Madhyamik Bengali Suggestion 2027 (WBBSE Class 10)
পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের (WBBSE) ২০২৭ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের জন্য বাংলা প্রথম ভাষার সম্ভাব্য এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নাবলির সম্পূর্ণ তালিকা নিচে দেওয়া হলো। পাঠ্যবই খুঁটিয়ে পড়ার পাশাপাশি এই নির্বাচিত প্রশ্নগুলি প্রস্তুত করলে পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বর তোলা সহজ হবে।
মাধ্যমিক বাংলা সাজেশন ২০২৭: সম্পূর্ণ অধ্যায়ভিত্তিক প্রস্তুতি নির্দেশিকা
পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের (WBBSE 2027) মাধ্যমিক পরীক্ষায় বাংলা একটি অন্যতম প্রধান ও বেশি নম্বর তোলার মতো বিষয়। সঠিক পরিকল্পনা, প্রশ্নকাঠামো বোঝা এবং বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলো নিয়মিত অনুশীলন করলে বাংলায় ৯০ শতাংশের বেশি নম্বর পাওয়া কঠিন নয়। নিচে পাঠ্যক্রমের প্রতিটি বিভাগ থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও প্রস্তুতির বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হলো।
সেরা প্রস্তুতি কৌশল: মাধ্যমিক বাংলা পরীক্ষায় ভালো নম্বরের জন্য সেরা প্রস্তুতি নির্দেশিকা। গল্প, কবিতা, নাটক, ব্যাকরণ ও প্রবন্ধ রচনার গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এবং নম্বর তোলার সহজ কৌশল জানুন এখানে।
জ্ঞানচক্ষু, বহুরূপী, আফ্রিকা, কোনি এবং প্রবন্ধ রচনার গুরুত্বপূর্ণ ৩ ও ৫ নম্বরের প্রশ্নাবলি বিশেষভাবে প্রস্তুত রাখুন।
ট্যাগ / কি-ওয়ার্ডস:
WBBSE Class 10 Bengali suggestion 2027, মাধ্যমিক বাংলা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, Madhyamik Bengali question paper, বহুরূপী গল্প সাজেশন
বহুরূপী — সুবোধ ঘোষ
১. "হরিদার এই ভুল ক্ষমা করবে না।"— কে ক্ষমা করবে না?
[A] ঈশ্বর
[B] ভগবান
[C] অদৃষ্ট
[D] পরমাত্মা
উত্তর: [C] অদৃষ্ট
২. বিচিত্র সব ছদ্মবেশ ধারণ করে বহুরূপী সাজত—
[A] জগদীশবাবু
[B] ভবতোষ
[C] অনাদি
[D] হরিদা
উত্তর: [D] হরিদা
৩. "কী করব বল? ইচ্ছেই হল না।"—কী ইচ্ছে হয়নি?
