Madhyamik Bengali Suggestion 2027 (Wbbse Class 10)(সিন্ধুতীরে)

Madhyamik Bengali Suggestion 2027 (WBBSE Class 10)

পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের (WBBSE) ২০২৭ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের জন্য বাংলা প্রথম ভাষার সম্ভাব্য এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নাবলির সম্পূর্ণ তালিকা নিচে দেওয়া হলো। পাঠ্যবই খুঁটিয়ে পড়ার পাশাপাশি এই নির্বাচিত প্রশ্নগুলি প্রস্তুত করলে পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বর তোলা সহজ হবে।

Bengali Suggestion Banner

মাধ্যমিক বাংলা সাজেশন ২০২৭: সম্পূর্ণ অধ্যায়ভিত্তিক প্রস্তুতি নির্দেশিকা

পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের (WBBSE 2027) মাধ্যমিক পরীক্ষায় বাংলা একটি অন্যতম প্রধান ও বেশি নম্বর তোলার মতো বিষয়। সঠিক পরিকল্পনা, প্রশ্নকাঠামো বোঝা এবং বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলো নিয়মিত অনুশীলন করলে বাংলায় ৯০ শতাংশের বেশি নম্বর পাওয়া কঠিন নয়। নিচে পাঠ্যক্রমের প্রতিটি বিভাগ থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও প্রস্তুতির বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হলো।

সেরা প্রস্তুতি কৌশল: মাধ্যমিক বাংলা পরীক্ষায় ভালো নম্বরের জন্য সেরা প্রস্তুতি নির্দেশিকা। গল্প, কবিতা, নাটক, ব্যাকরণ ও প্রবন্ধ রচনার গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এবং নম্বর তোলার সহজ কৌশল জানুন এখানে।

সিন্ধুতীরে, পথের দাবী, অভিষেক, প্রলয়োল্লাস, বহুরূপী এবং ব্যাকরণ ও নির্মিতির গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নাবলি বিশেষভাবে প্রস্তুত রাখুন।


ট্যাগ / কি-ওয়ার্ডস: WBBSE Class 10 Bengali suggestion 2027, মাধ্যমিক বাংলা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, Madhyamik Bengali question paper, সিন্ধুতীরে কবিতা সাজেশন

সিন্ধুতীরে — সৈয়দ আলাওল

১. বহু বিকল্পভিত্তিক প্রশ্নোত্তর [MCQ] (মান – ১)

১. "বুঝি ________ নাও ভাঙ্গিল প্রবল বাও।" [শূন্যস্থান পূরণ করো]

[A] সমুদ্রের [B] নদীর [C] সাগরের [D] মহাসাগরের
উত্তর: [A] সমুদ্রের


২. "পিতার পুণ্যের ফলে মোহর ভাগ্যের বলে/বাহুরক কন্যার জীবন।” 'বাহুরক' শব্দের অর্থ—

[A] চলে যাক [B] ফিরে আসুক [C] সফল হোক [D] স্বস্তিপাক
উত্তর: [B] ফিরে আসুক


৩. "সিন্ধু তীরে রহিছে মাঞ্জুস।"— 'মাঞ্জুস' শব্দের অর্থ হল—

[A] নৌকো [B] পান্সি [C] ভেলা [D] কাঠের গুঁড়ি
উত্তর: [C] ভেলা


৪. 'হীন আলাওল সুরচন'— কবিতার মধ্যে কবির আত্মপরিচয় দানের এই রীতিকে বলা হয়—

[A] উপস্থাপনা [B] গৌরচন্দ্রিকা [C] উপসংহার [D] ভণিতা
উত্তর: [D] ভণিতা


৫. "দেখি এক দিব্যস্থান"— দিব্যস্থানটি কোথায় অবস্থিত?

