Madhyamik Bengali Suggestion 2027 (Wbbse Class 10)(প্রলয়োল্লাস)

Madhyamik Bengali Suggestion 2027 (WBBSE Class 10)

পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের (WBBSE) ২০২৭ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের জন্য বাংলা প্রথম ভাষার সম্ভাব্য এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নাবলির সম্পূর্ণ তালিকা নিচে দেওয়া হলো। পাঠ্যবই খুঁটিয়ে পড়ার পাশাপাশি এই নির্বাচিত প্রশ্নগুলি প্রস্তুত করলে পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বর তোলা সহজ হবে।

Bengali Suggestion Banner

মাধ্যমিক বাংলা সাজেশন ২০২৭: সম্পূর্ণ অধ্যায়ভিত্তিক প্রস্তুতি নির্দেশিকা

পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের (WBBSE 2027) মাধ্যমিক পরীক্ষায় বাংলা একটি অন্যতম প্রধান ও বেশি নম্বর তোলার মতো বিষয়। সঠিক পরিকল্পনা, প্রশ্নকাঠামো বোঝা এবং বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলো নিয়মিত অনুশীলন করলে বাংলায় ৯০ শতাংশের বেশি নম্বর পাওয়া কঠিন নয়। নিচে পাঠ্যক্রমের প্রতিটি বিভাগ থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও প্রস্তুতির বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হলো।

সেরা প্রস্তুতি কৌশল: মাধ্যমিক বাংলা পরীক্ষায় ভালো নম্বরের জন্য সেরা প্রস্তুতি নির্দেশিকা। গল্প, কবিতা, নাটক, ব্যাকরণ ও প্রবন্ধ রচনার গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এবং নম্বর তোলার সহজ কৌশল জানুন এখানে।

প্রলয়োল্লাস, বহুরূপী, আফ্রিকা, অভিষেক, কোনি এবং ব্যাকরণ ও প্রবন্ধ রচনার গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নাবলি বিশেষভাবে প্রস্তুত রাখুন।


ট্যাগ / কি-ওয়ার্ডস: WBBSE Class 10 Bengali suggestion 2027, মাধ্যমিক বাংলা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, Madhyamik Bengali question paper, প্রলয়োল্লাস কবিতা সাজেশন

প্রলয়োল্লাস — কাজী নজরুল ইসলাম

১. বহু বিকল্পভিত্তিক প্রশ্নোত্তর [MCQ] (মান – ১)

১. 'কেতন' শব্দের আভিধানিক অর্থ হল—

[A] ধ্বজা বা পতাকা [B] বেলুন [C] ঘরের পর্দা [D] সামিয়ানা
উত্তর: [A] ধ্বজা বা পতাকা


২. 'প্রলয়োল্লাস' শব্দের আভিধানিক অর্থ হল—

[A] ভয়ংকরের চণ্ডরূপ [B] ধ্বংসের আনন্দ [C] জয়ধ্বনি [D] কালবৈশাখীর ঝড়
উত্তর: [B] ধ্বংসের আনন্দ


৩. "রক্ত তাহার কৃপাণ ঝোলে"— 'কৃপাণ' শব্দের অর্থ—

[A] ছোরা [B] ভোজালি [C] খাড়া [D] কৃপণ
উত্তর: [C] খাড়া


৪. "আসছে এবার...."— কে আসছে?

[A] বিশ্বমাতা [B] প্রলয়ংকর শিব [C] জাঠ কালাপাহাড় [D] অত্যাচারী ব্রিটিশ শাসক
উত্তর: [B] প্রলয়ংকর শিব


৫. "আসছে এবার অনাগত"— 'অনাগত' বলতে বোঝানো হয়েছে—

[A] কালবৈশাখীকে [B] পর্তুগিজ দস্যুদের [C] জাঠ-কালাপাহাড়কে [D] ভয়ংকরকে
উত্তর: [D] ভয়ংকরকে


৬. "________ রবির বহ্নিজ্বালা ভয়াল তাহার নয়নকোটায়।" [শূন্যস্থান পূরণ করো]

[A] দ্বাদশ [B] ত্রয়োদশ [C] একাদশ [D] পঞ্চদশ
উত্তর: [A] দ্বাদশ


৭. "সিন্ধুপারের সিংহদ্বারে ধমক হেনে ভাঙল আগল”— কে আগল ভাঙে?