[A] টাকা নিতে
[B] ফলমূল নিতে
[C] চাল-গম নিতে
[D] দান নিতে
উত্তর: [A] টাকা নিতে
৪. যখন হরিদা বহুরূপী সেজে জগদীশবাবুর বাড়ি গেল তখন তার গায়ে ছিল—
[A] ফতুয়া
[B] সাদা উত্তরীয়
[C] কাপালিকের পোশাক
[D] পীরের পোশাক
উত্তর: [B] সাদা উত্তরীয়
৫. হরিদার জীবনে সত্যিই একটা ________ আছে। (শূন্যস্থান পূরণ করো)
[A] করুণ আবেদন
[B] বিচিত্র ছদ্মবেশ
[C] নাটকীয় বৈচিত্র্য
[D] ভয়ানক আপত্তি
উত্তর: [C] নাটকীয় বৈচিত্র্য
৬. হরিদা পেশায় ছিলেন একজন—
[A] কনেস্টেবল
[B] বহুরূপী
[C] সন্ন্যাসী
[D] পূজারি ব্রাহ্মণ
উত্তর: [B] বহুরূপী
৭. "সে ভয়ানক দুর্লভ জিনিস"— 'ভয়ানক দুর্লভ' জিনিসটি হল—
[A] সন্ন্যাসীর দেখা পাওয়া
[B] সন্ন্যাসীর আশীর্বাদ পাওয়া
[C] সন্ন্যাসীর কমণ্ডুলু পাওয়া
[D] সন্ন্যাসীর পায়ের ধুলো পাওয়া
উত্তর: [D] সন্ন্যাসীর পায়ের ধুলো পাওয়া
৮. 'বহুরূপী' গল্পের লেখক হলেন—
[A] সুবোধ ঘোষ
[B] তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
[C] শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
[D] বিমল মিত্র
উত্তর: [A] সুবোধ ঘোষ
৯. ঠিক দুপুরবেলাতে একটা আতঙ্কের হল্লা বেজে উঠেছিল—
[A] চকের বাসস্ট্যান্ডের কাছে
[B] শ্যামবাজার মোড়ের কাছে
[C] জগদীশবাবুর বাড়ির কাছে
[D] স্কুলের মাঠের কাছে
উত্তর: [A] চকের বাসস্ট্যান্ডের কাছে
১০. "বাসের যাত্রীরা কেউ হাসে, কেউ বা বেশ বিরক্ত হয় কেউ আবার বেশ বিস্মিত।"—বাসযাত্রীদের এমন প্রতিক্রিয়ার কারণ—
[A] বাসের ড্রাইভার কাশীনাথ বহুরূপী হরিদাকে ধমক দিয়েছে
[B] বহুরূপী হরিদার পাগলের সাজটা চমৎকার
[C] হরিদা আজ বাউল সেজে এসেছেন
[D] কাপালিক সেজে এলেও হরিদা কোনো পয়সা নেন না
উত্তর: [B] বহুরূপী হরিদার পাগলের সাজটা চমৎকার
১১. "________ কিছুই শুনিনি"—কথাটা বলেছেন—
[A] অনাদিবাবু
[B] জগদীশবাবু
[C] হরিদা
[D] হরেন দা
উত্তর: [C] হরিদা
১২. জগদীশবাবুর বাড়িতে সন্ন্যাসী ছিলেন—
[A] তিনদিন
[B] চারদিন
[C] পাঁচদিন
[D] সাতদিন
উত্তর: [D] সাতদিন
১৩. জগদীশবাবুর বাড়িতে আসা সন্ন্যাসী সারা বছর যা খেতেন সেটা হল—
[A] একটি হরিতকী
[B] একটি বহেরা
[C] একটি আমলকী
[D] এক মুঠো তিল
উত্তর: [A] একটি হরিতকী
১৪. সন্ন্যাসীকে খড়ম দিয়েছিলেন—
[A] হরিদা
[B] জগদীশবাবু
[C] অনাদি
[D] ভবতোষ
উত্তর: [B] জগদীশবাবু
১৫. "ছদ্মবেশে সেদিন হরিদার রোজগার মন্দ হয়নি।"— কোন্ ছদ্মবেশের কথা বলা হয়েছে?
[A] পুলিশ
[B] ভিখিরি
[C] বাইজি
[D] পাগল
উত্তর: [C] বাইজি
১৬. "তোমরা সেখানে থেকো"— 'সেখানে' বলতে বোঝানো হয়েছে—
[A] জগদীশবাবুর বাড়িতে
[B] অনাদির বাড়িতে
[C] ভবতোষের বাড়িতে
[D] চক বাসস্ট্যান্ডে
উত্তর: [A] জগদীশবাবুর বাড়িতে
১৭. হরি কী সেজে লিচু বাগানে স্কুলের চারটে ছেলেকে ধরেছিল?