[A] গঙ্গোত্রীর গোমুখ গুহায় [B] সিন্ধুতীরে [C] গোদাবরী নদীর তীরে [D] পর্বতপ্রান্তে
উত্তর: [B] সিন্ধুতীরে


৬. পদ্মাবতী যাঁর শাপে স্বর্গভ্রষ্ট হয়েছিলেন বলে পদ্মা অনুমান করেছিলেন—

[A] জরাৎকারু মুনি [B] অগ্নিদেব [C] ব্যাসদেব [D] দেবরাজ ইন্দ্র
উত্তর: [D] দেবরাজ ইন্দ্র


৭. 'পদ্মাবতী' কাব্য যে কাব্যের অনুবাদ, সেটি হল—

[A] সেকেন্দারনামা [B] তোহফা [C] পদুমাবৎ [D] হপ্তপয়কর
উত্তর: [C] পদুমাবৎ


৮. 'সিন্ধুতীরে' কবিতাটির রচয়িতা হলেন—

[A] সৈয়দ আলাওল [B] সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ [C] জসীমউদ্দিন [D] কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর: [A] সৈয়দ আলাওল


৯. 'ইন্দ্রশাপে বিদ্যাধরি'— বিদ্যাধরী হলেন—

[A] ইন্দ্রের স্ত্রী [B] স্বর্গের গায়িকা অপ্সরী [C] দেবীলক্ষ্মী [D] দেবী সরস্বতী
উত্তর: [B] স্বর্গের গায়িকা অপ্সরী


১০. সৈয়দ আলাওল যে সময়কার কবি তা হল—

[A] পঞ্চদশ শতক [B] ষোড়শ শতক [C] অষ্টাদশ শতক [D] সপ্তদশ শতক
উত্তর: [D] সপ্তদশ শতক


১১. "অতি মনোহর দেশ"— বলতে বোঝানো হয়েছে যে দেশকে—

[A] সিংহলকে [B] রেঙ্গুনকে [C] সমুদ্রের পাশে পার্বত্য অঞ্চলকে [D] সুন্দরবনের উপকূলভাগকে
উত্তর: [A] সিংহলকে (বিকল্প অনুযায়ী সমুদ্রের পাশে পার্বত্য অঞ্চলকে চিহ্নিত)


১২. "ভাঙ্গিল প্রবল বাও"— 'বাও' শব্দের অর্থ—

[A] বায়ু [B] বজ্র [C] সমুদ্রস্রোত [D] নদীর বান
উত্তর: [A] বায়ু


১৩. "নিপতিতা চেতন রহিত"— পদ্মাবতী চেতনা হারিয়েছে যে কারণে—

[A] সমুদ্রের ঝড়-ঝঞ্ঝায় [B] প্রশান্ত মহাসাগরীয় সুনামিতে [C] গভীর বনের দাবানলে [D] স্বামীর জন্য দুশ্চিন্তায়
উত্তর: [A] সমুদ্রের ঝড়-ঝঞ্ঝায়


১৪. "মনেতে কৌতুক বাসি...."— পদ্মার মনে কৌতূহল জাগার কারণ—

[A] তিনি সমুদ্রতীরে একটি মাঞ্জস দেখতে পেয়েছিলেন [B] তিনি সমুদ্রতীরে পশুদের আওয়াজ শুনেছিলেন [C] তিনি সমুদ্রতীরে পাখিদের কলরব শুনেছিলেন [D] তিনি সমুদ্রতীরে একটি পর্বত লক্ষ করেছিলেন
উত্তর: [A] তিনি সমুদ্রতীরে একটি মাঞ্জস দেখতে পেয়েছিলেন


১৫. "কন্যারে ফেলিল যথা"— কন্যাকে কোথায় ফেলে দেওয়া হয়েছিল?