[A] বিশ্বজননী [B] দেশের সাধারণ মানুষ [C] জাতীয়তাবাদী [D] প্রলয়-নেশার নৃত্য পাগল শিব
উত্তর: [D] প্রলয়-নেশার নৃত্য পাগল শিব


৮. "দিগম্বরের জটায় হাসে শিশু চাঁদের কর...' 'চাঁদের হাসির' অর্থ—

[A] ঝড়বৃষ্টি থেমে গেছে [B] নতুন সৃষ্টির সুখ [C] অন্ধকার ঘনিয়ে আসছে [D] অন্ধকার দূর হয়েছে
উত্তর: [B] নতুন সৃষ্টির সুখ


৯. 'প্রলয়োল্লাস' কবিতাটির কবি হলেন—

[A] কাজী নজরুল ইসলাম [B] অক্ষয়কুমার বড়াল [C] অতুলপ্রসাদ সেন [D] রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর: [A] কাজী নজরুল ইসলাম


১০. "সপ্ত মহাসিন্ধু দোলে/কপোলতলে!"— 'কপোল' শব্দের অর্থ—

[A] গণ্ডদেশ বা গাল [B] গলা [C] চিবুক [D] কপাল
উত্তর: [A] গণ্ডদেশ বা গাল


১১. কবি কাজী নজরুল ইসলাম যে দেশের জাতীয় কবি হিসেবে স্বীকৃত—

[A] ভারত [B] বাংলাদেশ [C] নেপাল [D] শ্রীলঙ্কা
উত্তর: [B] বাংলাদেশ


১২. "তোরা সব জয়ধ্বনি কর!"— 'তোরা' বলতে বোঝানো হয়েছে—

[A] ভারতীয় নারীদের [B] ভারতীয় পুরুষদের [C] কুসংস্কারে আচ্ছন্ন ভারতীয়দের [D] ভারতীয় শিক্ষিত পণ্ডিতদের
উত্তর: [C] কুসংস্কারে আচ্ছন্ন ভারতীয়দের


১৩. 'হ্রেষা' শব্দের আভিধানিক অর্থ হল—

[A] সারমেয় অর্থাৎ কুকুরের ডাক [B] গোরুর ডাক [C] হাতির ডাক [D] ঘোড়ার ডাক
উত্তর: [D] ঘোড়ার ডাক


১৪. "সর্বনাশী জ্বালামুখী ________ তার চামর দুলায়।" [শূন্যস্থান পূরণ করো]

[A] আগ্নেয়গিরি [B] ধূমকেতু [C] দাবানল [D] কৃপাণ
উত্তর: [B] ধূমকেতু


১৫. 'তোরা সব জয়ধ্বনি কর!"— কবি জয়ধ্বনি দিতে বলেছেন যার উদ্দেশ্যে—

[A] দেশমাতার [B] প্রকৃতির [C] মানুষের [D] ধ্বংস ও সৃষ্টির দেবতা শিবের
উত্তর: [D] ধ্বংস ও সৃষ্টির দেবতা শিবের


১৬. 'মাভৈঃ' শব্দটির আভিধানিক অর্থ হল—

[A] ভয় না পাওয়া [B] ভয়ে মিটিয়ে থাকা [C] ভয়কে উপেক্ষা করা [D] ভয়ে পালিয়ে যাওয়া
উত্তর: [A] ভয় না পাওয়া


১৭. "বজ্রশিখার মশাল জ্বেলে আসছে ভয়ংকর।" "ভয়ংকর' রূপটি হল—

[A] শ্যামাকালীর [B] মহাকালের চণ্ডরূপ [C] মেঘনাদের [D] ধূম্রাবতীর
উত্তর: [B] মহাকালের চণ্ডরূপ


১৮. "তোরা সব জয়ধ্বনি কর!"— পঙ্ক্তিটি ব্যবহৃত হয়েছে 'প্রলয়োল্লাস' কবিতায়—

[A] ১৭ বার [B] ১৮ বার [C] ১৯ বার [D] ২০ বার
উত্তর: [C] ১৯ বার


মাধ্যমিক বাংলা: অন্যান্য সমস্ত অধ্যায়


২. অতিসংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্নোত্তর (মান – ১)

১. "তোরা সব জয়ধ্বনি কর।"— পঙ্ক্তিটিতে কাদের জয়ধ্বনি করার কথা বলা হয়েছে?

