Madhyamik Bengali Suggestion 2027 (Wbbse Class 10)(অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান)

Madhyamik Bengali Suggestion 2027 (WBBSE Class 10)

পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের (WBBSE) ২০২৭ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের জন্য বাংলা প্রথম ভাষার সম্ভাব্য এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নাবলির সম্পূর্ণ তালিকা নিচে দেওয়া হলো। পাঠ্যবই খুঁটিয়ে পড়ার পাশাপাশি এই নির্বাচিত প্রশ্নগুলি প্রস্তুত করলে পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বর তোলা সহজ হবে।

Bengali Suggestion Banner

মাধ্যমিক বাংলা সাজেশন ২০২৭: সম্পূর্ণ অধ্যায়ভিত্তিক প্রস্তুতি নির্দেশিকা

পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের (WBBSE 2027) মাধ্যমিক পরীক্ষায় বাংলা একটি অন্যতম প্রধান ও বেশি নম্বর তোলার মতো বিষয়। সঠিক পরিকল্পনা, প্রশ্নকাঠামো বোঝা এবং বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলো নিয়মিত অনুশীলন করলে বাংলায় ৯০ শতাংশের বেশি নম্বর পাওয়া কঠিন নয়। নিচে পাঠ্যক্রমের প্রতিটি বিভাগ থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও প্রস্তুতির বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হলো।

সেরা প্রস্তুতি কৌশল: মাধ্যমিক বাংলা পরীক্ষায় ভালো নম্বরের জন্য সেরা প্রস্তুতি নির্দেশিকা। গল্প, কবিতা, নাটক, ব্যাকরণ ও প্রবন্ধ রচনার গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এবং নম্বর তোলার সহজ কৌশল জানুন এখানে।

অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান, সিন্ধুতীরে, পথের দাবী, অভিষেক, প্রলয়োল্লাস এবং ব্যাকরণ ও নির্মিতির গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নাবলি বিশেষভাবে প্রস্তুত রাখুন।


ট্যাগ / কি-ওয়ার্ডস: WBBSE Class 10 Bengali suggestion 2027, মাধ্যমিক বাংলা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, Madhyamik Bengali question paper, অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান কবিতা সাজেশন

অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান — জয় গোস্বামী

১. বহু বিকল্পভিত্তিক প্রশ্নোত্তর [MCQ] (মান – ১)

১. 'অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান' কবিতায় চিল বা শকুন বলতে বোঝানো হয়েছে—

[A] সংখ্যালঘু মানুষদের [B] উদার প্রকৃতির মানুষদের [C] সুযোগ সন্ধানী মানুষদের [D] ভালো মানুষদের
উত্তর: [C] সুযোগ সন্ধানী মানুষদের


২. গানের বর্ম আজ পরেছি ________। (শূন্যস্থান পূরণ করো)

[A] গায়ে [B] পায়ে [C] হাতে [D] গলায়
উত্তর: [A] গায়ে


৩. 'অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান' কবিতাটির রচয়িতা হলেন—

[A] জয় গোস্বামী [B] সুভাষ মুখোপাধ্যায় [C] অন্নদাশংকর রায় [D] কাজি নজরুল ইসলাম
উত্তর: [A] জয় গোস্বামী


৪. গানের গায়ে মোছা হয়—

[A] চোখের জল [B] রক্ত [C] নদীর জল [D] গায়ের ঘাম
উত্তর: [B] রক্ত


৫. 'অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান' কবিতাটি যে কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত—

[A] পাগলী, তোমার সঙ্গে [B] পাতার পোশাক [C] বজ্রবিদ্যুৎ ভর্তি খাতা [D] ভুতুম ভগবান
উত্তর: [B] পাতার পোশাক


৬. 'তোমায় নিয়ে বেড়াবে গান'— উদ্দিষ্ট ব্যক্তিকে গান নিয়ে বেড়াবে—

[A] উন্মুক্ত আকাশে [B] রণভূমিতে [C] মৃত্যুদীর্ণ সমভূমিতে [D] নদীতে, দেশ গাঁয়ে
উত্তর: [D] নদীতে, দেশ গাঁয়ে


৭. আঁকড়ে ধরে ________ রক্ত মুছি শুধু গানের গায়ে। (শূন্যস্থান পূরণ করো)

