Madhyamik Life Science Suggestion 2027 (Wbbse Class 10)(জীবজগতে নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয়)

Madhyamik Life Science Suggestion 2027 (WBBSE Class 10)

পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের (WBBSE) ২০২৭ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের জন্য জীবন বিজ্ঞানের প্রথম অধ্যায় ‘জীবজগতে নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয়’-এর সম্ভাব্য এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নাবলির সম্পূর্ণ সংকলন নিচে দেওয়া হলো। পাঠ্যবই পড়ার পাশাপাশি এই নির্বাচিত প্রশ্নোত্তরগুলি প্রস্তুত করলে পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বর তোলা নিশ্চিত হবে।

Life Science Suggestion Banner

মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান সাজেশন ২০২৭: সম্পূর্ণ অধ্যায়ভিত্তিক প্রস্তুতি নির্দেশিকা

পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের মাধ্যমিক পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের জন্য প্রথম অধ্যায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হরমোন, স্নায়ুতন্ত্র, উদ্ভিদের চলন ও প্রাণীদের গমন সংক্রান্ত প্রতিটি ছোট-বড় প্রশ্ন ও সঠিক উত্তর নিখুঁতভাবে নিচে সাজিয়ে দেওয়া হলো।

সেরা প্রস্তুতি নির্দেশিকা: এই অধ্যায়ের সমস্ত বহু বিকল্পভিত্তিক (MCQ), শূন্যস্থান পূরণ, সত্য/মিথ্যা নিরূপণ, স্তম্ভ মেলানো, এককথায় উত্তর, ২ নম্বরের সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা এবং ৫ নম্বরের বর্ণনামূলক প্রশ্নসমূহ এক নজরে দেখে নিয়ে খাতায় লিখে অভ্যাস করুন।


ট্যাগ / কি-ওয়ার্ডস: WBBSE Class 10 Life Science suggestion 2027, মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, Madhyamik Life Science question paper, জীবজগতে নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয় প্রশ্ন উত্তর

প্রথম অধ্যায় — জীবজগতে নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয়

১. বহু বিকল্পভিত্তিক প্রশ্নোত্তর [MCQ] (প্রতিটি প্রশ্নমান – ১)

১. নীচের কোন হরমোনটি গ্লাইকোপ্রোটিন ধর্মী নয়?

[A] ACTH [B] FSH [C] LH [D] TSH
উত্তর: [A] ACTH

২. যে ছিদ্র দ্বারা চোখে আলো প্রবেশ করে, সেটি হল—

[A] পিউপিল [B] কনজাংটিভা [C] করনিয়া [D] রেটিনা
উত্তর: [A] পিউপিল

৩. রডকোশে উপস্থিত রঞ্জক পদার্থটি হল—

[A] আয়োডপসিন [B] সায়ানপসিন [C] ফটোপসিন [D] রোডোপ্সিন
উত্তর: [D] রোডোপ্সিন

৪. তারামাছের গমনাঙ্গের নাম—

[A] মাংসল পদ [B] পার্শ্বপদ [C] নালিপদ [D] ক্ষণপদ
উত্তর: [C] নালিপদ

৫. বীজহীন ফল উৎপাদনে সাহায্যকারী হরমোন—

[A] জিব্বেরেলিন [B] অক্সিন [C] ফ্লোরিজেন [D] কাইনিন
উত্তর: [B] অক্সিন

৬. প্রথম আবিষ্কৃত হরমোনটির নাম কী?

[A] গ্যাস্ট্রিন [B] অক্সিন [C] সিক্রেটিন [D] রিল্যাক্সিন
উত্তর: [C] সিক্রেটিন

৭. উদ্ভিদে ফুল ফোটাতে সাহায্যকারী একটি প্রকল্পিত হরমোন হল—

[A] ইথিলিন [B] অক্সিন [C] ফ্লোরিজেন [D] ডরমিন
উত্তর: [C] ফ্লোরিজেন

৮. কচি কলাপাতার গুটিয়ে থাকা এক প্রকার—

[A] এপিন্যাস্টি চলন [B] হাইপোন্যাস্টি চলন [C] সিসমোন্যাস্টি চলন [D] কোনোটিই নয়
উত্তর: [B] হাইপোন্যাস্টি চলন

৯. নিম্নের কোনটি হাসি, কান্না, ভয় নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে—

[A] মধ্য মস্তিষ্ক [B] সেরিবেলাম [C] সেরিব্রাল কর্টেক্স [D] হাইপোথ্যালামাস
উত্তর: [D] হাইপোথ্যালামাস

১০. একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের ক্ষেত্রে সুষুম্নাকাণ্ডের ওজন প্রায়—

[A] 15 গ্রাম [B] 35 গ্রাম [C] 75 গ্রাম [D] 80 গ্রাম
উত্তর: [B] 35 গ্রাম

১১. গমনে অক্ষম একটি প্রাণী হল—

[A] হাইড্রা [B] স্পঞ্জ [C] জোঁক [D] স্টারফিশ
উত্তর: [B] স্পঞ্জ

১২. দুটি নিউরোনের সংযোগ স্থলে উপস্থিত থাকে—

[A] অ্যাকুয়াস হিউমর [B] নিউরোহিউমর [C] নিউরোট্রান্সমিটার [D] ভিট্রিয়াসহিউমর
উত্তর: [C] নিউরোট্রান্সমিটার (বা নিউরোহিউমর)

১৩. উদ্ভিদের মূল আলোর উৎসের বিপরীত দিকে অগ্রসর হয়, এই চলনকে বলে—

[A] আলোক অনুকূলবর্তী [B] আলোক প্রতিকূলবর্তী [C] অভিকর্ষ অনুকূলবর্তী [D] অভিকর্ষ প্রতিকূলবর্তী
উত্তর: [B] আলোক প্রতিকূলবর্তী

১৪. মানবদেহে স্বাভাবিক বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে কোন্ হরমোন?