[A] সাগরের পারে [B] ঘরের মেঝেতে [C] গভীর জঙ্গলে [D] জলের মাঝে
উত্তর: [D] জলের মাঝে


১৬. "কন্যারে ফেলিল যথা”— এই 'কন্যা'টি হলেন—

[A] রম্ভা [B] পদ্মাবতী [C] অনুসূয়া [D] বেহুলা
উত্তর: [B] পদ্মাবতী


১৭. 'আছয়' শব্দের গদ্যরূপ হল—

[A] ছয় সংখ্যা [B] আশ্রয় [C] আছে [D] নিরাশ্রয়
উত্তর: [C] আছে


১৮. 'চিকিৎসিমু' শব্দের গদ্যরূপ হল—

[A] চিকিৎসা [B] চিকিৎসক [C] চিকিৎসিত [D] চিকিৎসা করব
উত্তর: [D] চিকিৎসা করব


১৯. সমুদ্রনৃপতি সুতা হলেন—

[A] পদ্মাবতী [B] উমা [C] বারুণী [D] লক্ষ্মী
উত্তর: [A] পদ্মাবতী (কাব্য অনুযায়ী সমুদ্রকন্যা পদ্মা)


২০. অচৈতন্য পদ্মাবতীর চেতনা ফিরে পাবার জন্য যাঁর কাছে কৃপা প্রার্থনা করা হয়েছিল—

[A] ব্রহ্মার কাছে [B] ভাগ্যদেবতার কাছে [C] নিরঞ্জনের কাছে [D] দেবাদিদেব মহাদেবের কাছে
উত্তর: [C] নিরঞ্জনের কাছে


মাধ্যমিক বাংলা: অন্যান্য সমস্ত অধ্যায়


২. অতিসংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্নোত্তর (মান – ১)

১. "রূপে অতি রম্ভা জিনি"— রম্ভার পরিচয় দাও।

উত্তর: রম্ভা হলেন স্বর্গের একজন অপরূপ অপ্সরা। অনন্তযৌবনা এই অপ্সরার সৌন্দর্য ও সংগীত পারদর্শিতা সম্পর্কে বিভিন্ন পুরাণ ও মহাকাব্যে নানা কাহিনি প্রচলিত আছে।


২. "মধ্যেতে যে কন্যাখানি”— কোন্ কন্যার কথা বলা হয়েছে?

উত্তর: 'সিন্ধুতীরে' কাব্যাংশে সমুদ্রকন্যা পদ্মা উদ্যান-ভ্রমণে এসে সংজ্ঞাহীন পঞ্চকন্যাকে আবিষ্কার করলেন। তাঁদের মধ্যে একেবারে মধ্যিখানে ছিলেন স্বর্গের অপ্সরীর ন্যায় সুন্দরী সিংহল রাজকন্যা পদ্মাবতী। এখানে তাঁর কথাই বলা হয়েছে।


৩. "সিন্ধুতীরে দেখি দিব্যস্থান"— সিন্ধুতীরকে দিব্যস্থান বলার কারণ কী?

উত্তর: 'দিব্য' শব্দের অর্থ মনোহর, উৎকৃষ্ট। সমুদ্রকন্যা পদ্মার আবাসটি স্বর্গভূমির মতো মনোহর এবং উৎকৃষ্ট, সে কারণে সিন্ধুতীরের এই দ্বীপটিকে দিব্যস্থান বলে কবি আখ্যায়িত করেছেন।


৪. "পিতার পুণ্যের ফলে"— পিতার পুণ্যফল বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

উত্তর: 'পিতা' অর্থাৎ সমুদ্রের পুণ্যফলের কথা উল্লেখ করেছেন সমুদ্রকন্যা পদ্মা। আলাওলের কাব্যগ্রন্থে সমুদ্র এক দেবর্ষি। তাঁর বহু পুণ্যকর্ম আছে, যার ফলে পদ্মাবতীর প্রাণ ফিরে আসবে— কবি সেই কথাই বোঝাতে চেয়েছেন।


৫. "সখীসবে আজ্ঞা দিল..."— পদ্মা তাঁর সখীদের কী আজ্ঞা দিয়েছিলেন?

