Madhyamik Bengali Suggestion 2027 (WBBSE Class 10)
পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের (WBBSE) ২০২৭ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের জন্য বাংলা প্রথম ভাষার সম্ভাব্য এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নাবলির সম্পূর্ণ তালিকা নিচে দেওয়া হলো। পাঠ্যবই খুঁটিয়ে পড়ার পাশাপাশি এই নির্বাচিত প্রশ্নগুলি প্রস্তুত করলে পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বর তোলা সহজ হবে।
মাধ্যমিক বাংলা সাজেশন ২০২৭: সম্পূর্ণ অধ্যায়ভিত্তিক প্রস্তুতি নির্দেশিকা
পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের (WBBSE 2027) মাধ্যমিক পরীক্ষায় বাংলা একটি অন্যতম প্রধান ও বেশি নম্বর তোলার মতো বিষয়। সঠিক পরিকল্পনা, প্রশ্নকাঠামো বোঝা এবং বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলো নিয়মিত অনুশীলন করলে বাংলায় ৯০ শতাংশের বেশি নম্বর পাওয়া কঠিন নয়। নিচে পাঠ্যক্রমের প্রতিটি বিভাগ থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও প্রস্তুতির বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হলো।
সেরা প্রস্তুতি কৌশল: মাধ্যমিক বাংলা পরীক্ষায় ভালো নম্বরের জন্য সেরা প্রস্তুতি নির্দেশিকা। গল্প, কবিতা, নাটক, ব্যাকরণ ও প্রবন্ধ রচনার গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এবং নম্বর তোলার সহজ কৌশল জানুন এখানে।
অভিষেক, বহুরূপী, আফ্রিকা, কোনি এবং ব্যাকরণ ও প্রবন্ধ রচনার গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নাবলি বিশেষভাবে প্রস্তুত রাখুন।
ট্যাগ / কি-ওয়ার্ডস:
WBBSE Class 10 Bengali suggestion 2027, মাধ্যমিক বাংলা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, Madhyamik Bengali question paper, অভিষেক কবিতা সাজেশন
অভিষেক — মাইকেল মধুসূদন দত্ত
১. মেঘনাদবধ কাব্য প্রথম প্রকাশিত হয়—
[A] ১৮৫১ খ্রিস্টাব্দে
[B] ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দে
[C] ১৮৬১ খ্রিস্টাব্দে
[D] ১৮৭১ খ্রিস্টাব্দে
উত্তর: [C] ১৮৬১ খ্রিস্টাব্দে
২. বাংলা ভাষায় অমিত্রাক্ষর ছন্দ-এর জনক হলেন—
[A] রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
[B] অক্ষয়কুমার বড়াল
[C] কবি শেখর কালিদাস রায়
[D] মাইকেল মধুসূদন দত্ত
উত্তর: [D] মাইকেল মধুসূদন দত্ত
৩. 'হৈমবতী সুত' বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে?
[A] ইন্দ্রজিৎকে
[B] বিভীষণকে
[C] কার্তিককে
[D] রাবণকে
উত্তর: [C] কার্তিককে
৪. "গিরিশৃঙ্গ কিংবা ________ যথা বজ্রাঘাতে।" [শূন্যস্থান পূরণ করো]
[A] লতা
[B] তরু
[C] বৃক্ষ
[D] মহাবৃক্ষ
উত্তর: [B] তরু
৫. "যাও তুমি ত্বরা করি;"— কোথায় যাওয়ার কথা বলা হয়েছে?
