Madhyamik Bengali Suggestion 2027 (Wbbse Class 10)(নদীর বিদ্রোহ)

Madhyamik Bengali Suggestion 2027 (WBBSE Class 10)

পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের (WBBSE) ২০২৭ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের জন্য বাংলা প্রথম ভাষার সম্ভাব্য এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নাবলির সম্পূর্ণ তালিকা নিচে দেওয়া হলো। পাঠ্যবই খুঁটিয়ে পড়ার পাশাপাশি এই নির্বাচিত প্রশ্নগুলি প্রস্তুত করলে পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বর তোলা সহজ হবে।

Bengali Suggestion Banner

মাধ্যমিক বাংলা সাজেশন ২০২৭: সম্পূর্ণ অধ্যায়ভিত্তিক প্রস্তুতি নির্দেশিকা

পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের (WBBSE 2027) মাধ্যমিক পরীক্ষায় বাংলা একটি অন্যতম প্রধান ও বেশি নম্বর তোলার মতো বিষয়। সঠিক পরিকল্পনা, প্রশ্নকাঠামো বোঝা এবং বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলো নিয়মিত অনুশীলন করলে বাংলায় ৯০ শতাংশের বেশি নম্বর পাওয়া কঠিন নয়। নিচে পাঠ্যক্রমের প্রতিটি বিভাগ থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও প্রস্তুতির বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হলো।

সেরা প্রস্তুতি কৌশল: মাধ্যমিক বাংলা পরীক্ষায় ভালো নম্বরের জন্য সেরা প্রস্তুতি নির্দেশিকা। গল্প, কবিতা, নাটক, ব্যাকরণ ও প্রবন্ধ রচনার গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এবং নম্বর তোলার সহজ কৌশল জানুন এখানে।

নদীর বিদ্রোহ, বহুরূপী, পথের দাবী, আফ্রিকা, কোনি এবং প্রবন্ধ ও ব্যাকরণের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নাবলি বিশেষভাবে প্রস্তুত রাখুন।


ট্যাগ / কি-ওয়ার্ডস: WBBSE Class 10 Bengali suggestion 2027, মাধ্যমিক বাংলা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, Madhyamik Bengali question paper, নদীর বিদ্রোহ গল্প সাজেশন

নদীর বিদ্রোহ — মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়

১. বহু বিকল্পভিত্তিক প্রশ্নোত্তর [MCQ] (মান – ১)

১. চোখের পলকে অদৃশ্য হয়ে গেল—

[A] বইখানা [B] খাতাখানি [C] পত্রিকাটি [D] চিঠিখানা
উত্তর: [D] চিঠিখানা


২. নদীর চাঞ্চল্য ছিল ________ প্রকাশ। (শূন্যস্থান পূরণ করো)

[A] উন্মত্ততার [B] বর্ষণ-পুষ্ট মূর্তির [C] নূতন সঞ্চিত শক্তির [D] পরিপূর্ণতার আনন্দ
উত্তর: [D] পরিপূর্ণতার আনন্দ


৩. "জলপ্রবাহকে আজ তাহার জীবন্ত মনে হইতেছিল"— কারণ—

[A] বিরহ বেদনার জন্য [B] প্রবল বর্ষণের জন্য [C] উন্মত্ততার জন্য [D] ভয়ংকরতার জন্য
উত্তর: [C] উন্মত্ততার জন্য


৪. নদের চাঁদ এতকাল যার জন্য গর্ব অনুভব করেছে সেটি হল—

[A] নতুন রং করা ব্রিজটি [B] রেললাইন [C] স্টেশনটি [D] নদী
উত্তর: [A] নতুন রং করা ব্রিজটি


৫. নদীর স্রোত ব্রিজের এই দিকে ধারকস্তম্ভগুলিতে বাধা পাইয়া ________ (শূন্যস্থান পূরণ করো)।

[A] ছুটিয়া চলিয়াছে [B] পাগল হইতেছে [C] বাঘবন্দি খেলিতেছে [D] ফেনিল আবর্ত রচনা করিতেছে
উত্তর: [D] ফেনিল আবর্ত রচনা করিতেছে


৬. স্ত্রীকে লেখা নদের চাঁদের চিঠির পৃষ্ঠা সংখ্যা ছিল—

[A] দু পৃষ্ঠা [B] তিন পৃষ্ঠা [C] চার পৃষ্ঠা [D] পাঁচ পৃষ্ঠা
উত্তর: [D] পাঁচ পৃষ্ঠা


৭. নদের চাঁদ প্রতিদিন কোথায় বসে নদীকে দেখে?

