্লিকের এক অনন্য ও অবিশ্বাস্য ছদ্মবেশ।

ছদ্মবেশ ধারণের অবিশ্বাস্য কুশলতা: ইংরেজ পুলিশের হাত থেকে নিজেকে বাঁচাতে তিনি এমন এক নির্বোধ, রুগ্ন ও গাঁজাখোর সাজ গ্রহণ করেছিলেন যা দেখে জাত পুলিশ নিমাইবাবুও বিভ্রান্ত হয়েছিলেন। সিল্কের রঙিন জামা, সূক্ষ্ম শাড়ি, ফুল মোজা ও কাশির অভিনয় করে তিনি নিজের পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখতে সক্ষম হন।।

বুদ্ধিমত্তা ও উপস্থিত বুদ্ধি: পকেট থেকে গাঁজার কলকে বেরোনো সত্ত্বেও তিনি অত্যন্ত সুকৌশলে নিজেকে পরোপকারী সাজিয়ে পুলিশকে নিরুত্তর করে দেন। তাঁর নির্বিকার অভিনয় ছিল তাঁর অসামান্য উপস্থিত বুদ্ধির পরিচায়ক।।

অন্তরালের অপরাজেয় সত্তা: আপাতদৃষ্টিতে জীর্ণ ও কাশরোগে আক্রান্ত হলেও তাঁর চোখের গভীরে যে প্রদীপ্ত ও মৃত্যুঞ্জয়ী জ্যোতি জ্বলছিল, তা এক মহান সর্বত্যাগী দেশপ্রেমিক বিপ্লবীর পরিচয়কে স্পষ্ট করে তোলে।

মূল্যায়ন: গিরীশ মহাপাত্রের হাস্যকর বহিরঙ্গের নিচে লুকিয়ে থাকা বিপ্লবী সব্যসাচী মল্লিক বাংলা সাহিত্যের এক অবিস্মরণীয় ও রোমাঞ্চকর চরিত্র।