[A] STH [B] TSH [C] ACTH [D] GTH
উত্তর: [A] STH

১৫. বামনত্বের কারণ হল—

[A] থাইরক্সিনের অধিক ক্ষরণ [B] গ্রোথ হরমোনের অধিক ক্ষরণ [C] অ্যাড্রিনালিন হরমোনের অধিক ক্ষরণ [D] গ্রোথ হরমোনের কম ক্ষরণ
উত্তর: [D] গ্রোথ হরমোনের কম ক্ষরণ

১৬. ইউগ্লিনার গমন অঙ্গ হল—

[A] মায়োনিম অনুসূত্র [B] সিলিয়া [C] ফ্লাজেলা [D] ক্ষণপদ
উত্তর: [C] ফ্লাজেলা

১৭. দেহের কোন অস্থিটি দীর্ঘতম—

[A] দুটি ফিবিউলা [B] ফিমার [C] দুটি টিবিয়া [D] দুটি আলনা
উত্তর: [B] ফিমার

১৮. নিম্নের কোনটি অ্যামিবার গমন অঙ্গ—

[A] সিলিয়া [B] ফ্লাজেলা [C] সিটা [D] সিউডোপডিয়া
উত্তর: [D] সিউডোপডিয়া

১৯. লজ্জাবতীর পাতা স্পর্শ করলে মুদে যাওয়া হল—

[A] থার্মোন্যাস্টি [B] কেমোন্যাস্টি [C] সিসমোন্যাস্টি [D] ফোটোন্যাস্টি
উত্তর: [C] সিসমোন্যাস্টি

২০. ফুল ফোটাতে সাহায্য করে কোন হরমোন?

[A] অক্সিন [B] কাইনিন [C] ইথিলিন [D] ফ্লোরিজেন
উত্তর: [D] ফ্লোরিজেন

২১. আলোর তীব্রতার ওপর নির্ভরশীল চলনকে বলে—

[A] ফোটোট্যাকটিক চলন [B] ফোটোট্রপিক চলন [C] নিকটিন্যাস্টিক চলন [D] ফটোন্যাস্টিক চলন
উত্তর: [D] ফটোন্যাস্টিক চলন

২২. কোন্ উদ্ভিদটি গমনে সক্ষম?

[A] ভলভক্স [B] মস [C] স্পাইরোগাইরা [D] ফার্ন
উত্তর: [A] ভলভক্স

২৩. খর্ব উদ্ভিদের পর্বমধ্যের দৈর্ঘ্যবৃদ্ধিতে সাহায্যকারী হরমোনটি হল—

[A] অক্সিন [B] জিব্বেরেলিন [C] সাইটোকাইনিন [D] অ্যাবসিসিক অ্যাসিড
উত্তর: [B] জিব্বেরেলিন

২৪. এদের মধ্যে কোন্টি মিশ্র গ্রন্থি নয়?

[A] অ্যাড্রিনাল [B] অগ্ন্যাশয় গ্রন্থি [C] শুক্রাশয় [D] ডিম্বাশয়
উত্তর: [A] অ্যাড্রিনাল

২৫. প্রতিবর্ত ক্রিয়া সাধারণত নিয়ন্ত্রিত হয়—

[A] মস্তিষ্ক দ্বারা [B] স্নায়ুগ্রন্থি দ্বারা [C] সুষুম্নাকাণ্ড দ্বারা [D] করোটি স্নায়ুর দ্বারা
উত্তর: [C] সুষুম্নাকাণ্ড দ্বারা

২৬. দেহের উষ্ণতা নিয়ন্ত্রণ করে—

[A] থ্যালামাস [B] মেটাথ্যালামাস [C] হাইপোথ্যালামাস [D] এপিথ্যালামাস
উত্তর: [C] হাইপোথ্যালামাস

২৭. মানুষের শরীরে মেরুদণ্ডের সঙ্গে করোটির সংযোগস্থলে থাকে—

[A] কবজা সন্ধি [B] বল ও সকেট সন্ধি [C] পিভট সন্ধি [D] অচল সন্ধি
উত্তর: [C] পিভট সন্ধি

২৮. প্রাকৃতিক উদ্ভিদ হরমোন হল—

[A] রাইজোবাইন [B] ফাইলোকলাইন [C] ফ্লোরিজেন [D] অক্সিন
উত্তর: [D] অক্সিন

২৯. পদ্মফুল দিনের আলোয় ফোটে ও রাতের অন্ধকারে বুজে যায়, এটি এক ধরনের—

[A] নিকটিন্যাস্টিক চলন [B] হাইপোন্যাস্টিক চলন [C] সিসমোন্যাস্টিক চলন [D] ফোটোন্যাস্টিক চলন
উত্তর: [D] ফোটোন্যাস্টিক চলন

৩০. লাউ, কুমড়োর আকর্ষের বৃদ্ধি পাওয়া একপ্রকার—

[A] প্রকরণ চলন [B] ফোটোন্যাস্টিক চলন [C] ট্যাকটিক চলন [D] বৃদ্ধিজ চলন
উত্তর: [D] বৃদ্ধিজ চলন

৩১. গয়টার রোগের কারণ থাইরক্সিনের—

[A] কম ক্ষরণ [B] বেশি ক্ষরণ [C] সঠিক মাত্রায় ক্ষরণ [D] কোনোটিই নয়
উত্তর: [B] বেশি ক্ষরণ (বা আয়োডিনের অভাবে কম ক্ষরণজনিত সাধারণ গয়টার)

৩২. জরুরিকালীন হরমোন বলা হয়—

[A] TSH-কে [B] ACTH-কে [C] অ্যাড্রিনালিনকে [D] থাইরক্সিনকে
উত্তর: [C] অ্যাড্রিনালিনকে

৩৩. নিম্নলিখিত গ্রন্থিগুলির মধ্যে কোনটি অন্তঃক্ষরা বা অনাল গ্রন্থি?

[A] যকৃৎ [B] লালাগ্রন্থি [C] থাইরয়েড [D] অশ্রুগ্রন্থি
উত্তর: [C] থাইরয়েড

৩৪. উদ্ভিদ কাণ্ড জলের বিপরীত দিকে বৃদ্ধি পেলে তা—

[A] পজিটিভলি ফোটোট্রপিক [B] নেগেটিভলি হাইড্রোট্রপিক [C] পজিটিভলি জিওট্রপিক [D] নেগেটিভলি জিওট্রপিক
উত্তর: [B] নেগেটিভলি হাইড্রোট্রপিক

৩৫. যে পেশি দুটি অস্থিকে ভাঁজ করতে সাহায্য করে, তা হল—

[A] অ্যাডাক্টর [B] অ্যাবডাক্টর [C] ফ্লেক্সর [D] এক্সটেনসর
উত্তর: [C] ফ্লেক্সর

৩৬. পরিণত মানুষের মস্তিষ্কের ওজন প্রায়—

[A] 0.36 কিগ্রা [B] 1.36 কিগ্রা [C] 2.36 কিগ্রা [D] 3.36 কিগ্রা
উত্তর: [B] 1.36 কিগ্রা

৩৭. উদ্ভিদের সাড়া প্রদানের ক্ষমতা বিজ্ঞানী জগদীশচন্দ্র বসু যে যন্ত্রের সাহায্যে প্রমাণ করেন, তা হল—