[A] নৌকোতে বসে [B] ব্রিজের ওপর বসে [C] ধারক স্তম্ভের শেষ প্রান্তে বসে [D] নদীর তীরে বসে
উত্তর: [C] ধারক স্তম্ভের শেষ প্রান্তে বসে


৮. নদের চাঁদের মৃত্যু হয়েছিল—

[A] বাসের ধাক্কায় [B] লরির ধাক্কায় [C] ট্রামের ধাক্কায় [D] ট্রেনের ধাক্কায়
উত্তর: [D] ট্রেনের ধাক্কায়


৯. নদের চাঁদ স্টেশন মাস্টারি করেছিল—

[A] চার বছর [B] তিন বছর [C] দশ বছর [D] পাঁচ বছর
উত্তর: [A] চার বছর


১০. কোন্ আকস্মিক আঘাত নদের চাঁদের চেতনাকে দিশাহারা করে দিয়েছিল?

[A] প্রবল বৃষ্টির ঝাপটা [B] ব্রিজ ভাঙার শব্দ [C] ট্রেন চলে যাওয়ার শব্দ [D] বাতাসের প্রবল শব্দ
উত্তর: [B] ব্রিজ ভাঙার শব্দ (বিকল্প অনুযায়ী চিহ্নিত)


১১. "কিন্তু শৈশবে, কৈশোরে আর প্রথম যৌবনে বড়ো ছোটোর হিসেব আর কে করে?"— উক্তিটি যার সম্বন্ধে করা হয়েছে—

[A] নদের চাঁদের দেশের নদীটির সম্বন্ধে [B] নদের চাঁদ সম্বন্ধে [C] নদের চাঁদের সহকারীর সম্বন্ধে [D] যেখানে নদের চাঁদ কাজ করত সেখানকার নদীটির সম্বন্ধে
উত্তর: [A] নদের চাঁদের দেশের নদীটির সম্বন্ধে


১২. নদের চাঁদের বয়স—

[A] ত্রিশ বছর [B] পঁচিশ বছর [C] পঁয়ত্রিশ বছর [D] কুড়ি বছর
উত্তর: [A] ত্রিশ বছর


১৩. "...এতকাল নদের চাঁদ গর্ব অনুভব করিয়াছে”— কীসের জন্য এই গর্ব অনুভব?

[A] নতুন রং করা ব্রিজটির জন্য [B] নিজের পেশার জন্য [C] শৈশবের ক্ষীণস্রোতা নদীটির জন্য [D] নদীর প্রতি তার ভালোবাসার জন্য
উত্তর: [A] নতুন রং করা ব্রিজটির জন্য


১৪. "নদের চাঁদ ________ ডাকিয়া বলিল।” (শূন্যস্থান পূরণ করো)

[A] বন্ধুকে [B] নতুন সহকারীকে [C] পুরাতন ভৃত্যকে [D] পুরাতন সহকারীকে
উত্তর: [B] নতুন সহকারীকে


১৫. দেশের সেই ক্ষীণস্রোতা নির্জীব নদীটি—

[A] আত্মীয়ার মতোই তার মমতা পেয়েছিল [B] অনাত্মীয়ার মতোই তার দুর্ব্যবহার পেয়েছিল [C] সকলের আদর পেয়েছিল [D] সকলের অনাদর পেয়েছিল
উত্তর: [A] আত্মীয়ার মতোই তার মমতা পেয়েছিল


মাধ্যমিক বাংলা: অন্যান্য সমস্ত অধ্যায়


২. অতিসংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্নোত্তর (মান – ১)

১. পাঁচদিন পর নদীকে দেখে নদের চাঁদ কেন স্তম্ভিত হয়েছিল?