[A] দারোয়ান
[B] স্কুল মাস্টার
[C] পুলিশ
[D] সন্ন্যাসী
উত্তর: [C] পুলিশ
১৮. কী উপলক্ষে বিরাগীকে জগদীশবাবু টাকা দিতে চেয়েছিলেন—
[A] মন্দির তৈরি করতে
[B] জলসার জন্য
[C] পিকনিক করার জন্য
[D] তীর্থ ভ্রমণের জন্য
উত্তর: [D] তীর্থ ভ্রমণের জন্য
১. "পরম সুখ কাকে বলে জানেন?"— 'পরম সুখ' বলতে বক্তা কী বোঝাতে চেয়েছেন?
উত্তর: 'বহুরূপী' গল্পে বক্তা বিরাগী স্বয়ং সব সুখের বন্ধন থেকে মুক্ত হয়ে যাওয়াকেই 'পরম সুখ' বলতে চেয়েছেন।
মাধ্যমিক বাংলা: অন্যান্য সমস্ত অধ্যায়
২. হরিদার জীবনের নাটকীয় বৈচিত্র্যটি কী?
উত্তর: হরিদা পেশায় ছিল বহুরূপী। সে কখনো পাগল সাজত, কখনো বাউল, কোনোদিন কাপালিক, কখনো পুলিশ আবার কখনো বা বোঁচকা কাঁধে বুড়ো কাবুলিওয়ালা। এটাই হরিদার জীবনের নাটকীয় বৈচিত্র্য।
৩. বিরাগীর কাছে জগদীশবাবুর প্রাণের অনুরোধটি কী ছিল এবং তা শুনে বিরাগী কী বলেছিলেন?
উত্তর: জগদীশবাবু বিরাগীকে তাঁর বাড়িতে কিছুদিন বসবাস করার জন্য অনুরোধ করেছিলেন। এই কথা শুনে বিরাগী বলেছিলেন ধরিত্রী তাঁর আসল আশ্রয়স্থল, দালানবাড়িতে তিনি থাকতে পারবেন না।
৪. হরিদার ঘরটি কীরকম ছিল এবং সেখানে কী হত?
উত্তর: সরু এক গলির মধ্যে হরিদার একটি ছোটো ঘর ছিল। সেখানে সকাল-সন্ধ্যা লেখকদের আড্ডা বসত। চা, চিনি, দুধ তাঁরাই আনতেন, হরিদা শুধু আগুনের আঁচে জল ফুটিয়ে দিত।
৫. "সে ভয়ানক দুর্লভ জিনিস।"— 'দুর্লভ' জিনিসটি কী?
উত্তর: সুবোধ ঘোষ রচিত 'বহুরূপী' গল্পে জগদীশবাবুর বাড়িতে আগন্তুক সন্ন্যাসীর পায়ের ধুলো পাওয়ার বিষয়কে দুর্লভ জিনিস বলা হয়েছে, কেন-না জগদীশবাবু ব্যতীত আগন্তুক সন্ন্যাসী আর কাউকে পায়ের ধুলো নিতে দেননি।
৬. লেখক ও তাঁর বন্ধুরা হরিদার কাছে কোন্ ঘটনা শোনাতে এসেছিলেন?
উত্তর: জগদীশবাবুর বাড়িতে খুব উঁচুদরের এক সন্ন্যাসী এসেছিলেন এবং তিনি সেখানে সাতদিন ধরে অবস্থান করেছিলেন— এই খবরটাই লেখক ও তাঁর বন্ধুরা হরিদাকে শোনাতে এসেছিলেন।
৭. "মাঝে মাঝে সত্যিই উপোস করেন হরিদা।"—হরিদা মাঝে মাঝে উপোস করেন কেন?
