Madhyamik Physical Science Suggestion 2027 (Wbbse Class 10)(পরিবেশের জন্য ভাবনা)

Madhyamik Physical Science Suggestion (WBBSE Class 10)

পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের (WBBSE) মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের জন্য দশম শ্রেণির ভৌতবিজ্ঞান বিষয়ের প্রথম অধ্যায় "পরিবেশের জন্য ভাবনা"-র সম্পূর্ণ গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নাবলি এবং উত্তর নিচে দেওয়া হলো।

Physical Science Suggestion Banner

দশম ভৌতবিজ্ঞান: প্রথম অধ্যায় — পরিবেশের জন্য ভাবনা

মাধ্যমিক পরীক্ষায় ভৌতবিজ্ঞানে ভালো নম্বর পাওয়ার জন্য প্রতিটি অধ্যায়ের মৌলিক ধারণা পরিষ্কার রাখা জরুরি। বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন স্তর, ওজোন স্তরের ক্ষয়, গ্রিনহাউস প্রভাব ও বিশ্ব উষ্ণায়ন, এবং বিভিন্ন বিকল্প ও পরিবেশবান্ধব শক্তির উৎস সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর নিচে সংকলন করা হয়েছে।

সেরা প্রস্তুতি নির্দেশিকা: এই অধ্যায় থেকে বহু বিকল্পভিত্তিক (MCQ), অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন, ২ নম্বরের সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন এবং ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে প্রস্তুত করুন।


ট্যাগ / কি-ওয়ার্ডস: WBBSE Class 10 Physical Science Suggestion, পরিবেশের জন্য ভাবনা, Madhyamik Physical Science chapter 1, মাধ্যমিক ভৌতবিজ্ঞান প্রশ্নোত্তর