উত্তর: পাঁচদিন ধরে অবিরাম ধারায় বৃষ্টির জল পেয়ে নদী যেন উন্মত্ত ও ভয়ংকর হয়ে উঠেছিল এবং বাঁধ ভেঙে বেরিয়ে আসতে চাইছিল; নদীর এই প্রলয়ংকর রূপ দেখেই নদেরচাঁদ স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিল।


২. 'যেন আনন্দই উপভোগ করে।'— কে কীসে আনন্দ উপভোগ করে?

উত্তর: তিরিশ বছর বয়সে একটি স্টেশনে স্টেশনমাস্টারের মতো দায়িত্বপূর্ণ পদে থেকেও নদীর জন্য নদেরচাঁদের যে পাগলামি তাকে মানায় না তা জেনেও, নিজের এই অদ্ভুত ভালোবাসায় সে আনন্দই উপভোগ করে।


৩. নদেরচাঁদের দেশের নদীটি কীরকম ছিল?

উত্তর: নদেরচাঁদের দেশের নদীটি ছিল অত্যন্ত ক্ষীণস্রোতা ও নির্জীব।


৪. জলপ্রবাহকে দেখে সেদিন নদেরচাঁদের জীবন্ত মনে হয়েছিল কেন?

উত্তর: বর্ষার জলে পুষ্ট নদীর উত্তাল ও ক্ষিপ্ত উন্মত্ততার জন্যই নদীর জলপ্রবাহকে দেখে নদেরচাঁদের জীবন্ত মনে হয়েছিল।


৫. কীভাবে নদেরচাঁদের মৃত্যু হয়েছিল?

উত্তর: বৃষ্টির রাতে অন্ধকারে অন্যমনস্কভাবে রেললাইন ধরে স্টেশনের দিকে ফেরার সময় ৭ নম্বর ডাউন প্যাসেঞ্জার ট্রেনের চাকায় পিষ্ট হয়ে নদেরচাঁদের মৃত্যু হয়েছিল।


৬. নদেরচাঁদ কেন ভয় পেয়েছিল?

উত্তর: প্রবল বর্ষায় রোষে ও ক্ষোভে উন্মত্ত নদী যেভাবে ফুলেফেঁপে উঠছিল এবং নদেরচাঁদ তার থেকে মাত্র এক হাত উঁচুতে বসেছিল, তাতে যেকোনো মুহূর্তে বাঁধ বা ব্রিজ ভেঙে বড় বিপদ ঘটতে পারে ভেবে সে ভয় পেয়েছিল।


৭. কোথায় বসে নদের চাঁদ প্রতিদিন নদীকে দেখে?

উত্তর: নদেরচাঁদ ব্রিজের মাঝামাঝি ইট, সুরকি আর সিমেন্ট দিয়ে তৈরি ধারকস্তম্ভের শেষপ্রান্তে বসে প্রতিদিন নদীকে দেখত।


৮. স্টেশনমাস্টারি করতে এসে পরিচিত হওয়া নদী আর নদের চাঁদের দেশের নদীর মধ্যে তফাৎ কী ছিল?

উত্তর: কর্মস্থলে পরিচিত হওয়া নদীটি ছিল প্রশস্ত, গভীর ও জলে পরিপূর্ণ; আর নদেরচাঁদের দেশের নদীটি ছিল শীর্ণকায়া, ক্ষীণস্রোতা ও নির্জীব।


৩. সংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্নোত্তর (মান – ৩)

১. "চার বছরের চেনা এই নদীর মূর্তিকে তাই যেন আরও বেশি ভয়ংকর আরও বেশি অপরিচিত মনে হইল"— কেন নদের চাঁদের কাছে নদীর মূর্তি অপরিচিত হল?

নদীর অপরিচিত মূর্তি: মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'নদীর বিদ্রোহ' গল্পে নদেরচাঁদ চার বছর ধরে কর্মস্থলের নদীটিকে দেখে আসছে। কিন্তু টানা পাঁচদিনের অবিরাম বর্ষণের পর সে যখন ব্রিজের কাছে গেল, তখন দেখল শান্ত নদী এক উন্মত্ত রূপ ধারণ করেছে। নদীর গাঢ় পঙ্কিল জল ফেনিল আবর্ত রচনা করে গর্জন করতে করতে ছুটে চলেছে এবং মানুষের তৈরি ব্রিজ ও বাঁধ ভেঙে ফেলার জন্য আছড়ে পড়ছে। নদীর এই ভয়াল ও রুদ্ররূপ সে আগে কখনো দেখেনি বলেই তার কাছে নদীকে সম্পূর্ণ অপরিচিত মনে হয়েছিল।



মাধ্যমিক বাংলা: অন্যান্য সমস্ত অধ্যায়


২. "নদীর বিদ্রোহের কারণ সে বুঝিতে পারিয়াছে"— কে কীভাবে নদীর বিদ্রোহের কারণ বুঝতে পারল?