উত্তর: হরিদার জীবনের একমাত্র পেশা বহুরূপী সেজে রোজগার করা। যৎসামান্য রোজগারে এক সপ্তাহের ক্ষুন্নিবৃত্তি নিবারণ করা সম্ভব হয় না, তাই হরিদাকে মাঝে মাঝেই সত্যিই উপোস করে দিন অতিবাহিত করতে হয়।
৮. "কী অদ্ভুত কথা বলেন হরিদা!"—হরিদার কোন্ কথাকে অদ্ভুত মনে হয়েছিল?
উত্তর: হরিদা জানিয়েছিলেন যে, শত হোক একজন বিরাগী সন্ন্যাসী সেজে টাকা-ফাকা স্পর্শ করলে তাঁর ঢং নষ্ট হয়ে যায়। তাঁর এই কথাকে গল্প লেখকের অদ্ভুত মনে হয়েছিল।
৯. "নইলে আমি শান্তি পাব না"— কী পেলে বক্তা শান্তি পাবেন?
উত্তর: বক্তা জগদীশবাবুর একান্ত ইচ্ছা যে বিরাগী তাঁকে কিছু উপদেশ দিয়ে প্রস্থান করলে তবেই তিনি শান্তি পাবেন।
১০. "এই শহরের জীবনে মাঝে মাঝে বেশ চমৎকার ঘটনা সৃষ্টি করেন বহুরূপী হরিদা।"—'বহুরূপী' গল্পে হরিদার বহুরূপী সাজার কয়েকটি উল্লেখ করো।
উত্তর: কথাসাহিত্যিক সুবোধ ঘোষ রচিত 'বহুরূপী' গল্পে হরিদার বহুরূপী সাজার রূপগুলি হল— উন্মাদ পাগল, রূপসি বাইজি, বাউল, কাপালিক, পুলিশ, বুড়ো কাবুলিওয়ালা, ফিরিঙ্গি কেরামিন সাহেব, সন্ন্যাসী বিরাগী প্রভৃতি।
১১. "জটাজুটধারী কোনো সন্ন্যাসী নয়।"—উদ্দিষ্ট ব্যক্তিকে সন্ন্যাসী না বলার কারণ কী?
উত্তর: আগন্তুককে সন্ন্যাসী না বলার কারণ হল, তাঁর হাতে সন্ন্যাসীদের ব্যবহৃত কমণ্ডলু ও চিমটে ছিল না, বসার জন্যে মৃগচর্মের আসন ছিল না, গৈরিক সাজেও সজ্জিত ছিলেন না এবং জটাজুটের পরিবর্তে তাঁর মাথায় ছিল স্বাভাবিক শুভ্র চুল।
১২. "জগদীশবাবুর দুই বিস্মিত চোখ অপলক হয়ে গেল"—কী দেখে জগদীশবাবুর এমন অবস্থা হয়েছিল?
উত্তর: জগদীশবাবু সিঁড়ির দিকে তাকিয়ে যখন দেখেছিলেন আদুড় গায়ে ধবধবে সাদা উত্তরীয় পরে এক বিরাগী সামনে দাঁড়িয়ে, তখন তিনি অপলক দৃষ্টিতে তাঁর দিকে চেয়ে রইলেন।
১৩. "অদৃষ্ট কখনও হরিদার এই ভুল ক্ষমা করবে না।"—হরিদার কোন্ ভুল অদৃষ্ট কখনো ক্ষমা করবে না?
উত্তর: শিল্প মর্যাদার স্বার্থে বহুরূপী হরিদা জগদীশবাবুর দিতে চাওয়া মোহমুক্ত হয়ে প্রত্যাখান করে ভুল করেছিলেন বলে লেখক মনে করেছেন। সেই ভুলই অদৃষ্ট কখনো ক্ষমা করবে না বলে লেখকের মনে হয়েছিল।
১৪. "পরম সুখ কাকে বলে জানেন?"— বক্তা স্বয়ং 'পরম সুখ' বলতে কী বোঝাতে চেয়েছেন?