[A] নদী-দেশগাঁ [B] সে-খড়কুটো [C] সে বর্মটা [D] আদুড় গাটা
উত্তর: [B] সে-খড়কুটো


৮. মাথায় কত শকুন বা চিল— মাথায় শকুন বা চিল ওড়ার অর্থ—

[A] কবি শিকারি পাখিদের পোষ মানিয়েছেন [B] চারিদিকে শকুন ও চিলদের ভিড় [C] সমাজটা যেন ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে [D] তারা আকাশে রামধনু দেখতে পায়
উত্তর: [C] সমাজটা যেন ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে


৯. অস্ত্র ফ্যালো, অস্ত্র রাখো ________-দুটি পায়ে— (শূন্যস্থান পূরণ করো)

[A] দেশের [B] মায়ের [C] শয়তানের [D] গানের
উত্তর: [D] গানের


১০. আমি এখন ________ হাতে পায়ে এগিয়ে আসি— (শূন্যস্থান পূরণ করো)

[A] ন্যুব্জ [B] চারটি [C] হাজার [D] সহস্র
উত্তর: [C] হাজার


১১. বুলেট কোন্ জাতীয় শব্দ?

[A] তৎসম শব্দ [B] তদ্ভব শব্দ [C] দেশি শব্দ [D] বিদেশি শব্দ
উত্তর: [D] বিদেশি শব্দ


১২. আমার শুধু একটা কোকিল......... এই কোকিলটি হল—

[A] বসন্তের দূত [B] এক ঋষি বালক [C] একটি নদী [D] কবির অনুভূতির জগৎ
উত্তর: [D] কবির অনুভূতির জগৎ


১৩. বর্ম খুলে দ্যাখো... বর্ম খুললে দেখা যাবে—

[A] আদুড় গায়ে যেন গান ঋষি বালকের মতো এসে দাঁড়িয়েছে [B] গান মানুষকে নিয়ে নদীতে দেশ-গাঁয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে [C] পায়ের কাছে প্রচুর অস্ত্র পড়ে রয়েছে [D] মাথার ওপরে অজস্র চিল-শকুন উড়ে বেড়াচ্ছে
উত্তর: [A] আদুড় গায়ে যেন গান ঋষি বালকের মতো এসে দাঁড়িয়েছে


১৪. 'অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান' একটি—

[A] নৈসর্গ বিষয়ক কবিতা [B] সাংকেতিক কবিতা [C] ব্যঞ্জনাধর্মী কবিতা [D] রূপকধর্মী কবিতা
উত্তর: [C] ব্যঞ্জনাধর্মী কবিতা


মাধ্যমিক বাংলা: অন্যান্য সমস্ত অধ্যায়


২. অতিসংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্নোত্তর (মান – ১)

১. "তোমায় নিয়ে বেড়াবে গান/নদীতে, দেশ গাঁয়ে"— কীভাবে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে তুমি মনে করো?

উত্তর: গান ও সুর সর্বজনীন ভাষা। বলা হয় হিংস্র প্রাণীদেরও সুরের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। তাই মানুষও যখন তার হিংস্র প্রকৃতিকে ত্যাগ করে সুরকে আশ্রয় করে দাঁড়াতে চাইবে, তখন সুরই তাকে আঞ্চলিক ক্ষুদ্রতায় বেঁধে রাখবে না, তাকে সব জায়গায় ব্যাপ্ত করে দেবে। আর এটা বোঝাতেই কবি 'দেশ-গাঁ' কথাটি ব্যবহার করেছেন।


২. "মাথায় কত শকুন বা চিল"— শকুন ও চিলেরা কীসের প্রতীক?

উত্তর: শকুন ও চিলেরা হিংস্রতা বা নৃশংসতার প্রতীক।


৩. 'অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান' কবিতায় শকুন-চিল, কোকিল ও ময়ূর আনার তাৎপর্য কী?

উত্তর: 'অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান' কবিতায় শকুন ও চিল এই পক্ষীরূপের বিপরীতে এসেছে কোকিল ও ময়ূর প্রসঙ্গ। শকুন ও চিল হিংস্রতার প্রতীক, তারা মাংস ছিঁড়ে খায়। আর কোকিল হল সুকণ্ঠী এবং ময়ূর হল সৌন্দর্যের প্রতীক।


৪. 'আমার শুধু একটা কোকিল'— কোকিলটি কী করে?