প্রথম অধ্যায় — পরিবেশের জন্য ভাবনা

A. বহু বিকল্পভিত্তিক প্রশ্নাবলি [MCQ] (মান – ১)
১. একটি পরিবেশবান্ধব শক্তি হল—
[A] সৌরশক্তি [B] বায়ুশক্তি [C] ভূতাপশক্তি [D] সবগুলিই
উত্তর: [D] সবগুলিই
২. সূর্যালোকের কোন্ রশ্মির জন্য সোলার কুকার কাজ করে?
[A] দৃশ্যমান আলোক রশ্মি [B] অতিবেগুনি রশ্মি [C] অবলোহিত রশ্মি [D] গামা রশ্মি
উত্তর: [C] অবলোহিত রশ্মি
৩. নিম্নলিখিত কোন্ রশ্মিটি তাপীয় রশ্মি—
[A] অতিবেগুনি রশ্মি [B] অবলোহিত রশ্মি [C] কসমিক রশ্মি [D] গামা রশ্মি
উত্তর: [B] অবলোহিত রশ্মি
৪. সৌরশক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়—
[A] সমুদ্রে [B] মাটিতে [C] উদ্ভিদদেহে [D] প্রাণীদেহে
উত্তর: [C] উদ্ভিদদেহে
৫. সৌরশক্তি বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়—
[A] ফোটোভোল্টায়িক কোশে [B] সোলার কুকারে [C] প্রেসার কুকারে [D] ইলেকট্রিক মোটরে
উত্তর: [A] ফোটোভোল্টায়িক কোশে
৬. কোন্ উপাদানটি প্রাকৃতিক গ্যাস ও বায়োগ্যাস দুটোতেই বর্তমান?
[A] মিথেন [B] অক্সিজেন [C] ইথানল [D] কার্বন
উত্তর: [A] মিথেন
৭. Fire ice হল—
[A] CO₂ [B] মিথেন [C] মিথেন হাইড্রেট [D] মিথানল
উত্তর: [C] মিথেন হাইড্রেট
৮. সর্বপ্রথম মিথেন হাইড্রেট থেকে শক্তি আহরণে সক্ষম দেশ হল—
[A] ভারত [B] আমেরিকা [C] জার্মানি [D] জাপান
উত্তর: [B] আমেরিকা
৯. 'মেরুজ্যোতি' যে বায়ুস্তরে দেখা যায়, তা হল—
[A] ট্রোপোস্ফিয়ার [B] স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার [C] আয়নোস্ফিয়ার [D] এক্সোস্ফিয়ার
উত্তর: [C] আয়নোস্ফিয়ার
১০. বিশ্ব উষ্ণায়নের সবচেয়ে ক্ষতিকর প্রভাব কোন্টি?
[A] সমুদ্রপৃষ্ঠের গড় উচ্চতা বৃদ্ধি [B] ফসলের উৎপাদন হ্রাস [C] পানীয় জলের জোগান হ্রাস [D] দাবানলের প্রকোপ বৃদ্ধি
উত্তর: [A] সমুদ্রপৃষ্ঠের গড় উচ্চতা বৃদ্ধি
১১. নিম্নের কোন্টি জীবাশ্ম জ্বালানি নয়—
[A] কয়লা [B] পেট্রোল [C] কাঠ [D] ডিজেল
উত্তর: [C] কাঠ
১২. নিম্নের কোন্টির তাপন মূল্য সবচেয়ে বেশি—
[A] পেট্রোল [B] কেরোসিন [C] ডিজেল [D] LPG
উত্তর: [D] LPG
১৩. কোন্ স্তর থেকে বেশিরভাগ কৃত্রিম উপগ্রহগুলি পৃথিবীকে আবর্তন করে—
[A] ট্রোপোস্ফিয়ার [B] এক্সোস্ফিয়ার [C] থার্মোস্ফিয়ার [D] মেসোস্ফিয়ার
উত্তর: [B] এক্সোস্ফিয়ার
১৪. বায়ুমণ্ডলের ওজোন স্তরের ঘনত্ব পরিমাপক এককের নাম—
[A] ডেসিবেল [B] ডাইন [C] হার্জ [D] ডবসন
উত্তর: [D] ডবসন
১৫. যে বিজ্ঞানী ওজোন-গহ্বর (Ozone Hole) শব্দটির প্রথম ব্যবহার করেন—
[A] ফোরম্যান [B] ফেয়ারম্যান [C] ফেদারম্যান [D] এদের কেউ নয়
উত্তর: [A] ফোরম্যান
১৬. পৃথিবীর কোন অঞ্চলের ওজোনস্তর বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে?
[A] নিরক্ষীয় অঞ্চলে [B] সমুদ্র উপকূলবর্তী অঞ্চলে [C] মেরু অঞ্চলে [D] এদের কোনোটিই নয়
উত্তর: [C] মেরু অঞ্চলে
১৭. অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাবে CFC বিভাজিত হয়ে উৎপন্ন করে—
[A] CF₂Cl₂ [B] CF₂Cl [C] CFCl₂ [D] Cl•
উত্তর: [D] Cl•
১৮. গ্রিনহাউস গ্যাসগুলি কোন্ রশ্মি শোষণ করে তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে?
[A] সূর্য থেকে আগত ক্ষুদ্র তরঙ্গদৈর্ঘ্যের অবলোহিত রশ্মি [B] সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি [C] ভূপৃষ্ঠ কর্তৃক বিকরিত দীর্ঘ তরঙ্গদৈর্ঘ্যের অবলোহিত রশ্মি [D] কসমিক রশ্মি
উত্তর: [C] ভূপৃষ্ঠ কর্তৃক বিকরিত দীর্ঘ তরঙ্গদৈর্ঘ্যের অবলোহিত রশ্মি
১৯. বায়ুমণ্ডলের কোন্ স্তর জলচক্র ও উষ্ণতা নিয়ন্ত্রণ করে—
[A] স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার [B] থার্মোস্ফিয়ার [C] ট্রোপোস্ফিয়ার [D] মেসোস্ফিয়ার
উত্তর: [C] ট্রোপোস্ফিয়ার
২০. নিম্নের যে রাসায়নিক পদার্থটি ওজোনস্তর ধ্বংসের জন্য দায়ী—
[A] ক্লোরোফর্ম [B] আয়োডোফর্ম [C] ক্লোরোফ্লুরোকার্বন [D] অ্যাসিটিলিন
উত্তর: [C] ক্লোরোফ্লুরোকার্বন
২১. কোন্টি গ্রিনহাউস গ্যাস—
[A] O₂ [B] N₂ [C] O₃ [D] H₂
উত্তর: [C] O₃
২২. 'স্টোন-ক্যানসার'-এর কারণ হল—
[A] গ্লোবাল ওয়ার্মিং [B] ওজোন গহ্বর [C] অম্লবৃষ্টি [D] কোনোটিই নয়
উত্তর: [C] অম্লবৃষ্টি
২৩. ওজোন স্তরের গভীরতা কমে গেলে ভূপৃষ্ঠে সূর্যের কোন্ রশ্মি বেশি করে পৌঁছায়?
[A] আলোক রশ্মি [B] অতিবেগুনি রশ্মি [C] গামা রশ্মি [D] অবলোহিত রশ্মি
উত্তর: [B] অতিবেগুনি রশ্মি
২৪. প্রাকৃতিক সৌরপর্দা হল—
[A] ওজোন [B] অক্সিজেন [C] আর্গন [D] নাইট্রোজেন
উত্তর: [A] ওজোন
২৫. বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রধান কারণ হল—
[A] ক্লোরোফ্লুরোকার্বন নির্গমন [B] মিথেন গ্যাস নির্গমন [C] জীবাশ্ম জ্বালানির দহন [D] নাইট্রাস অক্সাইড নির্গমন
উত্তর: [C] জীবাশ্ম জ্বালানির দহন
২৬. কোন্টি পুনর্নবীকরণযোগ্য সম্পদ—
[A] প্রাকৃতিক গ্যাস [B] পেট্রোলিয়াম [C] ভৌমজল [D] কয়লা
উত্তর: [C] ভৌমজল
২৭. ভারতে কত পরিমাণ শক্তি সৌরশক্তি থেকে পাওয়া যায়—
[A] 245 মেগাওয়াট [B] 245 কিলোওয়াট [C] 254 মেগাওয়াট [D] 254 মেওয়াট
উত্তর: [C] 254 মেগাওয়াট
B. অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (মান – ১)
শূন্যস্থান পূরণ করো:

১. পৃথিবী প্রতিদিন গড়ে 1.4 kW/m² সৌরশক্তি গ্রহণ করে।

২. পশ্চিমবঙ্গের বক্রেশ্বর ভূসাগরীয় শক্তিতে সমৃদ্ধ একটি অঞ্চল।

৩. ত্বকে ক্যানসার হয় ওজোন স্তর ক্ষয়ের ফলে।

৪. প্রতি অণু মিথেনের তাপ আটকে রাখার ক্ষমতা প্রতি অণু CO₂-এর তুলনায় প্রায় 25 গুণ বেশি।

সত্য বা মিথ্যা নির্ণয় করো:

১. অসময়ে চোখে ছানি পড়ে কালো রশ্মির প্রভাবে। — মিথ্যা

২. বিশুদ্ধ শুষ্ক বাতাসে (CO₂)-এর পরিমাণ প্রায় 0.032%। — সত্য

৩. C.F.C-এর পুরো নাম হল ক্লোরেফিল কার্বন। — মিথ্যা

৪. বায়োডিজেল উদ্ভিজ্জ তেল থেকে তৈরি করা হয়। — সত্য

'অ' স্তম্ভের সঙ্গে 'আ' স্তম্ভ মেলাও (সেট ১):
'অ' স্তম্ভ'আ' স্তম্ভ
1. নাইট্রোজেন(d) গ্রিন হাউস গ্যাস নয়
2. জলীয় বাষ্প(c) গ্রিন হাউস গ্যাস
3. C.F.C.(a) ওজোন স্তর ছিদ্রের জন্য দায়ী
4. পরিচলন স্রোত(b) সমুদ্রবায়ু
উত্তর: 1 → (d), 2 → (c), 3 → (a), 4 → (b)
'অ' স্তম্ভের সঙ্গে 'আ' স্তম্ভ মেলাও (সেট ২):
'অ' স্তম্ভ'আ' স্তম্ভ
1. জেট প্লেন চলাচল করে(c) স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার
2. ক্ষুব্ধ মণ্ডল(a) ট্রপোস্ফিয়ার
3. বেতার তরঙ্গ প্রতিফলিত হয়(d) আয়নোস্ফিয়ার
4. আয়নোস্ফিয়ারের পরের স্তরটি হল(b) এক্সোস্ফিয়ার
উত্তর: 1 → (c), 2 → (a), 3 → (d), 4 → (b)
১. জ্বালানির জ্বলন বিন্দু কাকে বলে?
উত্তর: সর্বনিম্ন যে তাপমাত্রায় কোনো জ্বালানি পৌঁছলে তা বায়ুতে জ্বলতে শুরু করে অর্থাৎ দহন বিক্রিয়া শুরু হয়, সেই তাপমাত্রাকে ওই জ্বালানির জ্বলন বিন্দু বলে।
২. 'পেট্রোপ্ল্যান্ট' কাদের বলা হয়?
উত্তর: এমন কিছু উদ্ভিদ আছে যাদের নিঃসৃত রস থেকে কিছু তরল হাইড্রোকার্বন পাওয়া যায় যা পেট্রোলিয়ামজাত জ্বালানির বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। এই উদ্ভিদগুলিকে পেট্রোপ্ল্যান্ট বলে। ইউফোরবিয়েসি, অ্যাসক্লেপিয়াডেসি, অ্যাপোসায়নেসি গোত্রভুক্ত উদ্ভিদগুলি এই গুণসমন্বিত।
৩. 'Chapman Cycle' কী?
উত্তর: স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে উপস্থিত ওজোনের ধ্বংস এবং সৃষ্টি যে বৃত্তাকার বিক্রিয়া পথের মাধ্যমে ঘটে, তাকে 'Chapman Cycle' বলে।
৪. প্রাকৃতিক সৌরপর্দা কাকে বলে?
উত্তর: স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারের ওজোনস্তর সূর্যের ক্ষতিকারক অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে পৃথিবীকে রক্ষা করে, তাই এই ওজোনস্তরকে প্রাকৃতিক সৌরপর্দা বলে।
৫. কোন্ যন্ত্রের সাহায্যে বায়ুমণ্ডলে ওজোনস্তরের ঘনত্ব পরিমাপ করা হয়?
উত্তর: বিজ্ঞানী ডবসন আবিষ্কৃত স্পেকট্রোফটোমিটার যন্ত্রের সাহায্যে।
৬. বায়োমাস কী?
উত্তর: উদ্ভিদের মৃত অংশ এবং প্রাণীর বর্জ্য পদার্থকে বলে বায়োমাস। বায়োমাস হলো পুনরায় নবীকরণমূলক শক্তির উৎস।
৭. কোন্ যন্ত্রের সাহায্যে কোনো পাত্রে আবদ্ধ বায়ুর চাপ মাপা হয়?
উত্তর: ম্যানোমিটার যন্ত্রের সাহায্যে কোনো পাত্রে আবদ্ধ বায়ুর চাপ মাপা হয়।
৮. মুক্তপথ কাকে বলে?
উত্তর: গ্যাসের অণুগুলি সর্বদা নিজেদের মধ্যে ও পাত্রের দেওয়ালের সঙ্গে ধাক্কা খায়। পরপর দুটি ধাক্কার মাঝের পথ একটি অণু সমবেগে যায়। এই পথকে মুক্তপথ বলে।
৯. অ্যালবেডো কী?