উত্তর: কথাসাহিত্যিক সুবোধ ঘোষ রচিত 'বহুরূপী' গল্পে বক্তা বিরাগী স্বয়ং সব সুখের বন্ধন থেকে মুক্ত হয়ে যাওয়াকেই 'পরম সুখ' বলে বোঝাতে চেয়েছেন।
১৫. "বাঃ এ তো বেশ মজার ব্যাপার!"— কোন্ ঘটনাকে মজার ব্যাপার বলা হয়েছে?
উত্তর: একদিকে জগদীশবাবুর বাড়িতে আশ্রয় গ্রহণকারী আগন্তুক সন্ন্যাসী হিমালয়বাসী সর্বত্যাগী, অন্যদিকে কাঠের খড়মে সোনার বোল লাগানো দেখে মুগ্ধ হয়ে তিনি পা বাড়িয়ে দিলেন জগদীশবাবুর দিকে— এমন পরস্পরবিরোধী ঘটনাকে হরিদা মজার ব্যাপার বলে উল্লেখ করেছেন।
১. গল্প শুনে খুব গম্ভীর হয়ে গেলেন হরিদা—কোন্ গল্প শুনে হরিদা গম্ভীর হয়ে গেছিলেন?
গম্ভীর হওয়ার কারণ: সুবোধ ঘোষের 'বহুরূপী' গল্প থেকে আলোচ্য অংশটি নেওয়া হয়েছে। গল্পের লেখক ও অন্যরা হরিদাকে জানিয়েছিলেন যে, জগদীশবাবুর বাড়িতে এক সন্ন্যাসী সাত দিন ধরে ছিলেন। সেই সন্ন্যাসী সারাবছরে একটি হরিতকী খান এবং বয়স হাজার বছরের বেশি। সন্ন্যাসী কাউকে তাঁর পায়ের ধুলো দেন না, শুধুমাত্র জগদীশবাবুকে দিয়েছিলেন কারণ জগদীশবাবু তাঁর কাঠের খড়মে সোনার বোল লাগিয়ে পায়ের কাছে ধরেছিলেন। সন্ন্যাসী যখন সেই খড়ম পরতে গেলেন তখন জগদীশবাবু পায়ের ধুলো নিয়েছিলেন। সন্ন্যাসীর এই গল্প শুনে হরিদা গম্ভীর হয়ে গিয়েছিলেন।
২. হরিদা কোনোদিন চাকরি করেননি কেন?
চাকরি না করার কারণ: একঘেয়ে সময় বেঁধে কাজ হরিদার কোনোদিন ভালো লাগত না। ইচ্ছে করলেই হরিদা যে কোনো অফিসের কাজ বা দোকানের কাজ পেয়ে যেতে পারতেন। কিন্তু ঘড়ির কাঁটা বেঁধে নিয়ম করে রোজ এক কাজ করতে যাওয়া হরিদার পক্ষে সম্ভব ছিল না। হরিদার অভাব থাকলেও এই অভাব সহ্য করতে আপত্তি ছিল না, কিন্তু একঘেয়ে কাজে তাঁর ভীষণ আপত্তি ছিল। তাই হরিদা কোনোদিন চাকরি করেননি।
৩. ঠিক দুপুরবেলাতে একটা আতঙ্কের হল্লা বেজে উঠল— আতঙ্কের হল্লাটির পরিচয় দাও।
আতঙ্কের হল্লা: সুবোধ ঘোষের 'বহুরূপী' গল্পে হরিদা মাঝে মাঝে বহুরূপী সাজতেন। এক দুপুরবেলা চকের বাসস্ট্যান্ডের কাছে এক উন্মাদ পাগলকে দেখা গিয়েছিল, যার কটকটে লাল চোখ এবং মুখ থেকে লালা ঝরছিল। তার কোমরে ছেঁড়া কম্বল আর গলায় টিনের কৌটোর মালা জড়ানো ছিল। পাগলটি একটি থান ইট নিয়ে বাসে বসা যাত্রীদের দিকে তেড়ে যাচ্ছিল। তাকে দেখে যাত্রীরা ভয়ে চেঁচিয়ে উঠেছিল। কেউ কেউ দু-একটা পয়সা তার সামনে ফেলে দিচ্ছিল। বাস ড্রাইভার কাশীনাথ চিনতে পেরে ধমক দেয়, কারণ পাগলটি ছিল বহুরূপী হরিদার চমৎকার এক ছদ্মবেশ।