[A] ক্রেসকোগ্রাফ [B] সিসমোগ্রাফ [C] ফোটোগ্রাফ [D] লিথোগ্রাফ
উত্তর: [A] ক্রেসকোগ্রাফ

৩৮. অ্যান্টিকিটোজেনিক হরমোনটি হল—

[A] অ্যাড্রিনালিন [B] গ্লুকাগন [C] ইনসুলিন [D] গ্যাসট্রিন
উত্তর: [C] ইনসুলিন

৩৯. ক্যালোরিজেনিক হরমোন হল—

[A] STH [B] থাইরক্সিন [C] ACTH [D] GTH
উত্তর: [B] থাইরক্সিন

৪০. মানবদেহের রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বজায় রাখে—

[A] ইনসুলিন ও গ্লুকাগন [B] অ্যাড্রিনালিন ও নর অ্যাড্রিনালিন [C] T3 এবং T4 [D] STH ও ACTH
উত্তর: [A] ইনসুলিন ও গ্লুকাগন

৪১. হাঁটু ও কনুই-এর অস্থিসন্ধিগুলিকে বলে—

[A] সমতল সন্ধি [B] বল ও সকেট সন্ধি [C] অচল সন্ধি [D] কবজা সন্ধি
উত্তর: [D] কবজা সন্ধি

৪২. দেহের ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণ করে—

[A] গুরুমস্তিষ্ক [B] মধ্যমস্তিষ্ক [C] অগ্রমস্তিষ্ক [D] লঘুমস্তিষ্ক
উত্তর: [D] লঘুমস্তিষ্ক

৪৩. চিন্তা, স্মৃতি, বুদ্ধি ইত্যাদি মানসিক বোধ নিয়ন্ত্রণ করে—

[A] থ্যালামাস [B] হাইপোথ্যালামাস [C] সেরিব্রাল কর্টেক্স [D] পনস
উত্তর: [C] সেরিব্রাল কর্টেক্স

২. শূন্যস্থান পূরণ করো (প্রতিটি প্রশ্নমান – ১)

১. হাতকে ভাঁজ করতে সাহায্য করে _______ পেশি।
উত্তর: বাইসেপস

২. ভাঁজ করা হাতকে সোজা করতে সাহায্য করে _______ পেশি।
উত্তর: ট্রাইসেপস

৩. সূর্যমুখী ফুল দিনের আলোতে ফোটে, এটি হল _______ চলন।
উত্তর: ফোটোন্যাস্টি

৪. জিব্বেরেলিন আবিষ্কার করেন বিজ্ঞানী _______।
উত্তর: কুরোসাওয়া

৫. _______ হরমোন উদ্ভিদের ফুল ফোটাতে সাহায্য করে।
উত্তর: ফ্লোরিজেন

৬. যে পালক পাখিকে উড়তে সাহায্য করে তাকে _______ পালক বলে।
উত্তর: উড্ডয়ন

৭. ট্রপিক চলনের অপর নাম _______ চলন।
উত্তর: দিক-নির্ণীত

৮. লজ্জাবতী লতা _______ উদ্দীপনায় সাড়া দেয়।
উত্তর: স্পর্শ

৯. বনচাঁড়ালের পার্শ্বপত্রকদ্বয়ে _______ চলন দেখা যায়।
উত্তর: প্রকরণ

১০. সুন্দরী উদ্ভিদের শ্বাসমূলে _______ জিওট্রপিক চলন দেখা যায়।
উত্তর: প্রতিকূলবর্তী

১১. অন্তঃক্ষরা ও বহিঃক্ষরা—উভয় অংশে বর্তমান থাকলে তাকে _______ গ্রন্থি বলা হয়।
উত্তর: মিশ্র

১২. পুরুষদেহে LH এর অপর নাম হল— _______।
উত্তর: ICSH

১৩. অতিরিক্ত জলপিপাসা পেলে তাকে _______ বলা হয়।
উত্তর: পলিডিপসিয়া

১৪. থাইরয়েড গ্রন্থির ক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ করে _______ হরমোন।
উত্তর: থাইরয়েড স্টিমুলেটিং (TSH)

১৫. স্ত্রীদেহে প্রাপ্ত একটি গোনাডোট্রপিক হরমোন হল _______ হরমোন।
উত্তর: লিউটিনাইজিং (LH)

১৬. ক্ল্যামাইডোমোনাস হল গমনে _______ উদ্ভিদ।
উত্তর: সক্ষম

১৭. উদ্ভিদের _______ না থাকায় প্রাণীর মতো দ্রুত সাড়া দেবার ক্ষমতা থাকে না।
উত্তর: স্নায়ুতন্ত্র

১৮. নিষেক ছাড়াই বীজহীন ফল উৎপাদনকে _______ বলে।
উত্তর: পার্থেনোকার্পি

১৯. একটি মিশ্রগ্রন্থি হল _______।
উত্তর: অগ্ন্যাশয়

২০. _______ হরমোনের অধিক ক্ষরণে গয়টার রোগ হয়।
উত্তর: থাইরক্সিন

২১. সুষুম্নাকাণ্ডের মাঝের গহ্বরকে _______ বলে।
উত্তর: নিউরোসিল

২২. দুটি নিউরোনের সংযোগস্থলকে _______ বলে।
উত্তর: সাইন্যাপ্স

২৩. উদ্ভিদদের পাতা, ফুল ও ফলের অকাল পতন রোধকারী কৃত্রিম হরমোন হল _______।
উত্তর: IBA (বা NAA/2,4-D)

২৪. কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের গহ্বরে যে রস থাকে, তাকে _______ বলে।
উত্তর: সেরিব্রো স্পাইনাল ফ্লুইড (CSF)

২৫. স্থান পরিবর্তন না করে বিভিন্ন দূরত্বের বস্তুকে স্পষ্ট দেখার ক্ষমতাকে _______ বলে।
উত্তর: উপযোজন

২৬. _______ এর প্রভাবে বয়ঃসন্ধিতে স্ত্রীদেহে এবং পুংদেহে _______ হরমোনের প্রভাবে যৌনলক্ষণ প্রকাশ পায়।
উত্তর: ইস্ট্রোজেন, টেস্টোস্টেরন

২৭. মস্তিষ্কের সর্ববৃহৎ অংশটি হল— _______।
উত্তর: গুরুমস্তিষ্ক

২৮. জীবদেহে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টিকারী পদার্থকে _______ বলে।
উত্তর: উদ্দীপক