[A] কালসমরে
[B] প্রমীলা সকাশে
[C] পবন পথে
[D] গহন কাননে
উত্তর: [A] কালসমরে
৬. "________ সংহারিণু আমি রঘুবরে।” [শূন্যস্থান পূরণ করো]
[A] নিরাশ-রণে
[B] দিবা-রণে
[C] মধ্যাহ্ন-রণে
[D] অপরাহ্ন রণে
উত্তর: [A] নিরাশ-রণে
৭. "তার শোকে মহাশোকী রাক্ষসাধিপতি"— রাক্ষসাধিপতি রাবণ যার শোকে মূহ্যমান, তিনি হলেন—
[A] মন্দোদরী
[B] প্রমীলা
[C] বীরবাহু
[D] চিত্রাঙ্গদা
উত্তর: [C] বীরবাহু
৮. 'রক্ষঃচূড়ামণি'-শব্দের অর্থ—
[A] রাক্ষসকুলের সৈন্যমণি
[B] রাক্ষসকুলের রক্ষামণি
[C] রাক্ষসকুলের ক্ষেত্রমণি
[D] রাক্ষসকুলের শিরোমণি
উত্তর: [D] রাক্ষসকুলের শিরোমণি
৯. "এ বারতা, এ অদ্ভুত বারতা, জননী/কোথায় পাইলে তুমি, শীঘ্র কহ দাসে।”—এই বার্তাকে 'অদ্ভুত' বলার কারণ—
[A] বীরবাহু রামচন্দ্রের বিরুদ্ধে জয়লাভ করেছে—ইন্দ্রজিতের কাছে এমন খবর ছিল
[B] বীরবাহু বহু আগেই প্রাণ বিসর্জন দিয়েছেন
[C] বীরবাহুর মতো বীরের কীভাবে মৃত্যু হতে পারে সেটা ইন্দ্রজিতের কাছে ছিল অজানা
[D] ইন্দ্রজিৎ বুঝতে পারছেন না, মৃতব্যক্তি কীভাবে পুনর্জীবিত হতে পারেন
উত্তর: [D] ইন্দ্রজিৎ বুঝতে পারছেন না, মৃতব্যক্তি কীভাবে পুনর্জীবিত হতে পারেন
১০. 'কৌশিক-ধ্বজ' শব্দের অর্থ—
[A] সাদা পতাকা
[B] হলুদ পতাকা
[C] সবুজ পতাকা
[D] রেশমি পতাকা
উত্তর: [D] রেশমি পতাকা
১১. "দেখ অস্তাচলগামী দিননাথ এবে"— 'দিননাথ' হলেন—
[A] ইন্দ্রদেব
[B] বরুণদেব
[C] সূর্যদেব
[D] চন্দ্রদেব
উত্তর: [C] সূর্যদেব
১২. "যথাবিধি লয়ে গঙ্গোদক।” 'গঙ্গোদক' শব্দের অর্থ—
[A] যমুনানদীর জল
[B] পদ্মানদীর জল
[C] গঙ্গাজল
[D] গোদাবরীর জল
উত্তর: [C] গঙ্গাজল (বিকল্প অনুযায়ী গোদাবরীর জল চিহ্নিত)
১৩. "রুষিবেন দেব অগ্নি।" অগ্নিদেব রুষ্ট হবেন, যদি—
[A] সেনাপতি হিসেবে তাঁকে বরণ করার আগেই ইন্দ্রজিৎ যুদ্ধে নেমে পড়ে
[B] অসময়ে ইন্দ্রজিৎ যুদ্ধক্ষেত্রে প্রবেশ করে
[C] রামচন্দ্রকে ভয় পেয়ে রাবণ যুদ্ধে যান, আর মেঘনাদ নিশ্চেষ্ট থাকেন
[D] ইন্দ্রজিৎ নিকুম্ভিলা যজ্ঞ সম্পূর্ণ না করে যুদ্ধে যায়
উত্তর: [C] রামচন্দ্রকে ভয় পেয়ে রাবণ যুদ্ধে যান, আর মেঘনাদ নিশ্চেষ্ট থাকেন
১৪. "হায় দেহ তার, দেখ, সিন্ধু-তীরে ভূপতিত"— এখানে কার কথা বলা হয়েছে?
[A] বীরবাহু
[B] কুম্ভকর্ণ
[C] কপূরদল
[D] তুরাঙ্গম
উত্তর: [B] কুম্ভকর্ণ
১৫. "ছিঁড়িলা কুসুমদাম রোষে মহাবলী..."—কাকে 'মহাবলী' বলে সম্বোধন করা হয়েছে?
[A] মেঘনাদকে
[B] রাবণকে
[C] লক্ষ্মণকে
[D] অঙ্গদকে
উত্তর: [A] মেঘনাদকে
১৬. "শিঞ্জিনী আকর্ষি রোষে"— এখানে 'শিঞ্জিনী' শব্দের অর্থ কী?