মাধ্যমিক বাংলা: অন্যান্য সমস্ত অধ্যায়
৪. জগদীশবাবুর বাড়িতে যে সন্ন্যাসী এসেছিলেন—তাঁর বর্ণনা দাও।
সন্ন্যাসীর বর্ণনা: জগদীশবাবুর বাড়িতে সাতদিন ধরে এক সন্ন্যাসী অবস্থান করেছিলেন। খুব উঁচু দরের এই সন্ন্যাসী হিমালয়ের গুহাতে থাকতেন। তিনি সারা বছরে শুধুমাত্র একটি হরিতকী খেতেন, এছাড়া অন্য কিছু খেতেন না। অনেকের ধারণা ছিল সন্ন্যাসীর বয়স হাজার বছরের বেশি। তাঁর পায়ের ধুলো পাওয়া ছিল অত্যন্ত দুর্লভ বস্তু, কেবল কৌশলে জগদীশবাবুই একমাত্র তাঁর পায়ের ধুলো পেয়েছিলেন।
৫. হরিদার জীবনে সত্যিই একটা নাটকীয় বৈচিত্র্য আছে—নাটকীয় বৈচিত্র্য কী?
নাটকীয় বৈচিত্র্য: গরিব হরিদা শহরের এক সরু গলির ছোটো ঘরে বাস করে অভাবের মধ্যে দিন কাটাতেন। কোনোদিন তাঁর হাঁড়িতে ভাত চড়ত, কোনোদিন শুধু জল ফুটত। প্রতিদিনের এই একঘেয়ে দারিদ্র্যের জীবনে হরিদার একটি নাটকীয় বৈচিত্র্য ছিল বহুরূপী সেজে পথচলতি মানুষকে চমকে দেওয়া। তিনি সপ্তাহে একদিন বিচিত্র ছদ্মবেশে রাস্তায় বের হতেন— কখনো পাগল, কখনো রূপসি বাইজি, কখনো কাপালিক বা বিরাগী সেজে মানুষকে আনন্দ দিতেন এবং সামান্য রোজগার করতেন। এটাই ছিল তাঁর জীবনের নাটকীয় বৈচিত্র্য।
৬. "আপনি কী ভগবানের চেয়েও বড়ো?"—কে কেন কাকে এ উক্তি করেছিলেন?
বক্তা ও শ্রোতা: সুবোধ ঘোষের 'বহুরূপী' গল্পে বিরাগী ছদ্মবেশী হরিদা ধনী জগদীশবাবুকে লক্ষ্য করে এ উক্তি করেছিলেন।
উক্তির কারণ: বিরাগীবেশে হরিদা জগদীশবাবুর বারান্দার সিঁড়ির কাছে এসে দাঁড়ালে জগদীশবাবু বারান্দা থেকেই বিরাগীকে অভ্যর্থনা জানান, নিচে নেমে আসেননি। জগদীশবাবুর এই অহংকার ও ঔদ্ধত্যকে আঘাত করতেই বিরাগী হরিদা বিরক্ত হয়ে প্রশ্ন তোলেন যে, জগদীশবাবু এগারো লক্ষ টাকার সম্পত্তির অহংকারে নিজেকে ভগবানের চেয়েও বড়ো মনে করছেন কি না।
৭. "কিন্তু মাস্টারমশাই একটুকুও রাগ করেননি"—কোন ঘটনার জন্য মাস্টারমশাই রাগ করেননি?