২৯. পাতার বৃদ্ধি হল আলোক _______ চলন।
উত্তর: তির্যকবর্তী

৩০. উষ্ণতার তীব্রতা যখন উদ্ভিদ অঙ্গের চলন ঘটায়, তখন তাকে _______ বলে।
উত্তর: থার্মোন্যাস্টিক চলন

৩১. আগাছা দমনে ব্যবহার করা হয় কৃত্রিম অক্সিন _______।
উত্তর: 2, 4-D

৩২. পাতাবাহার গাছকে দীর্ঘদিন সজীব রাখার জন্য ব্যবহার করা হয় _______ হরমোন।
উত্তর: কাইনিন

৩৩. যে সকল গ্রন্থির নালি থাকে না তাদের _______ গ্রন্থি বলে।
উত্তর: অনাল (অন্তঃক্ষরা)

৩৪. _______ হরমোনের অভাবে রক্তে শর্করার পরিমাণ বৃদ্ধি পায়।
উত্তর: ইনসুলিন

৩৫. অ্যাড্রেনালিনের অপর নাম _______।
উত্তর: এপিনেফ্রিন

৩৬. যে বিজ্ঞানী হরমোন নামকরণ করেন— _______।
উত্তর: বেলিস ও স্টারলিং

৩. সত্য অথবা মিথ্যা নিরূপণ করো (প্রতিটি প্রশ্নমান – ১)

১. পিটুইটারিকে প্রভুগ্রন্থির প্রভু বলা হয়।
উত্তর: মিথ্যা (হাইপোথ্যালামাসকে বলা হয়)

২. ব্যাঙাচির রূপান্তরে গ্রোথ হরমোন সাহায্য করে।
উত্তর: মিথ্যা (থাইরক্সিন সাহায্য করে)

৩. STH-এর অপর নাম গ্রোথ হরমোন।
উত্তর: সত্য

৪. ট্রপিক চলন হরমোন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।
উত্তর: সত্য

৫. ট্যাকটিক চলন একপ্রকার বৃদ্ধিজ চলন।
উত্তর: মিথ্যা

৬. ক্রিয়ার পর হরমোন বিনষ্ট হয়।
উত্তর: সত্য

৭. মস্তিষ্কের শেষ অংশটি হল মেডালা অবলংগাটা।
উত্তর: সত্য

৮. মানুষের চোখের লেন্স দ্বি-অবতল প্রকৃতির।
উত্তর: মিথ্যা (দ্বি-উত্তল প্রকৃতির)

৯. উদ্দীপনা বাহ্যিক বা আভ্যন্তরীণ হতে পারে।
উত্তর: সত্য

১০. ক্রেসকোগ্রাফ যন্ত্রের দ্বারা উদ্ভিদের বৃদ্ধি পরিমাপ করা হয়।
উত্তর: সত্য

১১. লজ্জাবতী লতার পত্রকের চলন হল সিসমোন্যাস্টিক চলন।
উত্তর: সত্য

১২. সূর্যমুখী ও পদ্মফুলে ফোটোন্যাস্টিক চলন দেখা যায়।
উত্তর: সত্য

১৩. বনচাঁড়ালের পাতা ত্রিফলকযুক্ত।
উত্তর: সত্য

১৪. পাখির ল্যাজের পালককে রেমিজেস বলা হয়।
উত্তর: মিথ্যা (রেকট্রিসেস বলা হয়)

১৫. পাখির উড্ডয়নে সাহায্যকারী অঙ্গকে পাখনা বলে।
উত্তর: মিথ্যা (ডানা বলে)

১৬. হাঙর-জাতীয় মাছের দেহে 10টি পাখনা থাকে।
উত্তর: মিথ্যা

১৭. সিউডোপোডিয়ার অপর নাম ক্ষণপদ।
উত্তর: সত্য

১৮. অ্যামিবার গমনে সাহায্যকারী অঙ্গ হল ফ্লাজেলা।
উত্তর: মিথ্যা (সিউডোপোডিয়া)

১৯. সাইটোকাইনিনের অপর নাম কাইনিন।
উত্তর: সত্য

২০. ফ্লোরিজেন নামক হরমোনটি ফল গঠনে সাহায্য করে।
উত্তর: মিথ্যা (ফুল ফোটাতে সাহায্য করে)

২১. কৃত্রিম অক্সিন ফলমোচন রোধ করে।
উত্তর: সত্য

২২. ডিম্বাশয় একটি মিশ্র গ্রন্থি।
উত্তর: সত্য

২৩. মাতৃদেহে স্তনদুগ্ধ উৎপাদনে সাহায্য করে প্রোল্যাকটিন।
উত্তর: সত্য

২৪. গ্লুকাগন রক্তে শর্করার পরিমাণ বৃদ্ধি করে।
উত্তর: সত্য

২৫. রক্তে শর্করার পরিমান কমায় এরূপ একটি হরমোন হল ইনসুলিন।
উত্তর: সত্য

২৬. পিউপিলের মাধ্যমে চোখে আলো প্রবেশ করে।
উত্তর: সত্য

২৭. প্রেসবায়েপিয়ার ক্ষেত্রে উত্তল লেন্স ব্যবহার করা উচিত।
উত্তর: সত্য (বাইফোকাল/উত্তল লেন্স)

২৮. হাঁটু ও কনুইয়ের অস্থিসন্ধি কবজা সন্ধির উদাহরণ।
উত্তর: সত্য

২৯. কারকের একটি উদাহরণ হল কঙ্কাল পেশি।
উত্তর: সত্য

৩০. নিসল দানা কেবলমাত্র পেশিকোশে থাকে।
উত্তর: মিথ্যা (নিউরোন বা স্নায়ুকোশে থাকে)

৪. স্তম্ভ মেলানো (A-স্তম্ভের সাথে B-স্তম্ভ) (মান – ১)

A-স্তম্ভ B-স্তম্ভ
১. শিমগাছের পাতা অধিক তাপে মুদে যায়A. সিসমোন্যাস্টিক চলন
২. রাসায়নিকের সংস্পর্শে উদ্ভিদের কচিপাতা বেঁকে যায়B. ফোটোন্যাস্টিক চলন
৩. সূর্যমুখী ফুল দিনের আলোয় ফোটেC. কেমোন্যাস্টিক চলন
৪. লজ্জাবতীর পাতা স্পর্শ করলে মুদে যায়D. থার্মোন্যাস্টিক চলন
E. নিকটিন্যাস্টিক চলন
উত্তর: ১ → [D], ২ → [C], ৩ → [B], ৪ → [A]

৫. একটি শব্দে বা একটি বাক্যে উত্তর দাও (প্রতিটি প্রশ্নমান – ১)