উত্তর: জয় গোস্বামী রচিত 'অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান' কবিতায় কবি বোঝাতে চেয়েছেন যে, চারপাশের হিংস্রতার মধ্যেও কোকিলটি সহস্র উপায়ে গান বাঁধে।


৫. "আঁকড়ে ধরে সে-খড়কুটো"— 'সে-খড়কুটো' বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

উত্তর: পতনশীল মানুষ সামান্যতম বস্তুকে আঁকড়ে ধরে বাঁচতে চায়। সে রকমই কবিও খুব কম গান জানেন বলে তা কবির কাছে খড়কুটোর মতো সামান্য সম্বল, যা দিয়ে তিনি অস্ত্রের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে চান।


৬. 'অস্ত্র', 'বুলেট', 'বর্ম' শব্দ তিনটির তাৎপর্য কী?

উত্তর: 'অস্ত্র' হিংসা, দখলদারি ও আগ্রাসনের হাতিয়ার। অস্ত্র থেকে নিক্ষিপ্ত ধাতব মৃত্যুদূত হল 'বুলেট' বা 'গুলি'। আর 'বর্ম' হল অস্ত্রবিলাসীদের আত্মরক্ষার কৃত্রিম উপকরণ। এসবই মানুষকে হননপ্রবণ করে তোলে।


৭. 'অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান' কবিতায় ব্যবহৃত ঋষি বালকের মধ্যে কার ছায়াপাত ঘটেছে বলে তোমার ধারণা?

উত্তর: 'অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান' কবিতায় ঋষি বালকের মধ্যে রাখাল বালক শ্রীকৃষ্ণের ছায়াপাত ঘটিয়েছেন কবি। এই ঋষি বালকের মতো তাঁরও মাথায় ময়ূর পালক গোঁজা থাকত বলে কল্পনা করা হয়েছে।


৮. কবি গানকে কীভাবে ব্যবহার করেন?

উত্তর: কবি গানকে বর্মের মতো ব্যবহার করে আত্মরক্ষার্থে শরীরে পরে থাকেন।


৯. "বর্ম খুলে দ্যাখো আদুড় গায়"— বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

উত্তর: 'অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান' কবিতায় কবি 'বর্ম' বলতে ক্ষমতা, বিদ্বেষ, অহংকার, লোভ ও মোহের কৃত্রিম আবরণ খুলে সহজ-স্বাভাবিক হয়ে আত্মদর্শন করার কথা বুঝিয়েছেন।


১০. গানের গায়ে কবি কী মোছেন?

উত্তর: কবি অস্ত্রের বিরুদ্ধে গানকে প্রতিস্থাপন করতে চান বলে অস্ত্রনিক্ষিপ্ত রক্তকে শুধুমাত্র গানের গায়ে মুছে নিতে চান, অর্থাৎ গান দিয়ে হিংসার রক্তচিহ্ন দূর করতে চান।


১১. বর্ম খুলে ফেলার অর্থ কী?

উত্তর: 'বর্ম' হল যুদ্ধসজ্জার উপকরণ। নিরাবরণ মানুষ আর বর্মধারী হিংস্র মানুষ এক নয়। তাই কবি মনে করেন, বর্ম খুলে নিরাবরণ হয়ে দাঁড়ালেই অকারণ আস্ফালন ত্যাগ করে পরম 'আত্ম'-কে অনুভব করা সম্ভব।


মাধ্যমিক বাংলা: অন্যান্য সমস্ত অধ্যায়


৩. সংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্নোত্তর (মান – ৩)

১. "অস্ত্র ফ্যালো, অস্ত্র রাখো পায়ে"— এই উক্তিটির কারণ কী?

উক্তির কারণ: আধুনিক কবি জয় গোস্বামী রচিত 'অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান' কবিতায় কবি সংঘাতের পথ ছেড়ে গান ও নান্দনিকতাকে আপন করে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। অস্ত্র মানুষকে পারস্পরিক ধ্বংসযজ্ঞে নিমজ্জিত করে এবং মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি করে। কবি এই হিংসাত্মক প্রতিযোগিতা থেকে মুক্তির পথ দেখিয়েছেন। তিনি সাধারণ মানুষের প্রতিনিধি হয়ে শান্তির বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন এবং ধাতব বর্ম পরিত্যাগ করে সংগীতের সুর-বর্ম গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন।



২. "গানের বর্ম আজ পরেছি গায়ে"— কোন প্রসঙ্গে কেন এই কথা বলা হয়েছে?