[A] তলোয়ার
[B] ধনুকের ছিলা
[C] বাঁশি
[D] পায়ের নূপুর
উত্তর: [B] ধনুকের ছিলা
১৭. 'অম্বুরাশিসুতা' শব্দটির আক্ষরিক অর্থ—
[A] রাক্ষসকন্যা
[B] সমুদ্রকন্যা
[C] হিমালয় কন্যা
[D] অগ্নিকন্যা
উত্তর: [B] সমুদ্রকন্যা
১৮. 'কনক-আসন ত্যজি, বীরেন্দ্রকেশরী....' 'বীরেন্দ্রকেশরী' বলা হয়েছে—
[A] রাবণকে
[B] বিভীষণকে
[C] ইন্দ্রজিৎকে
[D] কুম্ভকর্ণকে
উত্তর: [C] ইন্দ্রজিৎকে
১৯. "হায়! পুত্র.../সীতাপতি, তব শরে মরিয়া বাঁচিল।"— 'সীতাপতি' সম্পর্কে যে বিশেষণটি প্রয়োগ করা হয়েছে সেটি হল—
[A] রঘুকুলচূড়ামণি
[B] মহাবলী
[C] বীরবর
[D] মায়াবী মানব
উত্তর: [D] মায়াবী মানব
২০. "এ বারতা, এ অদ্ভুত বারতা, ________।" [শূন্যস্থান পূরণ করো]
[A] জননী
[B] মাতঃ
[C] ভগবতী
[D] রাক্ষসি
উত্তর: [A] জননী
২১. "ঘুচাব এ অপবাদ, বধি ________-।" [শূন্যস্থান পূরণ করো]
[A] বানরকুলে
[B] রিপুকুলে
[C] রাক্ষসকুলে
[D] অসুরকুলে
উত্তর: [B] রিপুকুলে
২২. 'অভিষেক' কবিতাটি মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত 'মেঘনাদবধ কাব্য'-র কোন্ সর্গ থেকে পাঠ্যাংশে সংযোজিত হয়েছে?
[A] প্রথম সর্গ
[B] তৃতীয় সর্গ
[C] চতুর্থ সর্গ
[D] পঞ্চম সর্গ
উত্তর: [A] প্রথম সর্গ
২৩. মেঘনাদবধ কাব্যের প্রথম সর্গের নাম—
[A] প্রেতপুরী
[B] অভিষেক
[C] অস্ত্রলাভ
[D] লক্ষ্মণবধ
উত্তর: [B] অভিষেক
২৪. 'কিরীটী' যাঁর নাম তিনি হলেন—
[A] যুধিষ্ঠির
[B] ইন্দ্রজিৎ
[C] অর্জুন
[D] রামচন্দ্র
উত্তর: [C] অর্জুন
২৫. 'মাতঙ্গ' কথার অর্থ—
[A] রাক্ষস
[B] ঘোড়া
[C] পতঙ্গ
[D] হাতি
উত্তর: [D] হাতি
২৬. মেঘবাহন কে?
[A] ইন্দ্র
[B] ইন্দ্রজিৎ
[C] মেঘনাদ
[D] রাবণ
উত্তর: [A] ইন্দ্র
২৭. 'অভিষেক করিলা কুমারে।"—কার অভিষেকের কথা বলা হয়েছে?
[A] রামের
[B] ইন্দ্রজিতের
[C] অর্জুনের
[D] অঙ্গদের
উত্তর: [B] ইন্দ্রজিতের
২৮. "আগে পূজ ইষ্টদেবে”— কোথায় ইষ্টদেবের পুজোর কথা বলা হয়েছে?
[A] দেবমন্দিরে
[B] নিকুম্ভিলা যজ্ঞাগারে
[C] যুদ্ধক্ষেত্রে
[D] পর্বত শিখরে
উত্তর: [B] নিকুম্ভিলা যজ্ঞাগারে
মাধ্যমিক বাংলা: অন্যান্য সমস্ত অধ্যায়
১. 'অম্বুরাশি সুতা' বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: 'অম্বুরাশি-সুতা' বলতে লক্ষ্মীদেবীকে বোঝানো হয়েছে। সমুদ্রমন্থনজাত বলে লক্ষ্মীর অপর নাম 'অম্বুরাশি-সুতা'।
২. "কে কবে শুনেছে পুত্র, ভাসে শিলা জলে"— কোন্ প্রসঙ্গে একথা বলা হয়েছে?