মাস্টারমশাইয়ের রাগ না করার কারণ: হরিদা একবার দয়ালবাবুর লিচু বাগানের ভেতরে নকল পুলিশ সেজে দাঁড়িয়েছিলেন। স্কুলের চারটি ছেলে সেখানে লিচু চুরি করতে এলে তিনি তাদের হাতেনাতে ধরে ফেলেন। ছেলেদের বাঁচাতে স্কুলের মাস্টারমশাই এসে সেই নকল পুলিশের পায়ে ধরে ক্ষমা চান এবং আট আনা ঘুষ দিয়ে ছাত্রদের ছাড়িয়ে নেন। পরে যখন জানা গেল যে পুলিশটি আসলে বহুরূপী হরিদা, তখন হরিদার নিপুণ অভিনয়ের প্রশংসায় মাস্টারমশাই আর একটুও রাগ করেননি।
১. 'বহুরূপী' গল্প অবলম্বনে হরিদার চরিত্রের বৈশিষ্ট্য আলোচনা করো।
ভূমিকা: কথাসাহিত্যিক সুবোধ ঘোষের 'বহুরূপী' ছোটোগল্পের কেন্দ্রবিন্দু হলেন হরিদা। চরম দারিদ্র্যের মধ্যেও আত্মমর্যাদা এবং খাঁটি শিল্পীর সত্তা নিয়ে তিনি এক অনন্য চরিত্র হয়ে উঠেছেন।
স্বাধীনচেতা মনোভাব: হরিদা ছিলেন চূড়ান্ত স্বাধীনচেতা মানুষ। ঘড়ির কাঁটা ধরে দশটা-পাঁচটার নিয়মে কোনো অফিসে বা দোকানে চাকরি করার মানসিকতা তাঁর ছিল না। অভাবের যন্ত্রণা সহ্য করতে রাজি থাকলেও স্বাধীনতার বিনিময়ে একঘেয়ে কাজ করতে তিনি নারাজ ছিলেন।
অকৃত্রিম শিল্পীসত্তা: হরিদা ছিলেন নিখুঁত ও নিষ্ঠাবান শিল্পী। তিনি যখন পাগল সাজতেন, তখন বাসের যাত্রীরা সত্যই আতঙ্কিত হতো; আবার বাইজি সাজলে শহরের বাবুরা তাঁকে খাঁটি নর্তকী ভেবে টাকা দিতেন। ছদ্মবেশে তিনি নিজেকে পুরোপুরি বিলীন করে দিতেন।
নির্লোভ ও নীতিপরায়ণ: জগদীশবাবুর মতো ধনীর বাড়ি থেকে সন্ন্যাসীর বেশে অবলীলায় একশো টাকা প্রণামী পাওয়ার সুযোগ ছিল। কিন্তু বিরাগী সেজে টাকা নিলে তাঁর ঢং ও শিল্পের পবিত্রতা নষ্ট হবে— এই ভেবে হরিদা নির্দ্বিধায় টাকা প্রত্যাখ্যান করেন।
মূল্যায়ন: জাগতিক দারিদ্র্য হরিদাকে পরাস্ত করতে পারেনি। তিনি কেবল অর্থ উপার্জনের জন্য নয়, মানুষকে অনাবিল আনন্দ দেওয়া ও শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখার তাগিদেই বহুরূপী পেশাকে আঁকড়ে ধরেছিলেন।
২. 'আজ তোমাদের একটা জবর খেলা দেখাব' / 'এবার মারিত হাতি লুঠিত ভাণ্ডার'— জগদীশবাবুর বাড়িতে হরিদা কীভাবে খেলা দেখিয়েছিলেন তা লেখো।