নদেরচাঁদের অনুভূতি: পাঁচদিন একটানা বৃষ্টির পর ব্রিজের ওপর দাঁড়িয়ে নদেরচাঁদ নদীর উন্মত্ত রূপ প্রত্যক্ষ করে। মানুষের তৈরি কংক্রিটের সেতু এবং উঁচু রেলের বাঁধ দিয়ে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহকে শৃঙ্খলিত করা হয়েছে। বর্ষার বিপুল জলরাশি নিয়ে নদী যেন সেই দাসত্ব ও বন্দিদশার বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছে এবং বাঁধ ভেঙে নিজের চিরন্তন স্বাধীন রূপ ফিরে পেতে চাইছে। নদীর এই দুর্বার আক্রোশ দেখেই নদেরচাঁদ তার বিদ্রোহের কারণ স্পষ্টভাবে বুঝতে পেরেছিল।



৩. "নদীর ধারে তার জন্ম হইয়াছে"— কার কথা বলা হয়েছে? একথা বলার কারণ কী?

নদেরচাঁদ: মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'নদীর বিদ্রোহ' গল্পে প্রধান চরিত্র নদেরচাঁদের কথা বলা হয়েছে।

কারণ: নদেরচাঁদের নদীর প্রতি টান কেবল সাধারণ ভালোলাগা ছিল না, তা ছিল এক অকৃত্রিম আজন্ম গভীর সখ্য। নদীর তীরেই তার জন্ম, নদীর কোলেই তার শৈশব, কৈশোর ও প্রথম যৌবন কেটেছে। নদী ছিল তার সত্তার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত; তাই প্রাপ্তবয়স্ক হয়েও নদীর প্রতি তার এই পাগলামি ও অদম্য টান চিরকাল অটুট ছিল।



৪. "আজ তার মনে হইল কী প্রয়োজন ছিল ব্রিজের"— বক্তার এমন মনে হওয়ার কারণ কী?

মনে হওয়ার কারণ: যন্ত্রসভ্যতার প্রতিনিধি মানুষ নিজের স্বার্থ ও যাতায়াতের সুবিধার জন্য প্রকৃতির বুকে নির্মমভাবে হস্তক্ষেপ করে। নদীর বুকে কংক্রিটের পিলার ও বাঁধ তৈরি করে তার গতিকে রুদ্ধ করা হয়েছে। নদেরচাঁদ উপলব্ধি করে যে মানুষের তৈরি এই কৃত্রিম ব্রিজের বাঁধনেই আজ বন্দি হয়ে ক্ষোভে ফুঁসছে নদী। যন্ত্রের যান্ত্রিক সুবিধার চেয়ে প্রকৃতির অবাধ মুক্তির মূল্য যে অনেক বেশি, এই উপলব্ধির কারণেই নদেরচাঁদের মনে ব্রিজের উপযোগিতা নিয়ে প্রশ্ন জেগেছিল।



৫. নদেরচাঁদ নদীর সঙ্গে যে খেলায় মেতে উঠেছিল সেই খেলাটি কেমন ছিল?