উত্তর: কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থের প্রথম কবিতা 'প্রলয়োল্লাস'-এর প্রশ্নোদ্ভূত পঙ্ক্তিটিতে পরাধীন দেশের নাগরিকদের জয়ধ্বনি করার কথা বলা হয়েছে।


২. "ওই নূতনের কেতন ওড়ে..."— নূতনের কেতন ওড়ার সংবাদটি কে বহন করে আনে?

উত্তর: 'নূতনের কেতন ওড়ার' সংবাদটি কালবৈশাখীর ঝড় বহন করে আনে।


৩. "তোরা সব জয়ধ্বনি কর।"— পঙ্ক্তিটিতে কার জয়ধ্বনির কথা বলা হয়েছে?

উত্তর: 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থের প্রথম কবিতা 'প্রলয়োল্লাস'-এ ধ্বংস ও সৃষ্টির দেবতার জয়ধ্বনি করার কথা বলা হয়েছে।


৪. "...ধূমকেতু তার চামর দুলায়।"— 'প্রলয়োল্লাস' কবিতায় ধূমকেতুকে কী কী বিশেষণে ভূষিত করা হয়েছে?

উত্তর: 'প্রলয়োল্লাস' কবিতায় 'ধূমকেতু'-কে 'সর্বনাশী' ও 'জ্বালামুখী' বিশেষণে ভূষিত করা হয়েছে।


৫. "আসছে নবীন!"— নবীনের আসার উদ্দেশ্যটি লেখো।

উত্তর: পরাধীন ভারতবর্ষের জীবনহারা, প্রাণহীন, জড়, অসুন্দরকে বিনাশ করতেই নবীনের শুভাগমন— এ কথাটিই ফুটে উঠেছে কাজী নজরুল ইসলামের 'প্রলয়োল্লাস' কবিতায়।


৬. "সপ্ত মহাসিন্ধু দোলে/কপোলতলে।"— কার কপোলতলে সপ্ত মহাসিন্ধু দুলে ওঠে?

উত্তর: পঙ্ক্তিটিতে ভাঙনের দেবতা দেবাদিদেব মহাদেবের একফোঁটা চোখের জলে তাঁরই গালে সাতসমুদ্র দুলে ওঠার কথা বলা হয়েছে।


৭. "ওরে ওই হাসছে ভয়ংকর।"— ভয়ংকরের হাসির তাৎপর্য লেখো।

উত্তর: 'ভয়ংকর' এসে পরাধীন ভারতবর্ষের সমস্ত রকম অরাজকতার অবসান ঘটাবে, তারপরেই নতুন সাজে হবে নবসৃষ্টি। তাই তার ভয়ংকরতা প্রদর্শনের জন্য অট্টহাসিতে ফেটে পড়ছে 'ভয়ংকর'।


৮. "মহাকালের চণ্ড-রূপে"— মহাকাল কে?

উত্তর: 'মহাকাল' হলেন দেবাদিদেব মহাদেব, যিনি শিব ও রুদ্র, রক্ষক ও সংহারক।


৯. 'প্রলয়োল্লাস' কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের কোন্ কাব্যগ্রন্থ থেকে পাঠ্যাংশে সংকলিত হয়েছে?

উত্তর: 'প্রলয়োল্লাস' কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থ থেকে পাঠ্যাংশে সংকলিত হয়েছে। কাব্যগ্রন্থটির প্রকাশকাল ১৯২২ খ্রিস্টাব্দ।


১০. "ভেঙে আবার গড়তে জানে সে চিরসুন্দর।”— কী ভেঙে আবার নতুন করে গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে?