উত্তর: সূর্য থেকে আগত রশ্মির 60% ভূপৃষ্ঠ তথা বায়ুমণ্ডলকে উত্তপ্ত করে। বাকি 40% সূর্যরশ্মি মহাশূন্যে ফিরে যায়। এই 40% সূর্যরশ্মিকে অ্যালবেডো বলে।
১০. আদর্শ গ্যাসকে কী তরলে রূপান্তরিত করা সম্ভব?
উত্তর: আদর্শ গ্যাসের অণুগুলির মধ্যে কোনো আকর্ষণ বল নেই, তাই আদর্শ গ্যাসকে তরলে রূপান্তরিত করা সম্ভব নয়।
১১. বাস্তব গ্যাসকে কী তরলে রূপান্তরিত করা সম্ভব?
উত্তর: বাস্তব গ্যাসের অণুগুলির মধ্যে আকর্ষণ বল বর্তমান, তাই বাস্তব গ্যাসকে তরলে রূপান্তরিত করা সম্ভব।
১২. বায়ুমণ্ডলে ওজোনের পরিমাণ মাপার যন্ত্রটির নাম কী?
উত্তর: ডবসন স্পেকট্রোমিটার হলো ওজোনের পরিমাণ মাপার যন্ত্র।
১৩. বায়োগ্যাস কাকে বলে?
উত্তর: বায়োমাসকে অক্সিজেনের অনুপস্থিতিতে বিয়োজিত করে যে গ্যাস উৎপাদন করা হয়, তাকে বায়োগ্যাস বলে। এতে মূল উপাদান হিসেবে মিথেন গ্যাস (প্রায় 65%) থাকে।
১৪. ওজোন গহ্বর (Ozone Hole) কী?
উত্তর: বিভিন্ন প্রাকৃতিক ও মনুষ্যজাত কারণে বায়ুমণ্ডলের স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারের অন্তর্গত ওজোনস্তর পাতলা হয়ে যাওয়ার ঘটনাকে ওজোনস্তরের ক্ষয় বা ওজোন-গহ্বর (Ozone Hole) বলে।
১৫. CFC (ক্লোরোফ্লুরো কার্বন) কোথায় ব্যবহার করা হত?
উত্তর: এক সময় ব্যাপকভাবে রেফ্রিজারেটর ও বাতানুকূল যন্ত্রে হিমায়করূপে এবং খাদ্যদ্রব্য সংরক্ষণের কাজে CFC ব্যবহার করা হতো।
১৬. দুটি অচিরাচরিত কিন্তু অ-পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির উৎসের নাম লেখো।
উত্তর: (i) ভূ-তাপশক্তি এবং (ii) পারমাণবিক শক্তি।
১৭. বায়োডিজেল কী থেকে তৈরি করা হয়?
উত্তর: উদ্ভিজ্জ তেল বা প্রাণীজ চর্বির ট্রান্সএস্টারিফিকেশনের ফলে বায়োডিজেল তৈরি হয়।
১৮. 'বৈপরীত্য উত্তাপ' কী?
উত্তর: সাধারণত বায়ুমণ্ডলের সর্বনিম্ন স্তরে উচ্চতা বৃদ্ধিতে বায়ুর তাপমাত্রা কমতে থাকে। কিন্তু কোনো কোনো সময় উচ্চতা বৃদ্ধিতে তাপমাত্রা না কমে বেড়ে যায়। একে বলে বৈপরীত্য উত্তাপ।
১৯. 'গ্রিনহাউস' শব্দটির আক্ষরিক অর্থ কী?
উত্তর: শীতপ্রধান দেশগুলিতে সবুজ উদ্ভিদ চাষ করার জন্য স্বচ্ছ কাচের ঘরকেই গ্রিনহাউস বলে।
২০. ভূপৃষ্ঠ থেকে কত উচ্চতা পর্যন্ত বায়ুর অস্তিত্বের প্রমাণ পাওয়া যায়?
উত্তর: 1000 কিলোমিটার পর্যন্ত।
২১. বায়ুমণ্ডলের স্তরবিন্যাস কোন্ কোন্ বিষয়ের ভিত্তিতে করা হয়?
উত্তর: দুটি বিষয়ের ভিত্তিতে স্তরবিন্যাস করা হয়—রাসায়নিক গঠনানুসারে ও তাপমাত্রার তারতম্য অনুসারে।
২২. মিথানোজেনিক ব্যাকটেরিয়া কী?
উত্তর: এটি এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া যারা অবাত শ্বসনকারী অর্থাৎ বাতাসের অক্সিজেনের অনুপস্থিতিতে বাঁচে এবং বিপাক ক্রিয়ার ফলে মিথেন গ্যাস উৎপন্ন করে।
২৩. ভর ও শক্তির নিত্যতা সূত্রটি কী?
উত্তর: ভর ও শক্তির নিত্যতা সূত্র অনুসারে, কোনো রাসায়নিক পরিবর্তনের পূর্বে ও পরে ভর ও শক্তির মোট পরিমাণ সর্বদা একই থাকে।
২৪. মিথেন হাইড্রেট কী?
উত্তর: মিথেন হাইড্রেট একটি কেলাসাকার কঠিন পদার্থ। জল (H₂O) অণুর সমন্বয়ে গঠিত বরফের মতো কেলাসটির মধ্যে প্রচুর পরিমাণে মিথেন আবদ্ধ হয়ে এটির সৃষ্টি হয়।
C. সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (মান – ২)
১. 'গ্রিনহাউস গ্যাস' কাদের বলে?