নদীর সঙ্গে খেলা: ব্রিজের স্তম্ভের শেষপ্রান্তে বসে নদেরচাঁদ যখন দেখল জল ফেনিল আবর্তে ঘুরপাক খাচ্ছে, তখন সে পকেট থেকে তার স্ত্রীর উদ্দেশ্যে লেখা অনেকদিনের পুরনো একটি বিরহপূর্ণ চিঠি বের করে। পাঁচ পাতার সেই চিঠির এক একটি পাতা ছিঁড়ে দুমড়ে-মুচড়ে সে ঘূর্ণায়মান নদীর জলে ফেলতে থাকে। নদীর স্রোত চোখের পলকে সেই কাগজগুলিকে অতলে টেনে নিচ্ছিল। শৈশবের মতো নদীর সঙ্গে এই অদ্ভুত ও আত্মভোলা খেলায় মেতে উঠেছিল নদেরচাঁদ।



৬. "জলপ্রবাহকে আজ তার জীবন্ত মনে হইতেছিল"— অংশটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।

তাৎপর্য: বর্ষার উন্মত্ত নদী আর কোনো সাধারণ জলধারা ছিল না, তার প্রতিটি তরঙ্গে ধ্বনিত হচ্ছিল এক জীবন্ত প্রাণের আক্রোশ ও গর্জন। নদেরচাঁদ যে চিঠি নদীর জলে ফেলছিল, নদী যেন পরম কৌতূহলে সেই চিঠি লুকিয়ে ফেলে তার খেলার সাথী হয়ে উঠেছিল। নদীর এই ক্ষোভ, উন্মাদনা এবং মানুষের তৈরি বাধার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর চেষ্টার মধ্যে নদেরচাঁদ এক সচেতন প্রাণের স্পন্দন অনুভব করেছিল।



৭. "চিঠি পকেটেই ছিল"— কোন চিঠির কথা বলা হয়েছে? সেই চিঠির কী পরিণতি হয়েছিল?

চিঠির পরিচয় ও পরিণতি: দূর কর্মস্থলে একা থাকার কারণে নদেরচাঁদ তার গ্রামের বাড়িতে থাকা প্রিয়তমা স্ত্রীর বিরহে কাতর হয়ে পাঁচ দিন ধরে পাঁচ পাতার একটি দীর্ঘ আবেগপূর্ণ চিঠি লিখেছিল। সেই চিঠিটিই তার পকেটে ছিল। ব্রিজের ওপর বসে নদীর উন্মত্ত স্রোতের রূপ দেখে মোহাচ্ছন্ন নদেরচাঁদ সেই চিঠির প্রতিটি পাতা ছিঁড়ে ছিঁড়ে নদীর জলের বুকে ভাসিয়ে দিয়েছিল, যা নিমেষেই জলের অতলে তলিয়ে যায়।



৪. রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর (মান – ৫)

১. 'নদীর বিদ্রোহ' গল্পে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় নদীর যে রূপ ফুটিয়ে তুলেছেন তা বর্ণনা করো।

ভূমিকা: কথাশিল্পী মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'নদীর বিদ্রোহ' গল্পে নদী কেবল একটি ভৌগোলিক জলপ্রবাহ নয়, তা মানবমনের গভীর অনুভূতি ও প্রকৃতির অবদমিত শক্তির প্রতীক। গল্পে দুটি নদীর উল্লেখ আছে— একটি নদেরচাঁদের দেশের ক্ষীণস্রোতা নদী, অন্যটি তার কর্মস্থলের খরস্রোতা নদী।

নদীর ভয়াল রূপ: টানা পাঁচদিনের অবিরাম বর্ষণের পর নদেরচাঁদ যখন ব্রিজের ওপর গিয়ে দাঁড়ায়, তখন নদীর এক ভয়ংকর ও রুদ্রমূর্তি দেখতে পায়। দুপাশের মাঠ-ঘাট ভাসিয়ে দিয়ে নদী তখন উন্মত্ত আক্রোশে উত্তাল হয়ে উঠেছে। তার ঘোলাটে পঙ্কিল জলরাশি তীব্র বেগে ছুটে এসে ট্রেনের ব্রিজের ধারকস্তম্ভে আছড়ে পড়ে ফেনিল ঘূর্ণি তৈরি করছিল। নদীর অতল থেকে উঠে আসছিল এক গম্ভীর অশ্রুতপূর্ব গর্জন।

বিদ্রোহের প্রতীক: মানুষের তৈরি সংকীর্ণ ব্রিজ ও বাঁধের শৃঙ্খল ভেঙে ফেলে নদী যেন আদিম মুক্তিতে ফিরে যেতে চাইছিল। নদীর এই রোষ ও ক্ষোভ দেখে নদেরচাঁদ শঙ্কিত হয়ে পড়ে। প্রকৃতির এই সংহারক রূপই মানবসভ্যতার যান্ত্রিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে নীরব বিদ্রোহ ঘোষণা করে।



২. "নদীর বিদ্রোহের কারণ সে বুঝিতে পারিয়াছে"— নদীর বিদ্রোহের কারণ কী ছিল? সে কীভাবে তা বুঝিতে পারিয়াছে?