উত্তর: মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত 'অভিষেক' পদ্যাংশ থেকে গৃহীত উদ্ধৃতাংশে রামচন্দ্রের মৃত্যুর পরে পুনর্জীবন লাভ প্রসঙ্গে প্রশ্নোদ্ভূত উক্তিটি করা হয়েছে।
৩. "শিঞ্জিনী আকর্ষি রোষে"— রোষে এই শব্দে কী করার কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত 'অভিষেক' পদ্যাংশ থেকে গৃহীত উদ্ধৃতাংশে 'শিঞ্জিনী' অর্থাৎ ধনুকের ছিলা আকর্ষণ করে জোরে ধনুতে টংকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
৪. "তারে ডরাও আপনি, রাজেন্দ্র?"—এই পঙ্ক্তিটিতে কাকে ভয় পাওয়ার কথা বক্তা বলেছেন?
উত্তর: মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত 'অভিষেক' পদ্যাংশ থেকে গৃহীত উদ্ধৃতাংশে রাঘব শ্রীরামচন্দ্রকে ভয় পাওয়ার কথা বক্তা বলতে চেয়েছেন।
৫. 'রথীন্দ্রর্ষভ' কথাটির অর্থ কী?
উত্তর: 'রথীন্দ্রর্ষভ' কথাটির অর্থ শ্রেষ্ঠ রথী। যিনি ঋষভ বা বৃষ সদৃশ শক্তি বা বলের অধিকারী। মহাপরাক্রমশালী ইন্দ্রজিৎকে রথীন্দ্রর্ষভ বলা হয়েছে।
৬. "হাসিবে মেঘবাহন"— 'মেঘবাহন' কে?
উত্তর: মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত 'অভিষেক' পদ্যাংশে 'মেঘবাহন' হলেন যিনি মেঘকে বাহন করে ঘুরে বেড়ান অর্থাৎ দেবরাজ ইন্দ্র।
৭. 'অভিষেক' কী?
উত্তর: মধুসূদন দত্ত রচিত 'অভিষেক' পদ্যাংশে 'অভিষেক' কথাটির অর্থ হল রাজসিংহাসনে আরোহণকালীন স্নানাদি অনুষ্ঠান। পাঠ্য পদ্যাংশে রাবণরাজ পুত্র মেঘনাদকে সেনাপতি পদে অভিষিক্ত করবার উদ্যোগের প্রসঙ্গে 'অভিষেক' শব্দটি প্রযুক্ত হয়েছে।
৮. 'অভিষেক' কাব্যাংশটি কোন্ কাব্যগ্রন্থ থেকে গৃহীত?
উত্তর: 'অভিষেক' কাব্যাংশটি মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত 'মেঘনাদবধ কাব্য' কাব্যগ্রন্থ থেকে গৃহীত।
৯. "মহাশোকী রাক্ষসাধিপতি"— রাক্ষসাধিপতি কে?
উত্তর: রাক্ষসাধিপতি হলেন লঙ্কার রাজা রাবণ।
১০. "সিন্ধু-তীরে/ভূপতিত"—এখানে কীসের কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত 'অভিষেক' পদ্যাংশ থেকে গৃহীত উদ্ধৃতাংশে সিন্ধুতীরে কুম্ভকর্ণের দেহ ভূপতিত থাকার কথা বলা হয়েছে।
১১. কাকে বীরেন্দ্রকেশরী বলা হয়েছে?
উত্তর: মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত 'অভিষেক' পদ্যাংশে বীরেন্দ্রকেশরী বলা হয়েছে রাবণপুত্র ইন্দ্রজিৎকে। বীরেন্দ্রকেশরীর অর্থ বীরসিংহ।
১২. "প্রণমিয়া ধাত্রীর চরণে/কহিল"—ইন্দ্রজিৎ কী বলেছিল?
উত্তর: মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত 'অভিষেক' পদ্যাংশ থেকে গৃহীত উদ্ধৃতাংশে ইন্দ্রজিৎ লঙ্কার কুশল জিজ্ঞাসা করেছিল এবং সেখানে ধাত্রীর আসার কারণ জিজ্ঞাসা করেছিল।
১৩. "...হেরি বীরবরে/মহাগর্বে"— 'বীরবর' ইন্দ্রজিৎকে দেখে সৈন্যদলের কোন্ প্রতিক্রিয়া হয়েছিল?