উত্তর: বায়ুমণ্ডলের যেসব গ্যাসীয় পদার্থ উত্তপ্ত পৃথিবীপৃষ্ঠ থেকে বিকিরিত অপেক্ষাকৃত দীর্ঘ তরঙ্গদৈর্ঘ্যবিশিষ্ট অবলোহিত রশ্মির কিছু অংশ শোষণ করে এবং অবশিষ্টাংশ পুনরায় পৃথিবীপৃষ্ঠে প্রতিফলিত করে ভূপৃষ্ঠ ও তার সংলগ্ন বায়ুমণ্ডলকে উত্তপ্ত রাখে, তাদের গ্রিনহাউস গ্যাস বলে।

উদাহরণ: কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO₂), মিথেন (CH₄), ক্লোরোফ্লুরোকার্বন (CFC), ওজোন (O₃), নাইট্রাস অক্সাইড (N₂O), জলীয় বাষ্প (H₂O) ইত্যাদি।

২. মিথেন হাইড্রেট কী? এর থেকে শক্তি আহরণের বর্তমান পরিস্থিতি কী?

উত্তর: মিথেন হাইড্রেট হলো কেলাসাকার কঠিন বরফ যেখানে মিথেন অণুগুলি জলের অণু দ্বারা সৃষ্ট কেলাস গঠনের মধ্যে আবদ্ধ অবস্থায় থাকে। এর সংকেত 4CH₄·23H₂O। উপযুক্ত উষ্ণতা এবং চাপেই কেবল এর অস্তিত্ব বজায় থাকে।

মিথেন হাইড্রেট থেকে মিথেন গ্যাস আহরণ খুব সহজ নয়। তবে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র এবং জাপান মিথেন হাইড্রেট থেকে মিথেন গ্যাস উত্তোলনে কিছুটা সাফল্য অর্জন করেছে।

৩. মেরুজ্যোতি কীভাবে সৃষ্টি হয়? 'সুমেরু প্রভা' ও 'কুমেরু প্রভা' কাকে বলে?

উত্তর: থার্মোস্ফিয়ারের অন্তর্গত আয়নোস্ফিয়ারে (80–400 কিমি) থাকা অক্সিজেন ও নাইট্রোজেন গ্যাসের অণুগুলি সূর্য থেকে বিচ্ছুরিত উচ্চ শক্তিসম্পন্ন গামা রশ্মি এবং X-রশ্মির প্রভাবে আয়নিত হয় (O⁺, N₂⁺, O₂⁺) এবং সেই সঙ্গে অসংখ্য মুক্ত ইলেকট্রনও উৎপন্ন হয়। এই মুক্ত ইলেকট্রনগুলি আবার অন্য আয়নগুলি দ্বারা গৃহীত হওয়ার সময় আলোকরশ্মি বিকিরণ করে। একেই মেরুজ্যোতি বলে।

উত্তর মেরুতে সৃষ্ট মেরুজ্যোতিকে সুমেরু প্রভা এবং দক্ষিণ মেরুতে সৃষ্ট মেরুজ্যোতিকে কুমেরু প্রভা বলে।

৪. ওজোনস্তরকে 'ওজোন ছত্র' বলার তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: বায়ুমণ্ডলের স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারের অন্তর্গত ওজোনস্তরকে 'ওজোন ছত্র' বলে। ছাতা যেমন রোদ-বৃষ্টি থেকে আমাদের রক্ষা করে, ওজোনস্তর তেমন সূর্য থেকে আগত ক্ষতিকারক অতিবেগুনি রশ্মির পৃথিবীতে আগমনকে প্রতিরোধ করে। তাই ওজোনস্তরকে 'ওজোন ছত্র' বলা হয়।

৫. ওজোন ছিদ্র বা ওজোন গহ্বর কী?