১. কোন্ হরমোনকে ক্যালোরিজেনিক হরমোন বলে?
উত্তর: থাইরক্সিনকে ক্যালোরিজেনিক হরমোন বলে।

২. গয়টারের একটি উপসর্গ উল্লেখ করো।
উত্তর: নেত্রগোলক অক্ষিকোটর থেকে সামনের দিকে ঠেলে বেরিয়ে আসে এবং থাইরয়েড গ্রন্থি ফুলে যায়।

৩. এমন একটি উদ্ভিদ হরমোনের নাম করো যা বাষ্পমোচন কমায়?
উত্তর: অ্যাবসিসিক অ্যাসিড (ABA) উদ্ভিদের বাষ্পমোচন কমায়।

৪. STH-এর পুরো নাম কী?
উত্তর: সোমাটোট্রপিক হরমোন (Somatotropic Hormone)।

৫. TSH-এর পুরো নাম লেখো।
উত্তর: থাইরয়েড স্টিমুলেটিং হরমোন (Thyroid Stimulating Hormone)।

৬. HRF-এর সম্পূর্ণ নাম লেখো।
উত্তর: হাইপোথ্যালামিক রিলিজিং ফ্যাক্টর (Hypothalamic Releasing Factor)।

৭. হরমোনের রাসায়নিক প্রকৃতি কীরূপ?
উত্তর: হরমোন প্রোটিনধর্মী, স্টেরয়েডধর্মী, অ্যামাইনোধর্মী অথবা জৈব অম্লধর্মী বিভিন্ন প্রকৃতির হতে পারে।

৮. অক্সিন হরমোন কে আবিষ্কার করেন?
উত্তর: ডাচ বিজ্ঞানী ফ্রিটস ভেন্ট (1928) জই (Oat) গাছের ভ্রূণমুকুলাবরণী থেকে অক্সিন আবিষ্কার ও নামকরণ করেন।

৯. ডাবের জলে কোন হরমোন পাওয়া যায়?
উত্তর: ডাবের জলে কাইনিন বা সাইটোকাইনিন হরমোন পাওয়া যায়।

১০. উদ্ভিদের কোশ বিভাজনকালে সাইটোকাইনেসিসে সাহায্য করে কোন্ হরমোন?
উত্তর: সাইটোকাইনিন।

১১. পায়রার একটি উড্ডয়ন পেশির নাম লেখো।
উত্তর: পেক্টোরালিস মেজর।

১২. দুটি অস্থির সংযোগস্থলকে কী বলে?
উত্তর: অস্থিসন্ধি (যা লিগামেন্ট দ্বারা যুক্ত থাকে)।

১৩. ICSH-এর পুরো নাম কী?
উত্তর: ইন্টারস্টিশিয়াল সেল স্টিমুলেটিং হরমোন (Interstitial Cell Stimulating Hormone)।

১৪. বীজবিহীন ফল উৎপাদনে ব্যবহৃত হরমোনের নাম কী?
উত্তর: অক্সিন (কৃত্রিম অক্সিন যেমন IBA, NAA)।

১৫. প্রথম আবিষ্কৃত প্রাণী হরমোন কোন্টি?
উত্তর: সিক্রেটিন।

১৬. LTH-এর পুরো নাম কী?
উত্তর: লিউটোট্রপিক হরমোন (বা প্রোল্যাকটিন)।

১৭. মূত্রের মাধ্যমে অতিরিক্ত গ্লুকোজের নিঃসরণকে কী বলে?
উত্তর: গ্লুকোসুরিয়া।

১৮. LTH-এর কাজ কী?
উত্তর: স্ত্রীদের প্রসবের পর স্তনদুগ্ধ ক্ষরণে সাহায্য করে।

১৯. জিব্বেরেলিন প্রথম কোথা থেকে আবিষ্কৃত হয়?
উত্তর: Gibberella fujikuroi নামক ছত্রাক থেকে।

২০. একটি ক্ষারীয় উদ্ভিদ হরমোনের নাম করো।
উত্তর: সাইটোকাইনিন।

২১. মেরুবিহীন নিউরোনকে কী বলে?
উত্তর: অ্যাপোলার নিউরোন।

২২. উদ্ভিদ দেহে সমন্বয় সাধনের কাজ কীসের সাহায্যে ঘটে?
উত্তর: উদ্ভিদ হরমোন বা ফাইটো হরমোনের সাহায্যে।

২৩. CNS-এর পুরো নাম কী?
উত্তর: সেন্ট্রাল নার্ভাস সিস্টেম (Central Nervous System)।

২৪. ANS-এর পুরো নাম কী?
উত্তর: অটোনোমিক নার্ভাস সিস্টেম (Autonomic Nervous System)।

২৫. মানুষের দীর্ঘতম স্নায়ু কোন্টি?
উত্তর: সায়াটিক নার্ভ।

২৬. কোন্ অ্যামিনো অ্যাসিড থেকে অক্সিন হরমোন সংশ্লেষিত হয়?
উত্তর: ট্রিপ্টোফ্যান।

২৭. কোন্ বিজ্ঞানী প্রথম জিব্বেরেলিন নামকরণ করেন?
উত্তর: বিজ্ঞানী ইয়াবুতা (Yabuta)।

২৮. ফার্ন গাছের শুক্রাণুতে কোন্ প্রকার চলন দেখা যায়?
উত্তর: ম্যালিক অ্যাসিডের প্রভাবে কেমোট্যাকটিক চলন।

২৯. বনচাঁড়াল গাছের বিজ্ঞানসম্মত নাম কী?
উত্তর: Desmodium gyrans

৩০. টিউলিপ ফুলে কী প্রকার চলন দেখা যায়?
উত্তর: থার্মোন্যাস্টি চলন।

৩১. কোন প্রকার উদ্ভিদে অ্যামিবয়েড গমন দেখা যায়?
উত্তর: মিক্সোমাইসিটিস জাতীয় স্লাইম মোল্ডে।

৩২. কোন্ উদ্ভিদ হরমোনটি প্রথম ছত্রাক থেকে আবিষ্কৃত হয়?
উত্তর: জিব্বেরেলিন।

৩৩. সূর্যাস্তের পর তেঁতুল গাছের পাতাগুলি মুড়ে যায়—এটি কী ধরনের চলন?
উত্তর: নিকটিন্যাস্টি চলন।

৩৪. GTH-এর পুরো নাম কী?
উত্তর: গোনাডোট্রপিক হরমোন (Gonadotropic Hormone)।

৩৫. ACTH-এর সম্পূর্ণ নাম লেখো।
উত্তর: অ্যাড্রিনোকর্টিকোট্রপিক হরমোন (Adrenocorticotropic Hormone)।

৩৬. আলোর তীব্রতা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত উদ্ভিদ অঙ্গের চলনকে কী বলে?
উত্তর: ফোটোন্যাস্টিক চলন।