উত্তর: কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থের প্রথম কবিতা 'প্রলয়োল্লাস' কবিতায় জীর্ণ, পুরাতন, গতানুগতিকতাকে ভেঙে যাবতীয় প্রাণহীনতা, নিশ্চলতার অবসান ঘটিয়ে আবার নতুন সম্ভাবনাময় জীবন গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে প্রশ্নোদ্ভূত পঙ্ক্তিটিতে।


১১. "ওই আসে সুন্দর!”— সুন্দর কীভাবে আসে?

উত্তর: কুসংস্কারাচ্ছন্ন, সাম্প্রদায়িকতার গোঁড়ামিতে পরিপূর্ণ এই সমাজকে ধ্বংস করে নবসৃষ্টি ঘটাতে সুন্দর আসে কাল-ভয়ংঙ্করের রূপে।


মাধ্যমিক বাংলা: অন্যান্য সমস্ত অধ্যায়


৩. সংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্নোত্তর (মান – ৩)

১. 'ধ্বংস দেখে ভয় কেন তোর'— কে কোন প্রসঙ্গে এই উক্তি করেছেন? কেন তিনি ভয় করতে নিষেধ করেছেন?

প্রসঙ্গ: কবি কাজী নজরুল ইসলাম 'প্রলয়োল্লাস' কবিতায় আলোচ্য উক্তিটি করেছেন। কল্পনেত্রে অনুভব করেছেন ভাঙনের দেবতা সবকিছু ভেঙে আবার নতুন করে সৃষ্টি করবেন, সেই প্রসঙ্গে আলোচ্য উক্তি।
ভয় না করার কারণ: কবি মনে করেন, মহাকালকে দেখে ভয় পাবার দরকার নেই। ইংরেজ শাসিত ভারতে অনাচার, অবিচার ও নৃশংস অত্যাচার দেখে ব্যথিত কবি নজরুল ভাঙনের দেবতা মহাকাল বা রুদ্রদেবকে আহ্বান করেছেন। তিনি ধ্বংসের দেবতা। রুদ্রমূর্তিতে তাঁর আবির্ভাব। একদিকে তিনি ভাঙেন, অন্যদিকে নতুন করে সৃষ্টি করেন। তাই তাঁকে ভয় না করে তাঁর জয়ধ্বনি করার কথা বলেছেন।।



২. 'এবার মহানিশার শেষে আসবে ঊষা অরুণ হেসে'— এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে কবি কোন ইঙ্গিত দিয়েছেন?

কবির মন্তব্য ও ইঙ্গিত: নজরুল লক্ষ্য করেছেন সারা পৃথিবী জুড়ে ভাঙন ধরেছে। পরাধীনতা এবং সামাজিক শোষণ-বঞ্চনার মধ্য দিয়ে যে অন্ধকার নেমে এসেছে, তার অবসান ঘটবে। সভ্যতার নতুন সূর্যোদয় ঘটবে। মহাদেব ধ্বংসের দেবতা হলেও তাঁর কপালে থাকে চাঁদ। একইভাবে ধ্বংসের মধ্যে সুন্দরকে বারবার প্রত্যক্ষ করেছেন বলে কবি প্রত্যাশা করেছেন যে, সেই চাঁদের আলোয় সমাজ পরিপূর্ণ হয়ে উঠবে এবং নবপ্রভাতের অরুণ আলোয় সমস্ত অন্ধকার দূর হবে।



৩. 'দিগম্বরের জটায় হাসে শিশু চাঁদের কর'— প্রসঙ্গটি উল্লেখের কারণ লেখ।

প্রসঙ্গ উল্লেখের কারণ: দিগম্বর অর্থাৎ মহাদেব নটরাজ মূর্তিতে ধ্বংসের তাণ্ডব সৃষ্টি করেন। কিন্তু তা আসলে সৃষ্টিকে রক্ষা করার জন্য। দিগম্বরের ললাটে থাকে অমল চাঁদ, যা সব হারানোর মধ্যেও সুন্দরের প্রতিষ্ঠা করে। স্বাধীনতা ও সমাজ রূপান্তরের স্বপ্ন দেখা কবি এই প্রসঙ্গটি উল্লেখ করেছেন কারণ বিপ্লবের পথে ধ্বংস অনিবার্য হলেও তা আসলে চিরসুন্দরের অভিষেককে নিশ্চিত করে।।