উত্তর: কবি সৈয়দ আলাওল রচিত 'সিন্ধুতীরে' পাঠ্যাংশে সমুদ্রকন্যা পদ্মা তাঁর সখীদের পদ্মাবতীকে বস্ত্রে আচ্ছাদিত করে বাগানে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা ও শুশ্রূষা করার আজ্ঞা দিয়েছিলেন।


৬. 'চিত্রের পোতলি সমা'— একথা বলার কারণ কী?

উত্তর: চলিত বাংলা ভাষায় অত্যন্ত রূপবতী বোঝাতে বলা হয় 'পটের ছবির মতো সুন্দর'। রানি পদ্মাবতীর সৌন্দর্য ও রূপলাবণ্যে মোহিত সমুদ্রকন্যা পদ্মা তাঁকে চিত্রের পুতুলের মতো সুন্দরী বলে কল্পনা করেছেন।


৭. 'পদ্মাবতী' কাব্যে সিংহল রাজকন্যা পদ্মাবতীর প্রিয় শুকপাখিটির নাম কী ছিল?

উত্তর: 'পদ্মাবতী' কাব্যে সিংহলরাজকন্যা পদ্মাবতীর প্রিয় শুকপাখিটির নাম ছিল হীরামন।


৮. 'সমুদ্রনৃপতি সুতা' বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে?

উত্তর: 'সিন্ধুতীরে' কবিতায় 'সমুদ্রনৃপতি' অর্থাৎ সমুদ্ররাজার 'সুতা' বা কন্যা বলতে এখানে পদ্মা নামক গুণবতী নারীকে বোঝানো হয়েছে। (জায়সীর মূল গ্রন্থে এঁর নাম লক্ষ্মী)।


৯. "কন্যারে ফেলিল যথা"— 'কন্যা'টি কে?

উত্তর: কবি সৈয়দ আলাওল রচিত 'পদ্মাবতী' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত 'পদ্মাসমুদ্র' খণ্ড থেকে নেওয়া 'সিন্ধুতীরে' পাঠ্যাংশের কন্যাটি হলেন সিংহলরাজ গন্ধর্বসেনের কন্যা এবং চিতোররাজ রত্নসেনের দ্বিতীয়া মহিষী পদ্মাবতী।


১০. পঞ্চকন্যা কারা, তাদের চিকিৎসা চলে কতক্ষণ?

উত্তর: কবি সৈয়দ আলাওল রচিত 'সিন্ধুতীরে' কবিতায় পঞ্চকন্যা হলেন রাজবধূ পদ্মাবতী ও তাঁর চার সখী— চন্দ্রকলা, বিজয়া, রোহিণী ও বিধুন্নলা। তাঁদের চিকিৎসা চলে চার দণ্ড ধরে।


১১. "তথা কন্যা থাকে সর্বক্ষণ"— কার কোথায় থাকার কথা বলা হয়েছে?

উত্তর: 'সিন্ধুতীরে' কাব্যাংশে সমুদ্ররাজকন্যা পদ্মার পাহাড়ের পাশে ফুল-ফলে ভরা বিচিত্র প্রাসাদময় এক সুরম্য উদ্যানে সর্বক্ষণ থাকার কথা বলা হয়েছে।


১২. "বেথানিতে হৈছে কেশ বেশ।"— পঙ্ক্তিটির অর্থ কী?

উত্তর: সামুদ্রিক দুর্যোগের কবলে পড়ে পদ্মাবতী চেতনা হারিয়েছিলেন। প্রবল দুর্যোগের ঝাপটায় তাঁর বেশ-বাস বা পোশাক-আশাক এবং কেশদাম 'বেথানিত' বা আলুথালু ও এলোমেলো হয়ে গিয়েছিল।


১৩. রাজা রত্নসেন কার মুখে পদ্মাবতীর রূপের কথা শুনেছিলেন?