প্রসঙ্গ ও কারণ: আধুনিক যুদ্ধবাজ সমাজ ও তাদের ধ্বংসাত্মক মানসিকতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে কবি এই বক্তব্য রেখেছেন। সহস্র মানুষের প্রতিনিধি হয়ে কবি যুদ্ধ নয়, শান্তির পক্ষে দাঁড়িয়েছেন। তিনি গানের বর্ম পরিধান করার মাধ্যমে শুভ ও সুন্দরকে বরণ করে নিয়েছেন। গান মানুষের অন্তরে অন্যায় মোকাবিলার সাহস জোগায় এবং বেঁচে থাকার অনাবিল আনন্দ প্রদান করে— এই প্রত্যয় ব্যক্ত করতেই কবি কথাটি বলেছেন।



৩. "রক্ত মুছি শুধু গানের গায়ে"— একথা বলতে কবি কী বলতে চেয়েছেন?

তাৎপর্য: 'অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান' কবিতায় কবি সংগীতের মাধ্যমে জীবনের শুশ্রূষা ও ক্ষতের উপশম করতে চেয়েছেন। চারিদিকে ক্ষমতার লোভ, হিংসা ও রক্তপাতের আবহ দেখে কবি ব্যথিত হয়েছেন। তিনি সেই হিংস্রতার প্রতিরোধে গানের সুরকে আশ্রয় করেছেন এবং রক্তক্ষয়ী শোকের স্মৃতিকে গানে পরিণত করে মানবিকতার উত্তরণ ঘটাতে চেয়েছেন।



৪. "মাথায় কত শকুন বা চিল"— এই অংশের মধ্যে কোন জীবনসত্যকে তুলে ধরতে চেয়েছেন?

জীবনসত্য: যুদ্ধোন্মাদ সভ্যতার বিরুদ্ধে কবির তীব্র শ্লেষ ও প্রতিবাদ এই উক্তিতে ধরা পড়েছে। অস্ত্রের ব্যবহারের পরিণতি হিসেবে তিনি মাথার ওপর মৃত্যুর প্রতীক শকুন ও চিলদের ওড়া প্রত্যক্ষ করেছেন। কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের মতো আধুনিক সমাজের যুদ্ধক্ষেত্রও লাশের ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে, যেখানে স্বার্থপর সুবিধাবাদী শক্তিরা মানুষের বিনাশের অপেক্ষায় ওত পেতে থাকে— কবি এই রূঢ় সত্যকেই তুলে ধরেছেন।



৫. "আমার শুধু একটা কোকিল"— একথার মধ্য দিয়ে কবি কী বলতে চেয়েছেন?

কবির বক্তব্য: চারিদিকে শকুন-চিলের মতো হিংস্র ও স্বার্থান্বেষী শক্তির রাজত্ব থাকলেও কবির কাছে আশা ও সৃষ্টির প্রতীক হিসেবে একটি কোকিল রয়েছে। এই কোকিল সহস্র উপায়ে গান বাঁধে, যা কবির অন্তর্গত সৃজনশীল সত্তা ও সুন্দরের প্রতীক। অশুভের ঘনঘটার মধ্যেও সুরের এই ক্ষুদ্র সম্বলই অন্ধকার দূর করার অনন্ত শক্তি রাখে।



৬. "তোমায় নিয়ে বেড়াবে গান"— এই কথার তাৎপর্য কী?

তাৎপর্য: গানের কথা ও সুরের মাধ্যমে মানুষের মন সঙ্কীর্ণ স্বার্থপরতা ছেড়ে সর্বজনীন অনুভূতির সাথে যুক্ত হয়। গান মানুষের হৃদয়কে উদার ও প্রসারিত করে এবং প্রকৃতির সাথে নিবিড় যোগসূত্র গড়ে তোলে। হিংসা ভুলে মানুষ যখন সুরকে বরণ করে, তখন গান তাকে নদী ও গ্রামবাংলার সহজ-সরল জীবনপ্রবাহের কাছাকাছি পৌঁছে দেয়।



৭. "হাত নাড়িয়ে বুলেট তাড়াই"— বলতে কী বুঝিয়েছেন?