উত্তর: মানুষের কিছু ক্রিয়াকলাপের ফলে ওজোন তৈরির হার অপেক্ষা বিয়োজনের হার অত্যধিক বেড়ে যাওয়ায় বায়ুমণ্ডলের স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারের অন্তর্গত ওজোনস্তরটি প্রায় সর্বত্র কমবেশি পাতলা হয়ে যাচ্ছে। ওজোনস্তরের এই পাতলা হওয়ার ঘটনাকে ওজোনস্তরের ক্ষয় বা ওজোন ছিদ্র বা ওজোন গহ্বর (Ozone Hole) বলে।

৬. 'গ্রিনহাউস প্রভাব' কী?

উত্তর: যে প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ার সাহায্যে বায়ুমণ্ডলে উপস্থিত কয়েকটি গ্যাসীয় পদার্থ (যেমন—CO₂, CH₄, CFC, N₂O, O₃ ইত্যাদি) পৃথিবীপৃষ্ঠ থেকে বিকিরিত তাপের একাংশকে মহাশূন্যে ফিরে যেতে না দিয়ে ভূপৃষ্ঠ ও তৎসংলগ্ন বায়ুমণ্ডলকে উত্তপ্ত রাখে এবং ফলস্বরূপ পৃথিবীতে জীবকুলের বেঁচে থাকার পক্ষে অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হয়, তাকে গ্রিনহাউস প্রভাব বলে।

৭. গ্রিনহাউস প্রভাবের উপযোগিতা উল্লেখ করো।

উত্তর: বায়ুমণ্ডলে উপস্থিত CO₂, জলীয় বাষ্প ইত্যাদি গ্রিনহাউস গ্যাস পৃথিবীপৃষ্ঠ থেকে অবলোহিত রশ্মিরূপে বিকিরিত তাপকে মহাশূন্যে বিলীন হতে না দিয়ে, ভূপৃষ্ঠ ও তার সংলগ্ন বায়ুমণ্ডলকে এমন এক উষ্ণতা সীমার মধ্যে (গড়মান ≈ 15°C) উত্তপ্ত রাখে, যা মানুষসহ সমগ্র জীবজগতের বেঁচে থাকার পক্ষে অনুকূল। বায়ুমণ্ডলে যদি গ্রিনহাউস গ্যাসগুলি না থাকত, অর্থাৎ গ্রিনহাউস প্রভাব না ঘটত, তাহলে পৃথিবীপৃষ্ঠ ও সংলগ্ন বায়ুমণ্ডলের গড় উষ্ণতা হতো প্রায় -30°C। এই উষ্ণতায় পৃথিবীপৃষ্ঠে জীবজগতের কোনো অস্তিত্বই থাকত না।

৮. গ্লোবাল ওয়ার্মিং কাকে বলে?

উত্তর: বিজ্ঞাননির্ভর আধুনিক জীবনযাত্রায় মানুষের নানাবিধ ক্রিয়াকলাপের ফলে বায়ুমণ্ডলে গ্রিনহাউস গ্যাসগুলির পরিমাণ ক্রমশ বেড়ে চলেছে। এর প্রভাবে পৃথিবীর প্রাকৃতিক পরিবেশ ক্রমশ গরম হয়ে উঠেছে এবং সারা বিশ্বজুড়ে ক্রমাগত উষ্ণতা বৃদ্ধির এই ঘটনাকে গ্লোবাল ওয়ার্মিং বলে।

৯. 'জীবাশ্ম জ্বালানি' বলতে কী বোঝো?

উত্তর: জীবাশ্ম হলো প্রাকৃতিক উপায়ে মাটি বা পাথরের অভ্যন্তরে সঞ্চিত অতি প্রাচীনকালের উদ্ভিদ বা প্রাণীর দেহাবশেষ। ভূগর্ভে প্রচণ্ড তাপ, চাপ ও ব্যাকটেরিয়ার প্রভাবে জীবাশ্মগুলি থেকে সৃষ্টি হয়েছে কয়লা, খনিজ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের মতো জ্বালানি। এগুলিকে বলা হয় 'জীবাশ্ম জ্বালানি'। জীবাশ্ম জ্বালানিগুলি হলো প্রচলিত শক্তির উৎস এবং এরা অনবীকরণযোগ্য।

১০. 'স্থিতিশীল উন্নয়ন' বলতে কী বোঝায়?