খেলা দেখানোর পটভূমি: এক ভণ্ড সন্ন্যাসী জগদীশবাবুকে মুগ্ধ করে কাঠের খড়মে সোনার বোল পরিয়ে পায়ের ধুলো দেওয়ার মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নিয়েছিলেন। এ কথা শুনে হরিদা বড়সড় রকমের উপার্জনের আশায় বলেছিলেন— "এবার মারিত হাতি, লুঠিত ভাণ্ডার।" তিনি বন্ধুদের জগদীশবাবুর বাড়িতে উপস্থিত থাকতে বলেন।
বিরাগীবেশে জগদীশবাবুর বাড়ি আগমন: সন্ধ্যার সময় হরিদা ধবধবে সাদা উত্তরীয় পরে, আদুড় গায়ে, শান্ত ও দীপ্তিময় মুখে এক অপার্থিব বিরাগীর বেশে জগদীশবাবুর বাড়িতে প্রবেশ করেন। তাঁর এই ভাবগম্ভীর বেশ দেখে জগদীশবাবু অভিভূত হন এবং ভক্তিতে গদগদ হয়ে পড়েন। বিরাগী জগদীশবাবুকে সম্পদের অহংকার ত্যাগ করার উপদেশ দেন।
অর্থ প্রত্যাখ্যান ও ত্যাগ: জগদীশবাবু বিরাগীকে কিছুদিন নিজের বাড়িতে থাকার অনুরোধ জানান এবং তীর্থভ্রমণের খরচ হিসেবে একশো টাকার একটি নোট দিতে চান। কিন্তু পরম বৈরাগ্যের সুরে হরিদা বলেন— "পরম সুখ কাকে বলে জানেন? সব সুখের বন্ধন থেকে মুক্ত হয়ে যাওয়া।" তিনি টাকা স্পর্শ না করে সিঁড়ি দিয়ে নেমে মিলিয়ে যান। এভাবে এক অপূর্ব নির্লোভ নাটকের অবতারণা করে হরিদা তাঁর খেলা দেখিয়েছিলেন।
৩. "পরম সুখ কাকে বলে জানেন? সব সুখের বন্ধন থেকে মুক্ত হয়ে যাওয়া।"— এ বক্তব্য হরিদার জীবনে কীভাবে প্রভাব ফেলেছে লেখো।
উক্তির গভীরতা: সুবোধ ঘোষের 'বহুরূপী' গল্পে বিরাগীবেশী হরিদার এই মন্তব্য নিছক কোনো সংলাপ নয়, এটি ছিল তাঁর জীবনদর্শনের মূল ভিত্তি।
হরিদার জীবনে প্রভাব: হরিদার বাইরের জীবন ছিল চরম অভাব ও দারিদ্র্যের। কিন্তু অন্তরে তিনি ছিলেন সম্পদের মোহের ঊর্ধ্বে স্থিতধী এক পুরুষ। জগদীশবাবু যখন প্রণামী হিসেবে একশো টাকা তাঁর পায়ের কাছে রাখেন, তখন অনাহারে থাকা হরিদার কাছে তা ছিল বিপুল অর্থ। কিন্তু তিনি জানতেন, ছদ্মবেশের আড়ালে যদি লোভের প্রবেশ ঘটে তবে তাঁর ভিতরের শিল্পীসত্তা কলঙ্কিত হবে।
সত্যিকারের মুক্তি: হরিদা প্রমাণ করেছিলেন সুখ কোনো বৈষয়িক বস্তুতে নেই, বরং আসক্তি ও মোহ ত্যাগ করার মধ্যেই প্রকৃত আনন্দ। জাগতিকভাবে তিনি কাঙাল হলেও আত্মিক শক্তিতে ছিলেন জগদীশবাবুর চেয়েও ধনী। এই পরম সুখের আদর্শ মেনে নিয়েই তিনি অনায়াসে অর্থের প্রলোভন পায়ে ঠেলে নিজের বহুরূপী সত্তাকে মর্যাদাপূর্ণ উচ্চতায় তুলে ধরেছিলেন।