উত্তর: মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত 'অভিষেক' পদ্যাংশ থেকে গৃহীত উদ্ধৃতাংশে বীরবর ইন্দ্রজিৎকে দেখে সৈন্যদল মহাগর্বে রাজপতাকা উড়িয়েছিল।
১৪. "জিজ্ঞাসিলা মহাবাহু বিস্ময় মানিয়া;"—এই বিস্ময়ের কারণ কী ছিল?
উত্তর: রামচন্দ্রকে খণ্ড খণ্ড করে কেটে ফেলার পরেও কে বীরবাহুকে হত্যা করল, সেটা ভেবেই ইন্দ্রজিৎ বিস্মিত হয়েছিলেন।
১৫. বীরবাহুর মৃত্যুসংবাদে মেঘনাদ প্রথমে কীভাবে তাঁর রোষ প্রকাশ করেছিলেন?
উত্তর: বীরবাহুর মৃত্যুসংবাদ পেয়ে ইন্দ্রজিৎ ক্রোধে ফুলের মালা ছিঁড়ে ফেলেন, হাতের কনক বলয় ছুঁড়ে ফেলে দেন এবং পায়ের কাছে কুণ্ডল নিক্ষেপ করে তাঁর রোষ প্রকাশ করেছিলেন।
১. "জিজ্ঞাসিল মহাবাহু বিস্ময় মানিয়া"— মহাবাহু কে? কার কাছে তিনি কী জিজ্ঞাসা করেছিলেন?
মহাবাহু: মেঘনাদবধ কাব্যের প্রথম সর্গ 'অভিষেক' নামাঙ্কিত কাব্যাংশে মহাবাহু হলেন মেঘনাদ অর্থাৎ ইন্দ্রজিৎ।
মহাবাহুর জিজ্ঞাসা: ছদ্মবেশধারী লক্ষ্মীর কাছে ইন্দ্রজিৎ লঙ্কার কুশল সংবাদ জিজ্ঞাসা করেছিলেন। প্রমোদ উদ্যানে হঠাৎ জননীস্থানীয়া ধাত্রীর আগমন অপ্রত্যাশিত। তাই ইন্দ্রজিৎ তাঁর কাছে লঙ্কার সংবাদ জানতে চান। ইন্দ্রজিৎকে ছদ্মবেশধারী দেবী জানান যে বীরবাহু নিহত হয়েছেন এবং রাবণ যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এই দুটি সংবাদ শুনে মহাবিস্ময়ে ইন্দ্রজিৎ প্রশ্ন করেন— কে হত্যা করল বীরবাহুকে? কারণ তিনি নিজেই রামচন্দ্রসহ শত্রুদলকে নিবিড় রণে সংহার করেছিলেন।
২. "ত্যজ কিঙ্করিরে আজি"—বক্তা কে? তাঁর মনে এমন প্রশ্ন জেগে ওঠার কারণ কী?
বক্তা: মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'অভিষেক' কবিতায় ইন্দ্রজিতের পত্নী প্রমীলার মনে এই প্রশ্ন জেগেছে।
প্রশ্ন জাগার কারণ: ইন্দ্রজিৎ ধাত্রীর ছদ্মবেশধারী দেবীর কাছে স্বর্ণলঙ্কার দুর্দিনের খবর পান। এই সংবাদ শুনে তিনি স্বর্ণলঙ্কার উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত হন। এমন সময় পত্নী প্রমীলা তাঁর পথ রোধ করে দাঁড়ান। প্রমীলা নিজের স্বামীর কাছে জানতে চান, তাঁকে কী কারণে একাকী ফেলে ত্যাগ করা হচ্ছে। আসলে স্বামী-বিরহে বিরহকাতর পত্নীর অন্তরের ব্যাকুল রূপটি এই উক্তির মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
মাধ্যমিক বাংলা: অন্যান্য সমস্ত অধ্যায়
৩. "হৈমবতী সুত যথা নাশিতে তারকে মহাসুর"— কোন প্রসঙ্গে এই উক্তি? এই উক্তির কারণ কী?