উত্তর: চিতোরের রাজা রত্নসেন পদ্মাবতীর অপরূপ রূপের কথা শুনেছিলেন এক শুকপাখির (হীরামন) মুখে।


১৪. আরাকান রাজ্যটি কোথায় অবস্থিত?

উত্তর: আরাকান রাজ্যটি ব্রহ্মদেশের (মায়ানমার) উত্তর-পশ্চিম সীমান্তে এবং বর্তমান বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত সীমান্ত সংলগ্ন অঞ্চলে অবস্থিত।


৩. সংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্নোত্তর (মান – ৩)

১. 'দিব্যপুরী সমুদ্র মাঝার' অথবা, 'অতি মনোহর দেশ'— এই দেশের বর্ণনা দাও।

উৎস: মধ্যযুগের অন্যতম প্রধান কবি সৈয়দ আলাওলের 'পদ্মাবতী' কাব্যগ্রন্থের 'সিন্ধুতীরে' নামক পদ্যাংশ থেকে উদ্ধৃতাংশটি নেওয়া হয়েছে।।

মনোহর দেশের বর্ণনা: সমুদ্রের উত্তাল ঢেউ পদ্মাবতীর ভেলাকে যেখানে পৌঁছে দেয়, সেখানে সিন্ধুতীরে এক অপরূপ নগরী ছিল। স্থানটি ছিল অলৌকিক ও স্বর্গীয় বৈশিষ্ট্যে ভাস্বর। সেখানে কোনো রোগ, শোক, দুঃখ বা কষ্ট ছিল না; মানুষ সুখে ও পরম শান্তিতে বসবাস করত। সেখানকার অধিবাসীরা ধর্মপরায়ণ ও সদাচারী হওয়ায় কোনো বিপদের আশঙ্কা ছিল না। নৈতিক আদর্শ ও মনোরম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কারণে কবি সিন্ধুতীরের এই স্থানটিকে 'দিব্যপুরী' বলে বর্ণনা করেছেন।।



মাধ্যমিক বাংলা: অন্যান্য সমস্ত অধ্যায়


২. পদ্মা কে? সে কীরূপ উদ্যান রচনা করেছিল?

পদ্মার পরিচয়: রোসাঙ্গ রাজসভার শ্রেষ্ঠ কবি সৈয়দ আলাওল রচিত 'পদ্মাবতী' কাব্যের 'সিন্ধুতীরে' অংশে পদ্মা হলেন সমুদ্ররাজের গুণবতী ও স্নেহময়ী কন্যা।

উদ্যানের পরিচয়: সিন্ধুতীরে ফল-ফুলে ভরা এক মনোরম পর্বতের পাশে পদ্মা একটি অপরূপ উদ্যান রচনা করেছিলেন। নানা সুগন্ধি ফুল, সুস্বাদু ফল এবং সুলক্ষণযুক্ত ফলবান বৃক্ষে উদ্যানটি সজ্জিত ছিল। উদ্যানের অভ্যন্তরে ছিল একটি বিচিত্র ও স্বর্ণখচিত মনোরম প্রাসাদ (টঙ্গি), যেখানে পদ্মা তাঁর সখীদের সঙ্গে সর্বদা বাস করতেন।।



৩. "রূপে অতি রম্ভা যিনি নিপতিতা চেতনা রহিত"— মন্তব্যটি ব্যাখ্যা করো।

উৎস ও প্রেক্ষাপট: সৈয়দ আলাওল রচিত 'পদ্মাবতী' কাব্যের 'সিন্ধুতীরে' কবিতা থেকে আলোচ্য অংশটি গৃহীত হয়েছে।