৪. 'সর্বনাশী জ্বালামুখী ধূমকেতু তার চামর দুলায়'— কোন প্রসঙ্গে একথা বলা হয়েছে লেখ।

প্রসঙ্গ: সংগ্রামের পথ কখনো ফুলে ঢাকা নয়। স্বাধীনতার জন্য মানুষের যে সংগ্রাম, তার পথ তৈরি হয় মৃত্যু আর রক্তপাতের মধ্য দিয়ে। যে কারণে কবি তাঁর কল্পনার রুদ্ররূপী কালীর কথা স্মরণ করেছেন। মহাদেবী কালী যেমন সবকিছুকে ধ্বংস করে নতুন করে সৃষ্টি করেন, তেমনই নতুন প্রলয়ের মধ্য দিয়ে আগামী দিনের কাঙ্ক্ষিত মুক্ত পৃথিবী সৃষ্টি হবে। এখানে কবি সে কথাই প্রকাশ করেছেন।



৪. রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর (মান – ৫)

১. 'প্রলয়োল্লাস' কবিতার মূল বক্তব্য নিজের ভাষায় লেখ।

মূল বক্তব্য: বাংলা সাহিত্যের আঙিনায় কবি নজরুল ইসলামের আবির্ভাব ধূমকেতুর মতো অপ্রত্যাশিত ও আকস্মিক। তিনি ঝড়ের বেগে রীতিমতো প্রলয় সৃষ্টি করে পরাধীন জাতির মুক্তির স্বপ্নকে আলোকিত করেছিলেন।।

কবি নজরুল 'প্রলয়োল্লাস' নামাঙ্কিত কবিতার সূচনাতে কালবৈশাখী ঝড়কে আহ্বান করেছেন। তিনি বিশ্বাস করেন প্রচণ্ড গতিতে যেমন করে কালবৈশাখী সবকিছু ভেঙে চুরে দেয়, তেমন করে নটরাজ শিব সবকিছু ভেঙে আবার নতুন জগৎ তৈরি করবেন। পুরাণের নটরাজ শিবের রুদ্র মূর্তিকে কবি প্রলয়োল্লাস কবিতায় বিশেষ তাৎপর্যে ব্যবহার করেছেন। কবি হিসেবে নজরুল বিদ্রোহী। তাঁর দুর্দান্ত বিদ্রোহে সমাজের সমস্ত অবিচার, অত্যাচার ও অনাচার দূর হবে। তিনি সেকেলে সংস্কার ও প্রাচীন চিন্তাধারা যেমন বদলাতে চেয়েছিলেন, তেমন ব্রিটিশ শাসনের নাগপাশে আবদ্ধ মানুষের দুর্দশা থেকেও মুক্তি চেয়েছিলেন।

এজন্য তিনি বলেছেন— অনাগত মহাকাল এমনভাবে এগিয়ে আসবে যার ফলে সিন্ধুপারের সিংহদ্বারের আগল ভেঙে পড়বে। মৃত্যু গহন অন্ধকারে এক সময় জ্বলে উঠবে বজ্রশিখার মশাল। আর তখন সমস্ত অশুভ শক্তি দূর হয়ে যাবে। নজরুল মনে করেন সর্বনাশী জ্বালামুখী ধূমকেতুর মতো সহসা আবির্ভূত হয়ে রক্ত-কৃপাণ হাতে অট্টহাসিতে মুখর হয়ে রুদ্র রূপ শত্রুর বুক বিদীর্ণ করবেন। তাঁর অট্টহাসিতে কম্পিত হবে আসুরিক শক্তি। তিনি পৌরাণিক কল্পনায় শিবের রুদ্রমূর্তিকে বিশেষভাবে স্মরণ করে এই বার্তা দিতে চেয়েছেন যে, অন্ধকারের বন্ধ কূপে এবার আশার আলো পৌঁছে যাবে এবং অত্যাচারী রাজশক্তি ধীরে ধীরে লুপ্ত হবে। জেগে উঠবে চিরসুন্দর। প্রলয়োল্লাস কবিতায় প্রলয়ের মধ্যে সৃষ্টি উল্লাস দেখেছেন কবি, তাই এই কবিতা ধ্বংসের শেষে সৃষ্টির আনন্দোল্লাসের এক অনন্য প্রতিচ্ছবি।