প্রসঙ্গ: মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত 'অভিষেক' কবিতায় ইন্দ্রজিৎ যুদ্ধে যাওয়ার জন্য সাজসজ্জা ও প্রস্তুতি গ্রহণ করেছিলেন। সেই যুদ্ধযাত্রার প্রস্তুতি প্রসঙ্গে আলোচ্য উক্তিটি কবি করেছেন।
উক্তির কারণ: কার্তিক কর্তৃক তারকাসুর নিধনের পৌরাণিক কাহিনিকে কবি এখানে স্মরণ করেছেন। 'হৈমবতী সুত' বলতে দেব সেনাপতি কার্তিকের কথা বলা হয়েছে। দেবতাদের বিপদ থেকে রক্ষা করার জন্য কার্তিক যেমন রণসজ্জায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন এবং তারকাসুরকে নিধন করেছিলেন, ঠিক সেইভাবেই লঙ্কার সংকটকালে বীরদর্পে যুদ্ধযাত্রার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন ইন্দ্রজিৎ।
৪. "কে কবে শুনেছে পুত্র ভাসে শিলা জলে"—এমন উপমা দেওয়ার কারণ লেখো।
উপমার কারণ: 'অভিষেক' কবিতায় রাক্ষসরাজ রাবণ এমন উপমা প্রয়োগ করেছেন। রামচন্দ্রের পুনরায় বেঁচে ওঠা সম্পর্কে চরম বিস্ময় ও অবিশ্বাস প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেছেন। রাবণপুত্র ইন্দ্রজিৎ রামচন্দ্রকে আগেই যুদ্ধে পরাজিত ও সংহার করেছিলেন, যেখানে রামচন্দ্রের নিশ্চিত মৃত্যু ঘটেছিল। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায় রামচন্দ্র পুনর্জীবন লাভ করে পুনরায় যুদ্ধপ্রস্তুতি নিচ্ছেন। রাবণ নিজের জীবন অভিজ্ঞতা থেকে ব্যক্ত করেছেন যে, শিলা বা পাথর যেমন কখনো জলে ভাসে না, তেমনই কোনো মৃত মানুষের বেঁচে ওঠাও অসম্ভব ও প্রাকৃতিক নিয়মের পরিপন্থী। রামচন্দ্র একজন মায়াবী মানব বলেই এমন অলৌকিক ঘটনা সম্ভব হয়েছে।
৫. "নিকুম্ভিলা যজ্ঞ সাঙ্গ কর"—নিকুম্ভিলা যজ্ঞ কেন করা হত?
নিকুম্ভিলা যজ্ঞ করার কারণ: নিকুম্ভিলা হলেন লঙ্কার কুলদেবী। রাবণের দৃঢ় বিশ্বাস ছিল যে, ইন্দ্রজিৎ যদি তাঁর আরাধ্যা দেবী ও অগ্নিদেবের পূজা যথাযথভাবে সুসম্পন্ন করেন, তবে তাঁর সিদ্ধিলাভ ও অমরত্ব নিশ্চিত হবে এবং তিনি শত্রুদলকে পরাজিত করবার অজেয় শক্তি অর্জন করবেন। স্বর্ণলঙ্কার অতিশয় গুপ্ত নিকুম্ভিলা যজ্ঞাগারে যুদ্ধযাত্রার পূর্বে কুলদেবী ও অগ্নিদেবকে তুষ্ট করতেই এই যজ্ঞ অনুষ্ঠিত হতো।
১. 'অভিষেক' কবিতা অবলম্বনে ইন্দ্রজিৎ চরিত্রের পরিচয় দাও।
ভূমিকা: বাল্মীকি বা কৃত্তিবাসের মতো গতানুগতিক দৃষ্টিতে ইন্দ্রজিৎকে দেখেননি মধুসূদন। ইন্দ্রজিৎ কবির মানসপুত্র। কবি এই চরিত্র সম্পর্কে ইংরেজি চিঠিপত্রে মন্তব্য করেছিলেন— "Glorious son of Ravana" এবং "He was a noble fellow"।