মন্তব্যের তাৎপর্য: সকালবেলা সমুদ্রকন্যা পদ্মা সখীদের নিয়ে উদ্যানে প্রাতঃভ্রমণে যাওয়ার সময় সিন্ধুতীরে একটি ভেলা দেখতে পেয়ে কৌতূহলী হয়ে এগিয়ে যান। সেখানে গিয়ে তিনি দেখেন চারজন সখী অচেতন হয়ে পড়ে আছে এবং তাদের মাঝখানে শুয়ে আছেন এক পরমাসুন্দরী কন্যা। সামুদ্রিক ঝড়ে তাঁর বেশবাস আলুথালু হলেও তাঁর অপরূপ রূপলাবণ্য স্বর্গের শ্রেষ্ঠ অপ্সরা রম্ভার সৌন্দর্যকেও হার মানায়। রূপবতী সেই অচৈতন্য পদ্মাবতীর রূপের প্রশংসা করতেই কবি আলোচ্য মন্তব্যটি করেছেন।



৪. 'পঞ্চকন্যা পাইল চেতন'— পঞ্চকন্যা কীভাবে চেতন পেয়েছিল?

পঞ্চকন্যার চেতনাপ্রাপ্তি: সিন্ধুতীরে সংজ্ঞাহীন পদ্মাবতী ও তাঁর সখীদের দেখে সমুদ্রকন্যা পদ্মা প্রথমে করুণাময় বিধাতা নিরঞ্জনের কাছে তাঁদের জীবন রক্ষার জন্য আন্তরিক প্রার্থনা জানান। এরপর তিনি সখীদের সাহায্যে তাঁদের বস্ত্রাবৃত করে নিজের সুরম্য উদ্যানে নিয়ে আসেন।। সেখানে তন্ত্র-মন্ত্র ও নানাবিধ সঞ্জীবনী মহৌষধ প্রয়োগের পাশাপাশি মাথায় ও পায়ে আগুনের সেঁক দিয়ে উষ্ণতা ফেরানোর ব্যবস্থা করা হয়। এইভাবে দীর্ঘ চার দণ্ড অক্লান্ত সেবা ও চিকিৎসার পর পদ্মাবতীসহ পঞ্চকন্যা তাদের চেতনা ফিরে পায়।।



৫. 'দেখিয়া রূপের কলা/বিস্মিত হইল বালা/অনুমান করে নিজ চিতে।'— কে নিজের চিত্তে কার রূপের কলা কখন অনুধাবন করেছিলেন?

উত্তর: সিংহল থেকে চিতোর ফেরার পথে সমুদ্রের প্রচণ্ড ঝড়ে জাহাজ ভেঙে পদ্মাবতী ও তাঁর সখীরা অচেতন অবস্থায় সিন্ধুতীরে এসে পৌঁছান। সমুদ্রকন্যা পদ্মা ভোরবেলা উদ্যানে যাওয়ার পথে সৈকতে ভেলায় শায়িত অচৈতন্য পদ্মাবতীর রূপের ছটা দেখে নিজের চিত্তে বিস্মিত হয়েছিলেন।। পদ্মাবতীর এই রূপ দেখে পদ্মার মনে হয়েছিল, কোনো অপ্সরা বুঝি দেবরাজ ইন্দ্রের অভিশাপে স্বর্গভ্রষ্ট হয়ে মর্ত্যে নিপতিত হয়েছে।।



৪. রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর (মান – ৫)

১. 'সিন্ধুতীরে' কবিতায় দিব্যস্থানটির পরিচয় দাও।

ভূমিকা: মধ্যযুগের বাঙালি কবি সৈয়দ আলাওলের 'পদ্মাবতী' কাব্যের 'সিন্ধুতীরে' অংশে সমুদ্রকন্যা পদ্মার বাসস্থানকে এক মনোরম দিব্যস্থান হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে।।