২. 'দ্বাদশ রবির বহ্নি জ্বালা ভয়াল তাহার নয়নকোটায়'— মন্তব্যটির ব্যাখ্যা করো।

ব্যাখ্যা: পরাধীন ভারতের মুক্তির জন্য বিপ্লব ও আন্দোলন এক অত্যন্ত কঠিন সংগ্রাম। কবি এখানে প্রলয়দেবতার চোখের ভয়াল দৃষ্টিকে পৌরাণিক দ্বাদশ সূর্যের প্রলয়ঙ্কর বহ্নিজ্বালার সঙ্গে তুলনা করেছেন। সেই প্রলয়দৃষ্টির আগুনে ভস্মীভূত হবে সমস্ত অন্যায় ও শোষণ। সূর্যের সেই অগ্নিশিখা যেন বিপ্লবের বার্তাবাহক। একদিকে অগ্নির উত্তাপ, অন্যদিকে তা মেঘের থেকে নেমে আসা বৃষ্টির মাধ্যমে মহাসিন্ধুর উত্তাল রূপ ধারণ করে। এই দুর্যোগের ঘনঘটা ও ভয়াবহতার মধ্য দিয়েই প্রকৃতির রুদ্ররূপ নতুনের আগমন ও বিজয়ের জয়ধ্বনি ঘোষণা করে।



মাধ্যমিক বাংলা: অন্যান্য সমস্ত অধ্যায়


৩. 'বজ্রশিখার মশাল জ্বেলে আসছে ভয়ংকর'— ভয়ংকর বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে? তার সম্পর্কে আর কোন বিশেষণ ব্যবহার হয়েছে? তার এমন রূপে আগমনের কারণ কবিতা অবলম্বনে লেখ।

ভয়ংকর: কবি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'প্রলয়োল্লাস' কবিতায় ভয়ংকর বলতে বোঝানো হয়েছে ভয় সৃষ্টিকারী প্রলয়ংকর বিপ্লবী শক্তিকে। প্রচলিত অচল সমাজব্যবস্থায় জরাজীর্ণতাকে বিনাশ করতে যে প্রলয় শক্তির আগমন ঘটে, যার দর্শনে দুর্বল মানবহৃদয় আতঙ্কিত হয়ে ওঠে, এখানে সেই রুদ্র সত্তাকে 'ভয়ংকর' বলে অভিহিত করা হয়েছে।।

ভয়ংকরের বিশেষণ: কবি ভয়ংকরকে অন্য যে বিশেষণে ভূষিত করেছেন তা হল— "প্রলয়-নেশার নৃত্যপাগল"। এখানে রূপক অর্থে মহাদেবের চণ্ডরূপকে চিহ্নিত করা হয়েছে।

আগমনের কারণ: প্রচলিত সমাজব্যবস্থায় মানুষ অভ্যস্ত হয়ে জড়বৎ জীবনযাপন করে, নতুনকে সহজে বরণ করতে চায় না। ইংরেজ শাসনে শৃঙ্খলিত ভারতমাতার কোটি কোটি সন্তান পরাধীনতা ও অজ্ঞানতার অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিল। এই অন্ধকারকে ছিন্ন করে স্বাধীনতার আলোকে দেশকে উদ্ভাসিত করতেই মহাকালের রূপ নিয়ে ভয়ংকরের আগমন। কালপ্রবাহে পুরাতন ও জীর্ণকে ধ্বংস করে বজ্রের শিখার মতো আলোকবর্তিকা নিয়ে তিনি আবির্ভূত হয়েছেন, যাতে অন্তরের অজ্ঞানতা দূর করে জাতিকে মুক্তির দীপ্ত পথে পরিচালিত করা যায়।