৩৭. তাপের তীব্রতা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত উদ্ভিদ অঙ্গের চলনকে কী বলে?
উত্তর: থার্মোন্যাস্টিক চলন।

৩৮. পায়রার লেজে ও ডানায় পালকের সংখ্যা কয়টি?
উত্তর: লেজে ১২টি রেকট্রিসেস এবং দুটি ডানায় ২৩টি করে রেমিজেস থাকে।

৩৯. পাখির লেজের পালক রেকট্রিসেসের কাজ কী?
উত্তর: ওড়ার সময় দিক পরিবর্তনে ও গতিরোধক (ব্রেক) হিসেবে কাজ করে।

৪০. পার্থেনোকার্পি কাকে বলে?
উত্তর: অক্সিন হরমোনের প্রভাবে নিষেক ছাড়াই বীজহীন ফল উৎপাদনের পদ্ধতিকে পার্থেনোকার্পি বলে।

৪১. পীতবিন্দু ও অন্ধবিন্দু বলিতে কী বোঝ?
উত্তর: রেটিনার কেন্দ্রে অবস্থিত যেখানে সবথেকে স্পষ্ট প্রতিবিম্ব তৈরি হয় তাকে পীতবিন্দু বলে। অপটিক স্নায়ু যেখানে রেটিনার সাথে মিলিত হয় এবং কোনো আলোকগ্রাহী কোশ না থাকায় প্রতিবিম্ব গঠিত হয় না, তাকে অন্ধবিন্দু বলে।

৪২. প্রকল্পিত হরমোন কী?
উত্তর: যেসব হরমোনের উপস্থিতি ও কাজ প্রমাণিত হলেও রাসায়নিক গঠন নিশ্চিত জানা যায়নি, তাদের প্রকল্পিত হরমোন বলে; যেমন—ফ্লোরিজেন।

৪৩. হেটেরোঅক্সিন কী?
উত্তর: ইন্ডোল বর্গযুক্ত প্রাকৃতিক অক্সিন অর্থাৎ ইন্ডোল ৩-অ্যাসিটিক অ্যাসিডকে (IAA) হেটেরোঅক্সিন বলা হয়।

৪৪. ফুলের প্রস্ফুটন কী ধরনের চলন?
উত্তর: এপিন্যাস্টি চলন।

৪৫. কোন হরমোন আইলেটস্ অফ ল্যাঙ্গারহ্যানস থেকে নিঃসৃত হয়?
উত্তর: আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যানসের বিটা কোশ থেকে ইনসুলিন এবং আলফা কোশ থেকে গ্লুকাগন নিঃসৃত হয়।

৬. সংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্নোত্তর (প্রতিটি প্রশ্নমান – ২)

১. হরমোনকে 'দ্বৈত-নিয়ন্ত্রক' বলা হয় কেন?

জীবদেহের কোনো সুনির্দিষ্ট শারীরবৃত্তীয় কাজে কিছু হরমোন সহায়তা জোগায় এবং অপর কিছু হরমোন বিপরীত প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে বাধা দেয়। এইভাবে উভয়ে মিলে কার্যকারিতা নিয়ন্ত্রণে ভারসাম্য রক্ষা করে বলে হরমোনকে দ্বৈত নিয়ামক বা দ্বৈত-নিয়ন্ত্রক বলা হয়। যেমন—ইনসুলিন রক্তের শর্করার মাত্রা কমায় কিন্তু গ্লুকাগন রক্তের শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে ভারসাম্য বজায় রাখে।


২. ট্রপিক ও ট্যাকটিক চলনের মূল পার্থক্য কী?

ট্রপিক চলনে উদ্ভিদের বৃদ্ধির মাধ্যমে কেবলমাত্র দেহাংশের বাঁক বা বক্রচলন ঘটে, কিন্তু উদ্ভিদের সামগ্রিক স্থান পরিবর্তন হয় না। পক্ষান্তরে, ট্যাকটিক চলনে বাহ্যিক উদ্দীপকের প্রভাবে সমগ্র উদ্ভিদদেহের সামগ্রিক স্থান পরিবর্তন ঘটে।


৩. ট্রপিক ও ন্যাস্টিক চলনের পার্থক্য লেখো।

উদ্ভিদ অঙ্গের যে আবিষ্ট বক্রচলন উদ্দীপকের গতিপথ অনুসারে ঘটে, তাকে ট্রপিক চলন বলে। অন্যদিকে উদ্ভিদ অঙ্গের যে বক্রচলন উদ্দীপকের গতিপথের ওপর নির্ভর না করে কেবল উদ্দীপকের তীব্রতার প্রভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়, তাকে ন্যাস্টিক চলন বলা হয়।


৪. সিসমোন্যাস্টি চলন কাকে বলে? উদাহরণ দাও।

আঘাত, স্পর্শ, বায়ুপ্রবাহ বা ঘর্ষণের মতো যান্ত্রিক উদ্দীপকের তীব্রতায় উদ্ভিদ অঙ্গে যে ন্যাস্টিক চলন ঘটে, তাকে সিসমোন্যাস্টি চলন বা স্পর্শব্যাপ্তি চলন বলে। উদাহরণ: লজ্জাবতী পাতার পত্রক স্পর্শ করলে রসস্ফীতিজনিত চাপের পার্থক্যে তৎক্ষণাৎ পত্রকগুলি নুয়ে পড়ে ও বুজে যায়।


৫. হরমোনের দুটি প্রধান কাজ উল্লেখ করো।

(i) রাসায়নিক সমন্বয় সাধন: হরমোন জীবদেহের বিভিন্ন দূরবর্তী কোষ ও কলার মধ্যে যোগাযোগ ও সমন্বয় গড়ে তোলে।
(ii) বিপাকীয় নিয়ন্ত্রণ: জীবদেহের বৃদ্ধি, প্রোটিন, ফ্যাট ও শর্করা বিপাক নিয়ন্ত্রণ করে।


৬. হরমোন ও উৎসেচকের দুটি পার্থক্য লেখো।
বৈশিষ্ট্যহরমোনউৎসেচক
উৎসঅনাল বা অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয়।সনাল বা বহিঃক্ষরা গ্রন্থি থেকে ক্ষরিত হয়।
পরিণতিক্রিয়ার পর সম্পূর্ণ বিনষ্ট হয়।ক্রিয়ার পর গঠন অপরিবর্তিত থাকে।

৭. কৃষিকার্যে জিব্বেরেলিনের দুটি ব্যাবহারিক প্রয়োগ লেখো।

(i) খর্বতা দূরীকরণ: ভুট্টা, মটর ইত্যাদি বংশগত খর্ব জাতের উদ্ভিদের পর্বমধ্যের দ্রুত বৃদ্ধি ঘটিয়ে স্বাভাবিক উচ্চতা প্রদান করা যায়।
(ii) সুপ্তাবস্থা ভঙ্গ: জিব্বেরেলিন প্রয়োগের মাধ্যমে লেটুস, আলুর সুপ্তবীজের দ্রুত অঙ্কুরোদ্গম সম্ভবপর হয়।


৮. প্রকরণ চলনকে রসস্ফীতিজনিত চলন বলে কেন?