দুর্জয় সাহস ও পরাক্রম: প্রমোদ উদ্যানে ধাত্রী প্রভাষার ছদ্মবেশে রাজলক্ষ্মীর মুখে বীরবাহুর মৃত্যুসংবাদ শুনে ইন্দ্রজিৎ বিচলিত না হয়ে তৎক্ষণাৎ যুদ্ধে যাওয়ার সংকল্প গ্রহণ করেন এবং বীরদর্পে রাঘবকে সমূলে বিনাশ করার শপথ নেন।
অগাধ পত্নীপ্রেম: প্রমীলার সঙ্গে ইন্দ্রজিতের দাম্পত্য সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর ও মধুর। রণযাত্রাকালে অশ্রুসজল প্রমীলাকে তিনি সান্ত্বনা দিয়ে বলেছেন যে, প্রমীলার প্রেমের দৃঢ় বন্ধন ছিন্ন করার ক্ষমতা ত্রিভুবনে কারও নেই।
পিতৃভক্তি ও কর্তব্যবোধ: ইন্দ্রজিতের চরিত্রের অন্যতম গুণ তাঁর পিতৃভক্তি। পিতা রাবণকে তিনি বিনম্র শ্রদ্ধায় আশ্বস্ত করে বলেন যে, পুত্র জীবিত থাকতে পিতা নিজে যুদ্ধে যাবেন— এ রাক্ষসকুলের পক্ষে কলঙ্কের কথা
স্বদেশপ্রেম ও আত্মবিশ্বাস: জন্মভূমি স্বর্ণলঙ্কাকে ইন্দ্রজিৎ অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে ভালোবাসেন। লঙ্কার চরম দুর্দিনে শত্রুর হাত থেকে দেশকে মুক্ত করাই তাঁর একমাত্র লক্ষ্য। তাঁর অটুট আত্মবিশ্বাস ও দেশপ্রেমই তাঁকে বাংলা সাহিত্যের এক স্মরণীয় ও শ্রেষ্ঠ ট্র্যাজিক চরিত্রে রূপদান করেছে।
২. 'অভিষেক' কবিতায় প্রমীলার চরিত্রটি বিশ্লেষণ করো।
ভূমিকা: মাইকেল মধুসূদন দত্ত তাঁর কাব্যে নারীচরিত্র সৃষ্টিতে অনন্য আধুনিকতার স্বাক্ষর রেখেছেন। রামায়ণের সীতা চরিত্রের বিপরীতে প্রমীলা চরিত্রটি কবির এক অতুলনীয় ও তেজস্বী মানস প্রতিমা।
শক্তি ও সৌকুমার্যের সমন্বয়: প্রমীলা কেবল এক অবলা নারী নন, তিনি একদিকে যেমন প্রেমময়ী নারী, অন্যদিকে বীরাঙ্গনা স্বভাবের অধিকারিণী। তাঁর মধ্যে রূপ ও আত্মিক তেজস্বিতার এক সার্থক সমন্বয় ঘটেছে।
সুযোগ্য পত্নী ও গভীর প্রেম: ত্রিভুবনবিজয়ী বীর ইন্দ্রজিতের উপযুক্ত অর্ধাঙ্গিনী প্রমীলা। ইন্দ্রজিৎকে তিনি নিবিড় প্রেম ও স্নেহের বাঁধনে জড়িয়ে রেখেছিলেন। স্বামীর সান্নিধ্যই ছিল তাঁর জীবনের একমাত্র আনন্দ।।
বিরহকাতরতা: প্রমোদ উদ্যানে স্বামীর হঠাৎ যুদ্ধযাত্রার সংকল্পে প্রমীলা বিহ্বল ও ব্যাকুল হয়ে ওঠেন। পতিবিরহের আশঙ্কায় তাঁর হৃদয় কেঁপে ওঠে। তিনি অশ্রুসজল নয়নে স্বামীর পথ রোধ করে নিজের বিরহবেদনা প্রকাশ করেন।
মূল্যায়ন: 'অভিষেক' কাব্যাংশের সংক্ষিপ্ত পরিসরে প্রমীলা চরিত্রটি তাঁর আন্তরিক ভালোবাসা, ব্যাকুল পতিপ্রেম এবং বীরোচিত গাম্ভীর্যের কারণে অত্যন্ত উজ্জ্বল ও চিরন্তন মহিমায় ভাস্বর।