Madhyamik Physical Science Suggestion 2027 (Wbbse Class 10)(পর্যায়সারণি এবং মৌলদের ধর্মের পর্যাবৃত্ততা)
Madhyamik Physical Science Suggestion (WBBSE Class 10)
পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের (WBBSE) মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের জন্য দশম শ্রেণির ভৌতবিজ্ঞান বিষয়ের অষ্টম অধ্যায়ের প্রথম পরিচ্ছেদ "পর্যায়সারণি এবং মৌলদের ধর্মের পর্যাবৃত্ততা"-র সম্পূর্ণ গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নাবলি এবং উত্তর নিচে দেওয়া হলো।
দশম ভৌতবিজ্ঞান: অষ্টম অধ্যায় (প্রথম পরিচ্ছেদ) — পর্যায়সারণি এবং মৌলদের ধর্মের পর্যাবৃত্ততা
মেন্ডেলিফের ও আধুনিক পর্যায়-সূত্র, মৌলসমূহের পর্যাবৃত্ত ধর্মাবলি (যেমন—পারমাণবিক ব্যাসার্ধ, আয়নন শক্তি, তড়িৎ ঋণাত্মকতা), সন্ধিগত ও সেতু মৌল, এবং হাইড্রোজেনকে 'দুষ্ট মৌল' বলার কারণ সংক্রান্ত সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ MCQ, অতিসংক্ষিপ্ত, ২ ও ৫ নম্বরের প্রশ্নাবলি নিচে প্রস্তুত করা হলো।
সেরা প্রস্তুতি নির্দেশিকা: পর্যায় ও শ্রেণি বরাবর ধর্মের পর্যায়ক্রমিক পরিবর্তন (তড়িৎ ঋণাত্মকতা, জারণ-বিজারণ ক্ষমতা, পারমাণবিক আকার), ডোবেরিনারের ত্রয়ী ও নিউল্যান্ডসের অষ্টক সূত্র, এবং মেন্ডেলিফের পর্যায়সারণির ত্রুটি ও সাফল্য গুরুত্ব দিয়ে প্রস্তুত রাখুন।
অষ্টম অধ্যায় (প্রথম পরিচ্ছেদ) — পর্যায়সারণি এবং মৌলদের ধর্মের পর্যাবৃত্ততা
১. সন্ধিগত মৌলের একাধিক যোজ্যতা থাকে।
২. মুদ্রা ধাতুগুলি পর্যায় সারণিতে IB (বা 11 নং) শ্রেণিতে অবস্থিত।
৩. মেন্ডেলিফের পর্যায় সারণির একা-সিলিকন নামক মৌলটি হল জার্মেনিয়াম।
৪. সর্বশেষ পর্যায় সারণিতে 118 টি স্বীকৃত মৌল আছে।
৫. কোনো পর্যায়ের ক্ষার ধাতু মৌলের বিজারণ ক্ষমতা সবচেয়ে বেশি।
১. 'ত্রয়ী সূত্রের' উদ্ভাবন করেন বিজ্ঞানী ডালটন। — মিথ্যা (ডোবেরিনার)
২. আধুনিক পর্যায়-সূত্রের ভিত্তি হল মৌলের পরমাণু-ক্রমাঙ্ক। — সত্য
৩. বেরিলিয়াম মৌলটির আকার সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম। — মিথ্যা
৪. বিরল মৃত্তিকা ধাতুর প্রথম মৌলটি হল সিরিয়াম। — সত্য
৫. সন্ধিগত মৌলে পরিবর্তনশীল যোজ্যতা দেখা যায়। — সত্য
| 'অ' স্তম্ভ | 'আ' স্তম্ভ |
|---|---|
| 1. চকচকে কঠিন অধাতু | (c) আয়োডিন |
| 2. সবচেয়ে হালকা ধাতু | (d) লিথিয়াম |
| 3. তরল অধাতু | (a) ব্রোমিন |
| 4. তরল ধাতু | (b) পারদ |
| 'অ' স্তম্ভ | 'আ' স্তম্ভ |
|---|---|
| 1. তেজস্ক্রিয় নিষ্ক্রিয় মৌল | (c) রেডন |
| 2. দুষ্ট মৌল | (d) হাইড্রোজেন |
| 3. হ্যালোজেন মৌল | (a) ব্রোমিন |
| 4. হালকা ক্ষারীয় মৃত্তিকা ধাতু | (b) বেরিলিয়াম |