উদ্ভিদের কাণ্ড বা পাতার নির্দিষ্ট অংশের কোষে অভিস্রবণের ফলে অন্তঃরসস্ফীতি চাপের হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটে। এই পরিবর্তনের ফলেই উদ্ভিদ অঙ্গটি ওঠানামা করে বক্রচলন প্রদর্শন করে, তাই একে রসস্ফীতিজনিত চলন বলে। যেমন—বনচাঁড়ালের পার্শ্বপত্রকের ওঠানামা।


৯. মধুমেহ বা ডায়াবেটিস মেলিটাস কাকে বলে?

অগ্ন্যাশয়ের আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যানসের বিটা কোষ থেকে ইনসুলিন হরমোনের কম ক্ষরণের ফলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে যাওয়া (১৮০ mg/১০০ ml-এর বেশি) এবং মূত্রের মাধ্যমে শর্করা বের হওয়াকে ডায়াবেটিস মেলিটাস বা মধুমেহ বলে ।


১০. অ্যাড্রিনালিনকে 'জরুরিকালীন হরমোন' বলা হয় কেন?

ভয়, রাগ, দুশ্চিন্তা প্রভৃতি চরম মানসিক উত্তেজনার সময় অ্যাড্রিনালিন দ্রুত অধিক মাত্রায় নিঃসৃত হয়ে রক্তচাপ, হৃদস্পন্দন ও শ্বাসগতি বাড়িয়ে শরীরকে তাৎক্ষণিক লড়াই বা পলায়নের উপযোগী করে সংকট কাটায়। তাই একে আপৎকালীন বা জরুরিকালীন হরমোন বলে।


১১. অগ্ন্যাশয় থেকে কোন্ হরমোন নিঃসৃত হয়?

অগ্ন্যাশয়ের আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যানসের আলফা কোষ থেকে গ্লুকাগন, বিটা কোষ থেকে ইনসুলিন এবং ডেল্টা কোষ থেকে সোমাটোস্ট্যাটিন নিঃসৃত হয়।


১২. মানুষের স্নায়ুতন্ত্রের উপাদানগুলি কী কী?

মানব স্নায়ুতন্ত্র মূলত তিনটি অংশে বিভক্ত: (i) কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র (মস্তিষ্ক ও সুষুম্নাকাণ্ড), (ii) প্রান্তীয় স্নায়ুতন্ত্র (১২ জোড়া করোটি স্নায়ু ও ৩১ জোড়া সুষুম্না স্নায়ু) এবং (iii) স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্র (সিমপ্যাথেটিক ও প্যারাসিমপ্যাথেটিক) ।


১৩. নিউরোগ্লিয়ার কাজ কী?

নিউরোগ্লিয়া স্নায়ুতন্ত্রের ধারক কোষ হিসেবে কাজ করে। এটি বিভাজনে সক্ষম এবং নিউরোনকে যান্ত্রিক দৃঢ়তা, পুষ্টি ও সুরক্ষা প্রদান করে এবং ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলের ক্ষত পূরণে সাহায্য করে ।


১৪. নিজল দানা কী? এর কাজ কী?

নিউরোপ্লাজমে ছড়িয়ে থাকা ক্ষারীয় রঞ্জকে রঞ্জিত রাইবোনিউক্লিওপ্রোটিন নির্মিত ক্ষুদ্র কণিকাকে নিজল দানা বলে। এর প্রধান কাজ হলো নিউরোনের কোষদেহে প্রোটিন সংশ্লেষে সক্রিয় অংশগ্রহণ করা।


১৫. ডেনড্রন কী? এর কাজ কী?

নিউরনের কোষদেহ থেকে নির্গত ক্ষুদ্র, শাখাপ্রশাখা যুক্ত প্রবর্ধককে ডেনড্রন বলে। এর কাজ হলো পরিবেশ বা পূর্ববর্তী নিউরোন থেকে গ্রাহকের মাধ্যমে স্নায়ু উদ্দীপনা গ্রহণ করে কোষদেহে পাঠানো।


১৬. মায়োলিন সিদের কাজ কী?

(i) এটি অ্যাক্সনকে অন্তরক বা ইনসুলেটর হিসেবে আবৃত রেখে তড়িৎ উদ্দীপনার দ্রুত পরিবহণে সাহায্য করে।
(ii) নিউরোনকে বাহ্যিক চাপ থেকে রক্ষা করে ও পুষ্টির জোগান দেয়।


১৭. প্রেসবায়োপিয়া কী? এর প্রতিকার কীভাবে হয়?

চল্লিশোর্ধ্ব বয়সে চোখের সিলিয়ারি পেশি ও লেন্সের সংকোচনশীলতা হ্রাস পাওয়ায় কাছের বস্তুকে স্পষ্টভাবে দেখতে না পাওয়ার ত্রুটিকে প্রেসবায়োপিয়া বা চালশে বলে। উত্তল লেন্স বা উপযুক্ত পাওয়ারের বাইফোকাল চশমা ব্যবহারে এই ত্রুটি দূর হয়।


১৮. পায়রার দেহে কত রকমের পালক থাকে ও কী কী?