উত্তর: যে উন্নয়ন ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট না করেও দেশ ও দশের মঙ্গল করা যায়, তাকে স্থিতিশীল উন্নয়ন বলে। দারিদ্র্য, অশিক্ষা, বুভুক্ষা প্রভৃতি আর্থ-সামাজিক অভিশাপ থেকে মানুষকে মুক্ত করাই এই ব্যবস্থার উদ্দেশ্য।

১১. মিথানোজেনিক ব্যাকটেরিয়া কাকে বলে? উদাহরণ দাও।

উত্তর: যে সব ব্যাকটেরিয়া বায়ুর অনুপস্থিতিতে বায়োমাস-এর বিয়োজন ঘটিয়ে প্রকৃতিতে মিথেন গ্যাস মুক্ত করে তাদের মিথানোজেনিক ব্যাকটেরিয়া বলে।

উদাহরণ: মিথানোকক্কাস, মিথানোব্যাকটেরিয়াম ইত্যাদি।

১২. 'বায়োফুয়েল' বলতে কী বোঝো? উদাহরণ দাও।

উত্তর: বায়োমাস থেকে যে জ্বালানি উৎপন্ন হয়, তাকে বায়োফুয়েল বলা হয়।

উদাহরণ: আখ বা ভুট্টা থেকে সন্ধান প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন বায়োইথানল একটি বায়োফুয়েল যাকে গ্যাসোলিনের (পেট্রোলের) সাথে মিশিয়ে যানবাহন চালানোর কাজে ব্যবহার করা হয়।

১৩. বায়োমাস কী? বায়োমাস শক্তি বলতে কী বোঝ?

উত্তর: মৃত প্রাণী ও উদ্ভিদের দেহাবশেষ থেকে প্রাপ্ত জৈব অবশেষকে বায়োমাস বলে।

বায়োমাস শক্তি হলো জৈব অবশেষ থেকে বিশেষ জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় বায়ুর অনুপস্থিতিতে অবায়ুজীবি ব্যাকটেরিয়ার দ্বারা বিয়োজনের মাধ্যমে জ্বালানি বা বিদ্যুতের উৎসরূপে উৎপন্ন করা দাহ্য মিথেন গ্যাস।

১৪. সৌরশক্তিকে চিরাচরিত শক্তির বিকল্পরূপে ভাবা হচ্ছে কেন?

উত্তর: সূর্য এক বিপুল শক্তির আধার। প্রতি ঘণ্টায় সারা পৃথিবীতে যে পরিমাণ সূর্যরশ্মি পৌঁছায়, তাকে শক্তিতে রূপান্তরিত করলে যে তাপশক্তি পাওয়া যাবে তা 21 × 10¹² টন কয়লার সমান। সৌরশক্তি পুনর্ভব, প্রবহমান ও সর্বব্যাপ্ত। সূর্যের অসীম শক্তিকে পরিপূর্ণভাবে বিদ্যুতে রূপান্তরিত করার কারিগরি জ্ঞান মানুষ যেদিন পুরোপুরি আয়ত্ত করতে পারবে সেদিন পৃথিবীতে জ্বালানির আর কোনো সমস্যাই থাকবে না। তাই সৌরশক্তিকে চিরাচরিত শক্তির বিকল্পরূপে ভাবা হচ্ছে।

D. দীর্ঘ প্রশ্নোত্তর (মান – ৫)
১. জীবাশ্ম জ্বালানি সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তাগুলি উল্লেখ করো।

উত্তর: জীবাশ্ম জ্বালানি সংরক্ষণ করা বিশেষ প্রয়োজন, কারণ—

(i) জীবাশ্ম জ্বালানির যথেচ্ছ ব্যবহারের ফলে এর ভাণ্ডার ক্রমেই ফুরিয়ে আসছে। জীবাশ্ম জ্বালানি তৈরি হতে ভূগর্ভে কোটি কোটি বছর সময় লাগে, তাই যথেচ্ছভাবে ব্যবহার করলে অদূর ভবিষ্যতে পৃথিবীর সমস্ত জীবাশ্ম জ্বালানি (যেমন—কয়লা, পেট্রোলিয়াম, প্রাকৃতিক গ্যাস ইত্যাদি) নিঃশেষিত হবে। যেহেতু মানব সভ্যতার উন্নয়নের প্রতিটি পদক্ষেপ এই শক্তি উৎস ব্যতিরেকে অসম্ভব, তাই জীবাশ্ম জ্বালানির সংরক্ষণ অতি প্রয়োজন।

(ii) জীবাশ্ম জ্বালানির অতিরিক্ত ব্যবহার কমালে তার দহনে উৎপন্ন CO₂ গ্যাসের পরিমাণও বাতাসে কম হবে ফলে বায়ুদূষণ কম ঘটবে।

(iii) জীবাশ্ম জ্বালানির উৎসগুলি পুনর্নবীকরণযোগ্য নয়।

(iv) জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার নিয়ন্ত্রিত করলে গ্রিনহাউস গ্যাসের পরিমাণ হ্রাস পাবে, ফলে বিশ্ব উষ্ণায়নের মাত্রা কমবে।

২. সৌরশক্তি ব্যবহারের সুবিধা কী কী?