দিব্যস্থানের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য: সিন্ধুতীরের এই স্থানটি ছিল পার্থিব জগতের ঊর্ধ্বে এক স্বর্গীয় আনন্দভূমি। কবি একে 'অতি মনোহর দেশ' বলে উল্লেখ করেছেন। সেখানে কোনো দুঃখ-বেদনা, হিংসা বা কলুষতা ছিল না; সততা ও সত্যধর্ম সর্বদা বিরাজ করত। সমুদ্রতীরের এক প্রান্তে দাঁড়িয়ে ছিল সুউচ্চ পর্বত, যা নানা ফল ও ফুলে সুশোভিত।।

উদ্যান ও সুরম্য প্রাসাদ: পর্বতের কোল ঘেঁষে সমুদ্রকন্যা রচনা করেছিলেন এক দিব্য উদ্যান। সেই বাগানে সবসময় সুবাসিত ফুল ফুটত এবং সুমিষ্ট ফল ধরত। সুলক্ষণযুক্ত বৃক্ষরাজিতে পরিপূর্ণ সেই উদ্যানের মাঝে গড়ে উঠেছিল এক বিচিত্র স্বর্ণখচিত প্রাসাদ বা 'টঙ্গি'। সেখানেই সমুদ্রসুতা পদ্মা তাঁর সখীদের নিয়ে সর্বদা বাস করতেন।। প্রাকৃতিক শোভা, স্নিগ্ধ পরিবেশ ও আধ্যাত্মিক পবিত্রতার অপূর্ব সমন্বয়ে সিন্ধুতীরের এই স্থানটি সত্যই এক অলৌকিক 'দিব্যপুরী' হয়ে উঠেছিল।।


২. 'সিন্ধুতীরে' কবিতা অবলম্বনে পদ্মার চরিত্রটি আলোচনা করো।

ভূমিকা: সৈয়দ আলাওল বিরচিত 'সিন্ধুতীরে' কাব্যাংশের অন্যতম প্রধান চরিত্র হলেন সমুদ্রকন্যা পদ্মা। তাঁর করুণা, পরোপকার ও মাতৃত্বসুলভ শুশ্রূষা চরিত্রটিকে মধ্যযুগের কাব্যে এক উজ্জ্বল মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করেছে।।

স্নেহশীল ও দয়ার্দ্র হৃদয়: সিন্ধুতীরে অচেনা পাঁচজন নারীকে অচৈতন্য ও মুমূর্ষু অবস্থায় দেখে পদ্মার কোমল হৃদয় ব্যথিত হয়ে ওঠে। কোনো দ্বিধা না করে তিনি সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের উদ্ধার করতে সখীদের নির্দেশ দেন। অপরিচিত দুর্দশাগ্রস্তদের প্রতি এই মমতা তাঁর দয়ার্দ্র মনের পরিচয় দেয়।।

ঈশ্বরভক্তি ও বিনম্রতা: সমুদ্ররাজের কন্যা হওয়া সত্ত্বেও পদ্মার মধ্যে কোনো অহংকার ছিল না। পদ্মাবতীর জীবন বাঁচাতে তিনি নিজের পিতার পুণ্যফল ও ভাগ্যের দোহাই দিয়ে সর্বশক্তিমান নিরঞ্জনের কাছে আকুল প্রার্থনা জানিয়েছেন। এই বিনয় ও আধ্যাত্মিক নির্ভরতা তাঁর চরিত্রের বড়ো গুণ।।

সেবাপরায়ণতা ও দায়িত্ববোধ: তিনি কেবল আদেশ দিয়েই ক্ষান্ত হননি, সখীদের সঙ্গে নিয়ে দীর্ঘ চার দণ্ড ধরে তন্ত্র-মন্ত্র ও ওষধির মাধ্যমে নিষ্ঠার সঙ্গে চিকিৎসা পরিচালনা করেন। তাঁরই তৎপরতায় পঞ্চকন্যার প্রাণরক্ষা পায়।।

মূল্যায়ন: রূপ, আভিজাত্য, মানবিক দরদ এবং নিঃস্বার্থ পরোপকারের এক অতুলনীয় সমন্বয় ঘটেছে পদ্মার চরিত্রে।।