উত্তর: পর্যায় সূত্র অনুযায়ী ক্রমবর্ধমান পারমাণবিক গুরুত্ব বা পারমাণবিক সংখ্যার ভিত্তিতে সমধর্মী মৌলগুলিকে একই উল্লম্ব স্তম্ভে স্থান দিয়ে বিভিন্ন মৌলকে যে নির্দিষ্ট অনুভূমিক সারি ও উল্লম্ব স্তম্ভবিশিষ্ট ছকে সাজানো হয়েছে, তাকে পর্যায় সারণি বলে।
উত্তর: দীর্ঘ পর্যায় সারণির 3 থেকে 12 নম্বর শ্রেণিতে অবস্থিত যেসব ধাতব মৌলের পরমাণুর সর্ববহিঃস্থ কক্ষ এবং তার আগের কক্ষ (d-কক্ষক) উভয়ই আংশিকভাবে ইলেকট্রন দ্বারা পূর্ণ থাকে এবং যারা একাধিক পরিবর্তনশীল যোজ্যতা ও রঙিন আয়ন গঠন করে, তাদের সন্ধিগত মৌল বলে। যেমন—Fe, Cu, Ni ইত্যাদি।
পর্যায়: পর্যায় সারণির অনুভূমিক সারিগুলিকে পর্যায় (Period) বলা হয়। আধুনিক দীর্ঘ পর্যায় সারণিতে মোট ৭টি পর্যায় রয়েছে।
শ্রেণি: পর্যায় সারণির উল্লম্ব স্তম্ভগুলিকে শ্রেণি (Group) বলা হয়। আধুনিক দীর্ঘ পর্যায় সারণিতে মোট ১৮টি শ্রেণি রয়েছে।
উত্তর: বোরের পরমাণু মডেল অনুসারে মৌলসমূহের পারমাণবিক সংখ্যা এবং বহিঃস্থ ইলেকট্রন বিন্যাসের ওপর ভিত্তি করে মেন্ডেলিফের পর্যায় সারণিকে পরিমার্জিত করে যে ৭টি পর্যায় ও ১৮টি শ্রেণিসমন্বিত বিস্তৃত সারণি রূপ দেওয়া হয়েছে, তাকে দীর্ঘ পর্যায় সারণি বা বোর পর্যায় সারণি বলে।
উত্তর: দীর্ঘ পর্যায় সারণির 18 নং শ্রেণিতে অবস্থিত হিলিয়াম (He), নিয়ন (Ne), আর্গন (Ar), ক্রিপটন (Kr), জেনন (Xe) ও রেডন (Rn)—এই ছ'টি মৌলকে নিষ্ক্রিয় মৌল বলে।
এদের মধ্যে জেনন (Xe) রাসায়নিকভাবে সবচেয়ে বেশি সক্রিয় এবং উপযুক্ত শর্তে ফ্লুরিন ও অক্সিজেনের সাথে যৌগ গঠন করে।
উত্তর: কপার (Cu), সিলভার (Ag) এবং গোল্ড (Au)—এই তিনটি ধাতু প্রাচীনকাল থেকে মুদ্রা তৈরির কাজে ব্যবহৃত হয়ে আসায় এদের মুদ্রা ধাতু বলে।
এরা দীর্ঘ পর্যায় সারণির 11 নং শ্রেণিতে (বা মেন্ডেলিফের IB উপশ্রেণিতে) যথাক্রমে চতুর্থ, পঞ্চম ও ষষ্ঠ পর্যায়ে অবস্থিত।
উত্তর: পর্যায় সারণির দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্যায়ের কিছু মৌল (যেমন Li, Be ইত্যাদি) অথবা নিষ্ক্রিয় গ্যাসগুলিকে সেতু মৌল বলা হয়। কারণ এরা একদিকে তীব্র তড়িৎ-ঋণাত্মক হ্যালোজেন এবং অন্যদিকে তীব্র তড়িৎ-ধনাত্মক ক্ষার ধাতুগুলির মাঝে যোজক বা সেতুর ন্যায় অবস্থান করে বিভিন্ন শ্রেণির ধর্মের সেতুবন্ধন ঘটায়।
| আদর্শ মৌল (Representative Elements) | সন্ধিগত মৌল (Transition Elements) |
|---|---|
| ১. আদর্শ মৌল ধাতু, অধাতু বা ধাতুকল্প যেকোনোটি হতে পারে। | ১. সন্ধিগত মৌলগুলি সকলেই ধাতু। |
| ২. এদের সাধারণত একটি নির্দিষ্ট সুনির্দিষ্ট যোজ্যতা থাকে এবং জটিল যৌগ সহজে গঠন করে না। | ২. এরা পরিবর্তনশীল বা একাধিক যোজ্যতা প্রদর্শন করে এবং রঙিন জটিল যৌগ গঠন করে। |
সংজ্ঞা: পর্যায় সারণির সপ্তম পর্যায়ে অবস্থিত ইউরেনিয়ামের (⁹²U) চেয়ে বেশি পারমাণবিক সংখ্যাবিশিষ্ট মৌলগুলিকে ইউরেনিয়ামোত্তর মৌল বলে (যেমন নেপচুনিয়াম, প্লুটোনিয়াম)।