উত্তর: সৌরশক্তি ব্যবহারের সুবিধাগুলি নিম্নরূপ—

(i) সৌরশক্তি প্রবহমান ও অফুরন্ত, নিঃশেষ হবার সম্ভাবনা নেই, তাই ইচ্ছেমতো ব্যবহার করা যেতে পারে। বিজ্ঞানীদের মতে পৃথিবীর ক্রমবর্ধমান শক্তির চাহিদা সৌরশক্তির সাহায্যে পূরণ করা সম্ভব হবে।

(ii) সৌরশক্তি ব্যবহারে পরিবেশ দূষিত হয় না। জীবাশ্ম জ্বালানিগুলি থেকে শক্তি উৎপাদনের সময় কার্বন ডাই-অক্সাইড, কার্বন মনোক্সাইড ইত্যাদি নির্গত হয় যা বিশ্বব্যাপী উষ্ণায়নের মূল কারণ। তাই সৌরশক্তির ব্যবহার বৃদ্ধির সাথে সাথে পরিবেশের সংরক্ষণ ও ভারসাম্য বজায় রাখা সম্ভব হবে।

(iii) সৌরপ্যানেল ও ব্যাটারির সাহায্যে অতি সাধারণ পদ্ধতিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়, ফলে ব্যবহার করতে সুবিধা হয়।

(iv) প্রত্যন্ত পাহাড়ি বা দুর্গম অঞ্চলে, কম মূলধনে ঝুঁকিহীনভাবে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব।

৩. বায়োফুয়েল কয় প্রকার ও কী কী? প্রত্যেক প্রকারের উদাহরণ ও ব্যবহার উল্লেখ করো।

উত্তর: বায়োমাস থেকে উৎপন্ন জ্বালানিকে বায়োফুয়েল বলা হয়। বায়োফুয়েল তিন প্রকার, যথা— (i) কঠিন বায়োফুয়েল, (ii) তরল বায়োফুয়েল এবং (iii) গ্যাসীয় বায়োফুয়েল।

(i) কঠিন বায়োফুয়েল: কাঠ, বাঁশ, খড়, গৃহস্থালির আবর্জনা প্রভৃতি কঠিন বায়োফুয়েলের উদাহরণ। এগুলি মূলত গ্রামীণ এলাকায় রান্নার কাজে জ্বালানি হিসাবে ব্যবহৃত হয়।

(ii) তরল বায়োফুয়েল: বায়োইথানল (ভুট্টা ও আখের ছিবড়ার সন্ধান প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন) ও বায়োডিজেল (উদ্ভিজ্জ তেল ও ফ্যাটের ট্রান্স-এস্টারিফিকেশনে উৎপন্ন) তরল বায়োফুয়েলের উদাহরণ। বায়োইথানল সরাসরি গাড়ির জ্বালানিরূপে অথবা পেট্রোলের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করা হয়। বায়োডিজেল মূলত শীতপ্রধান দেশে ঘর গরম রাখতে ব্যবহৃত হয়।

(iii) গ্যাসীয় বায়োফুয়েল: গোবর গ্যাস গ্যাসীয় বায়োফুয়েলের উদাহরণ। এটি মূলত জ্বালানিরূপে ও আলো উৎপাদনের কাজে ব্যবহার করা হয়। বায়োগ্যাসের সাহায্যে বিদ্যুৎ উৎপাদনও করা হয়।

৪. ভূতাপশক্তি ব্যবহারের সুবিধা ও অসুবিধাগুলি উল্লেখ করো।

উত্তর: ভূ-তাপশক্তি ব্যবহারের সুবিধা ও অসুবিধাগুলি নিম্নরূপ—

সুবিধা অসুবিধা
(i) ভূ-তাপশক্তির জোগান অফুরন্ত। (i) ভূ-তাপশক্তি উৎপাদন কেন্দ্র নির্মাণ করা অত্যন্ত ব্যয়বহুল।
(ii) এই শক্তির জোগান অবাধ ও নিরবচ্ছিন্ন অর্থাৎ এই শক্তি ২৪ ঘণ্টা ধরে সরবরাহ করা সম্ভব। (ii) ভূগর্ভ থেকে উষ্ণজলের সঙ্গে বিভিন্ন ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ ভূপৃষ্ঠে চলে আসে; এটি নিয়ন্ত্রণে যে প্রযুক্তি ও নিরন্তর গবেষণা দরকার, তা বেশিরভাগ দেশেই সহজলভ্য নয়।
(iii) এই শক্তি সরাসরি ব্যবহার করলে গ্রিনহাউস গ্যাস পরিবেশে নির্গত হয় না, ফলে পরিবেশ দূষিত হয় না। (iii) উৎপাদন ক্ষমতা তুলনামূলকভাবে কম বলে সীমিত ক্ষেত্রে ব্যবহারযোগ্য।