উত্তর: কবি অস্ত্রের প্রাণঘাতী ধাতব বুলেটকে গানের আত্মিক শক্তিতে প্রতিহত করার কথা বলেছেন। এখানে হাত নাড়িয়ে বুলেট তাড়ানো কোনো শারীরিক ক্রিয়া নয়, বরং মনুষ্যত্ব ও অহিংসার আত্মবিশ্বাসে ভর করে হিংস্র আক্রমণকে তুচ্ছজ্ঞান করার দৃঢ় সংকল্প। আঘাতের ভীতি অগ্রাহ্য করে নৈতিক শক্তিতে বলীয়ান মানুষের প্রতিবাদী মনোভাবই এখানে প্রকাশিত হয়েছে।



৪. রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর (মান – ৫)

১. 'অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান' কবিতার মূল বক্তব্য নিজের ভাষায় লেখ। অথবা, যুদ্ধবিরোধী কবিতা হিসেবে 'অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান' কবিতার বক্তব্য আলোচনা করো।

মূল বক্তব্য: জয় গোস্বামী রচিত 'অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান' কবিতাটি সমকালীন যুদ্ধোন্মাদনার বিরুদ্ধে এক বলিষ্ঠ নান্দনিক প্রতিবাদ। পেশিশক্তি ও হিংস্র অস্ত্রের আস্ফালনের বিপরীতে কবি সংগীত ও শিল্পের মানবিক শক্তিকে প্রতিরোধ হিসেবে তুলে ধরেছেন। কবি অনুভব করেছেন যে অস্ত্রের দাপট কখনো মানবসভ্যতার শেষ কথা হতে পারে না; মানুষের মিলন ও শুভচেতনার প্রতীক হল গান।।

অস্ত্র মানুষকে হত্যা ও রক্তপাতের দিকে ঠেলে দেয়, যার ফলে সমাজ পরিণত হয় চিল-শকুনের ভাগাড়ে। এই সংকটময় মুহূর্তে কবি কোনো হিংস্র হাতিয়ার না তুলে বরং গানের বর্ম গায়ে পরিধান করেন। গান তাঁকে সহস্র মানুষের শুভচেতনার সঙ্গে যুক্ত করে এবং অন্যায়কে অবলীলায় প্রতিহত করার নৈতিক সাহস জোগায়। কবিতার অন্তরালে গান হয়ে ওঠে এক নিষ্পাপ ময়ূরপালকধারী ঋষিবালকের মতো পবিত্র ও সুন্দর।। কবি বিশ্ববাসীকে হিংসার অস্ত্র নামিয়ে গানের পায়ে সমর্পণ করার আহ্বান জানিয়েছেন। রক্তপাত মুছে দিয়ে সুরের হাত ধরে মানবসমাজকে নদী ও পল্লীপ্রকৃতির স্নিগ্ধ অঙ্গনে ফিরিয়ে আনাই এই কবিতার মূল বাণী।।



২. "আমি এখন হাজার হাতে পায়ে/এগিয়ে আসি, উঠে দাঁড়ায়"— হাজার হাতে পায়ে এগিয়ে আসার তাৎপর্য কী? কবির কোন্ মনোভাব এখানে ধরা পড়েছে?

তাৎপর্য: 'অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান' কবিতায় কবি জয় গোস্বামী যৌথ প্রতিরোধের শক্তির কথা প্রকাশ করেছেন। সন্ত্রাস ও শোষণের বিরুদ্ধে একক ব্যক্তির প্রতিবাদ যখন সংগীতের মধ্য দিয়ে প্রসারিত হয়, তখন তা গণচেতনার রূপ নেয়। কবি নিজেকে একা মনে করেন না; সহস্র নিপীড়িত শান্তিকামী মানুষ তাঁর সাথে সমবেত হয়েছে। ইতিহাসের পাতায় যুগে যুগে সমবেত কণ্ঠে গাওয়া প্রতিবাদী গানই যে মুক্তির পথ দেখিয়েছে, সেই ঐক্যবদ্ধ জাগরণকে বোঝাতেই 'হাজার হাতে পায়ে এগিয়ে আসা'র কথা বলা হয়েছে।।

কবির মনোভাব: কবি অস্ত্রের ধ্বংসলীলার সামনে আত্মসমর্পণ করতে রাজি নন। তিনি বিশ্বাস করেন, সাম্রাজ্যবাদী ও যুদ্ধবাজদের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে গানই হল প্রতিরোধের প্রধান চালিকাশক্তি। বিনাশের বার্তার বিপরীতে বসন্তের কোকিল যেমন জীবনের জয়গান গায়, তেমনই সুরের শুদ্ধতা দিয়ে কবি সমাজের সমস্ত ক্ষত নিরাময় করতে চান। ঋষিবালকের মতো অহিংস রূপকে ধারণ করে তিনি মানুষকে প্রেমের ও শান্তির বন্ধনে আবদ্ধ করার আদর্শে অবিচল থাকেন।।