বৈশিষ্ট্য: (i) এরা সকলেই তেজস্ক্রিয় এবং অত্যন্ত অস্থায়ী। (ii) এদের প্রকৃতিতে পাওয়া যায় না, এরা প্রত্যেকেই গবেষণাগারে কৃত্রিম উপায়ে সংশ্লেষিত।
উত্তর: মেন্ডেলিফ পর্যায় সারণি তৈরির সময় লক্ষ করেন যে কিছু স্থানে পারমাণবিক ভরের ক্রমানুসারে সমধর্মী মৌল মিলছে না। তিনি দৃঢ়তার সাথে বিশ্বাস করেছিলেন যে এই শূন্যস্থানগুলির মৌলগুলি প্রকৃতিতে বিদ্যমান কিন্তু তখনও অনাবিষ্কৃত।
তিনি সারণিতে সেই স্থানগুলি ফাঁকা রেখে যান এবং তাদের সম্ভাব্য পারমাণবিক ভর ও রাসায়নিক ধর্ম সম্পর্কে নির্ভুল ভবিষ্যদ্বাণী করেন। তিনি এদের নাম দিয়েছিলেন একা-বোরন, একা-অ্যালুমিনিয়াম এবং একা-সিলিকন।
পরবর্তীতে তাঁর জীবদ্দশাতেই এই মৌলগুলি আবিষ্কৃত হয় এবং এদের নাম দেওয়া হয় যথাক্রমে স্ক্যান্ডিয়াম (Sc), গ্যালিয়াম (Ga) এবং জার্মেনিয়াম (Ge)। দেখা যায় এদের বাস্তব ধর্মের সাথে মেন্ডেলিফের পূর্বানুমানের বিস্ময়কর মিল রয়েছে, যা বিজ্ঞানীদের নতুন মৌল আবিষ্কারে প্রবলভাবে অনুপ্রাণিত করেছিল।
পরিবর্তন: যেকোনো পর্যায়ের বামদিক থেকে ডানদিকে অগ্রসর হলে মৌলগুলির আয়নায়ন বিভব বা আয়নন শক্তির মান সাধারণত ক্রমশ বৃদ্ধি পায়।
ব্যাখ্যা: একই পর্যায় বরাবর বামদিক থেকে ডানদিকে গেলে নতুন কোনো ইলেকট্রন কক্ষ যুক্ত হয় না, বরং পরমাণু ক্রমাঙ্ক বৃদ্ধির সাথে সাথে নিউক্লিয়াসে ধনাত্মক প্রোটন সংখ্যা বাড়তে থাকে। ফলে সর্ববহিঃস্থ কক্ষের ইলেকট্রনগুলির ওপর নিউক্লিয়াসের স্থির তড়িৎ আকর্ষণ বল বৃদ্ধি পায় এবং পারমাণবিক ব্যাসার্ধ ক্রমশ সংকুচিত হয়।
নিউক্লিয়াসের প্রবল আকর্ষণে আবদ্ধ থাকার কারণে সর্ববহিঃস্থ কক্ষ থেকে একটি ইলেকট্রনকে অপসারিত করে ধনাত্মক আয়নে পরিণত করতে অনেক বেশি শক্তির প্রয়োজন হয়। এই কারণে পর্যায় বরাবর আয়নন বিভবের মান বাড়তে থাকে।
উত্তর: পর্যায় সারণিতে হাইড্রোজেনের অবস্থান অত্যন্ত বিতর্কিত। কারণ হাইড্রোজেন ক্ষার ধাতু (গ্রুপ 1) এবং হ্যালোজেন মৌল (গ্রুপ 17)—উভয়ের সঙ্গেই গুরুত্বপূর্ণ সাদৃশ্য প্রদর্শন করে—
(i) ক্ষার ধাতুর সাথে সাদৃশ্য: ক্ষার ধাতুগুলির মতো হাইড্রোজেনের সর্ববহিঃস্থ কক্ষে ১টি ইলেকট্রন থাকে, এটি একযোজী, তীব্র তড়িৎ-ধনাত্মক আয়ন (H⁺) তৈরি করে এবং অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে ক্ষারকীয় অক্সাইড (H₂O) গঠন করে।
(ii) হ্যালোজেনের সাথে সাদৃশ্য: হ্যালোজেনগুলির মতো হাইড্রোজেনও একটি দ্বি-পরমাণুক অধাতব গ্যাস। নিকটতম নিষ্ক্রিয় গ্যাসের সুস্থির ইলেকট্রন বিন্যাস পেতে এরও ১টি ইলেকট্রনের প্রয়োজন হয়। এটি ধাতুর সাথে বিক্রিয়ায় হ্যালাইডের অনুরূপ হাইড্রাইড গঠন করে এবং তড়িৎ-বিশ্লেষণে অ্যানোড-এ মুক্ত হয়।
উভয় বিপরীতধর্মী দলের সাথে সমান সাদৃশ্য থাকায় মেন্ডেলিফের পর্যায় সারণিতে এর সঠিক অবস্থান নির্দিষ্ট করা অত্যন্ত জটিল হয়ে পড়েছিল। এই দ্বিমুখী আচরণের জন্যই মেন্ডেলিফ হাইড্রোজেনকে 'দুষ্ট মৌল' নামে আখ্যায়িত করেছিলেন।