বিদ্রোহের কারণ: যন্ত্রনির্ভর মানুষ নিজের ক্ষমতার দম্ভে এবং বৈষয়িক সুবিধার খাতিরে প্রকৃতির স্বাভাবিক গতিকে রুদ্ধ করেছে। নদীর বুকে সুবিশাল লোহার ব্রিজ ও উঁচু রেলের বাঁধ নির্মাণ করে নদীকে একটি কৃত্রিম খাঁচায় বন্দি করে ফেলা হয়েছে। বর্ষার বিপুল জলধারায় বলীয়ান হয়ে নদী মানুষের তৈরি এই শৃঙ্খলকে গুঁড়িয়ে দিয়ে নিজের চিরন্তন স্বাধীনতা ফিরে পেতে চেয়েছিল— এটাই ছিল নদীর বিদ্রোহের মূল কারণ।

নদেরচাঁদের উপলব্ধি: আজন্ম নদীর ধারে বড়ো হয়ে ওঠা নদেরচাঁদ ছিল অত্যন্ত সংবেদনশীল মনের অধিকারী। সে নদীর প্রতিটি ধ্বনি ও তরঙ্গের ভাষা বুঝত। ব্রিজের ধারকস্তম্ভে নদীর ক্ষিপ্ত জলের সশব্দ আঘাত এবং বাঁধের ওপর আছড়ে পড়ার আকুলতা দেখে সে অনুভব করেছিল যে, নদী দাসত্ব মানতে নারাজ। প্রকৃতির বুকে মানুষের এই অবিচারের বিরুদ্ধেই নদী গর্জে উঠেছে— সংবেদনশীল শিল্পীহৃদয় দিয়ে নদেরচাঁদ এই সত্য প্রত্যক্ষ করেছিল।



৩. 'নদীর বিদ্রোহ' গল্পে নদেরচাঁদের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে লেখক কোন ছবি অঙ্কন করেছেন?

যন্ত্র বনাম প্রকৃতির দ্বন্দ্ব: মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'নদীর বিদ্রোহ' গল্পে মূল সংঘাতটি গড়ে উঠেছে যান্ত্রিক সভ্যতা এবং চিরন্তন প্রকৃতির মধ্যে। নদেরচাঁদ একদিকে নদীর আজন্ম প্রেমিক, অন্যদিকে সে যন্ত্রসভ্যতার অধীনস্থ একজন স্টেশনমাস্টার।।

মৃত্যুর ট্র্যাজেডি ও তাৎপর্য: নদীর রুদ্রমূর্তি দেখে ভীত নদেরচাঁদ যখন অন্ধকারে অতি সাবধানে রেললাইন ধরে ফিরছিল, তখন পেছন থেকে আসা ৭ নম্বর ডাউন প্যাসেঞ্জার ট্রেন তাকে পিষে দিয়ে চলে যায়। যে যান্ত্রিক সভ্যতার ব্রিজ ও ট্রেনের জন্য নদেরচাঁদ এতকাল গর্ববোধ করেছিল, সেই যন্ত্রের নির্মম চাকায় পিষ্ট হয়েই তার করুণ মৃত্যু ঘটে।

চূড়ান্ত বার্তা: নদেরচাঁদ ছিল প্রকৃতির সন্তান, কিন্তু সে ছিল যন্ত্রের সেবায় নিয়োজিত। তার এই মর্মান্তিক পরিণতির মধ্য দিয়ে লেখক এক কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন— মানুষ যদি বিজ্ঞানের দম্ভে প্রকৃতিকে ধ্বংস ও শৃঙ্খলিত করতে চায়, তবে মানুষের তৈরি যন্ত্রই একদিন মানবসভ্যতার সর্বনাশা বিনাশ ডেকে আনবে।।