পায়রার দেহে মূলত আচ্ছাদন পালক (কনট্যুর পালক) এবং উড্ডয়ন পালক থাকে। উড্ডয়ন পালক দু-ধরনের: ডানার ২৩টি বড় পালক যা রেমিজেস এবং লেজের ১২টি পালক যা রেকট্রিসেস নামে পরিচিত।


১৯. সিলিয়া ও ফ্ল্যাজেলার মধ্যে পার্থক্য লেখো।
বৈশিষ্ট্যসিলিয়াফ্ল্যাজেলা
সংখ্যাঅসংখ্য (সমগ্র দেহে সারিবদ্ধ)।সংখ্যায় খুব কম (সাধারণত ১-৪টি)।
দৈর্ঘ্যআকারে বেশ ছোটো (৫-১০ মাইক্রন)।আকারে বড় ও চাবুকের মতো লম্বা।

২০. মিশ্র গ্রন্থি কাকে বলে? উদাহরণ দাও।

যে গ্রন্থি সনাল (বহিঃক্ষরা) এবং অনাল (অন্তঃক্ষরা) উভয় প্রকার কোষের সমন্বয়ে গঠিত এবং একই সাথে উৎসেচক ও হরমোন নিঃসরণ করে, তাকে মিশ্র গ্রন্থি বলে। যেমন—অগ্ন্যাশয়, শুক্রাশয় ও ডিম্বাশয় ।


২১. ইস্ট্রোজেনের দুটি কাজ উল্লেখ করো।

(i) নারীদেহে গৌণ যৌন অঙ্গগুলির বিকাশ এবং বয়ঃসন্ধিকালে নারীসুলভ লক্ষণ (ত্বক মসৃণ হওয়া, কণ্ঠস্বর মিহি হওয়া) প্রকাশ ঘটায়।
(ii) মহিলাদের স্বাভাবিক রজঃচক্র পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।


২২. সাইন্যাপ্স বা স্নায়ুসন্নিধি কাকে বলে? এর অবস্থান লেখো।

দুটি নিউরোনের সংযোগস্থল যেখানে নিউরোট্রান্সমিটারের মাধ্যমে এক নিউরোন থেকে অপর নিউরোনে স্নায়ুপ্রবাহ পরিবাহিত হয়, তাকে সাইন্যাপ্স বলে। এটি গুরুমস্তিষ্কের ধূসর বস্তু ও সুষুম্নাকাণ্ডের নিউরোনে বিপুল সংখ্যায় অবস্থান করে।


২৩. ইনসুলিন ও অ্যাড্রিনালিনের একটি করে ব্যাবহারিক প্রয়োগ উল্লেখ করো।

ইনসুলিন: মধুমেহ বা ডায়াবেটিস মেলিটাস আক্রান্ত রোগীর রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে ইনসুলিন ইনজেকশন দেওয়া হয়।
অ্যাড্রিনালিন: ব্রঙ্কিয়াল পেশি শিথিল করে হাঁপানির টান কমাতে এবং তীব্র রক্তচাপ পতনে জরুরি ওষুধ হিসেবে প্রয়োগ করা হয়।


২৪. সংজ্ঞাবহ ও আজ্ঞাবহ নিউরোনের পার্থক্য লেখো।

সংজ্ঞাবহ বা অন্তর্বাহী নিউরোন গ্রাহক অঙ্গ থেকে উদ্দীপনা বহন করে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে নিয়ে আসে। পক্ষান্তরে, আজ্ঞাবহ বা বহির্বাহী নিউরোন কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের নির্দেশ কারক অংশে (পেশি বা গ্রন্থিতে) বহন করে প্রতিক্রিয়া ঘটায়।


২৫. হাঁচির সাহায্যে কীভাবে প্রতিবর্ত ক্রিয়া সম্পন্ন হয়?

নাসারন্ধ্রের শ্লেষ্মাঝিল্লিতে ধূলিকণা বা বিজাতীয় উত্তেজক স্পর্শ করলে সংজ্ঞাবহ স্নায়ু মারফত তা সুষুম্নাকাণ্ড ও মস্তিষ্কে পৌঁছায় এবং তাৎক্ষণিক নির্দেশে ফুসফুস থেকে তীব্র বায়ু নির্গত হয়ে হাঁচি ঘটিয়ে দূষিত পদার্থ বের করে দেয় ।


২৬. সরল প্রতিবর্ত ক্রিয়া কাকে বলে? উদাহরণ দাও।

যে অনৈচ্ছিক প্রতিক্রিয়া শুধুমাত্র সুষুম্নাকাণ্ড দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় এবং কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা বা মস্তিষ্কের সক্রিয় চিন্তাভাবনার প্রয়োজন হয় না, তাকে সরল প্রতিবর্ত ক্রিয়া বলে। যেমন—চোখে তীব্র আলো পড়লে পাতা বুজে যাওয়া ।


২৭. পনস্ বা সেতু মস্তিষ্ক কী?

পশ্চাৎ মস্তিষ্কের যে বিশেষ অংশটি মধ্যমস্তিষ্কের নিচে এবং মেডালা অবলংগাটার উপরে অবস্থিত হয়ে মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশের মধ্যে সংকেত আদান-প্রদানের যোগসূত্র বা সেতুর মতো কাজ করে, তাকে পনস্ বা সেতু মস্তিষ্ক বলে ।


২৮. মেনিনজেস কী? এর স্তরগুলির নাম লেখো।

কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র অর্থাৎ মস্তিষ্ক এবং সুষুম্নাকাণ্ডকে সুরক্ষিত রাখা তিনস্তরীয় ত্রিস্তরীয় আবরককে মেনিনজেস বলে। এর স্তর তিনটি হলো—ডুরামেটার, অ্যারাকনয়েড মেটার এবং পিয়ামেটার।


২৯. চারটি প্রোটিনধর্মী প্রাণী হরমোনের নাম লেখো।

চারটি প্রধান প্রোটিনধর্মী হরমোন হলো: (i) সোমাটোট্রপিক হরমোন (STH), (ii) থাইরয়েড স্টিমুলেটিং হরমোন (TSH), (iii) ইনসুলিন এবং (iv) গ্লুকাগন ।


৩০. অপরিণত ফল মোচনে কৃত্রিম হরমোনের প্রভাব উল্লেখ করো।

কৃত্রিম অক্সিন যেমন 2,4-D এবং NAA নির্দিষ্ট ঘনত্বের দ্রবণে গাছে স্প্রে করলে বোঁটার বিচ্ছিন্নকারী স্তর গঠন প্রতিহত হয়, ফলে কচি বা অপরিণত ফল অকালে ঝরে পড়া সম্পূর্ণ রোধ করা যায়।


৩১. দুটি স্টেরয়েড জাতীয় হরমোনের নাম লেখো।

দুটি স্টেরয়েড জাতীয় প্রাণী হরমোন হলো টেস্টোস্টেরন এবং ইস্ট্রোজেন ।


৩২. হরমোনকে রাসায়নিক দূত বলা হয় কেন?

বার্তাবহ বা দূতের মতো হরমোন উৎপত্তিস্থল থেকে রক্তের মাধ্যমে বাহিত হয়ে লক্ষ্যকোষের কোশপর্দায় যুক্ত হয়ে প্রয়োজনীয় রাসায়নিক তথ্য পৌঁছে দেয় এবং শারীরবৃত্তীয় ক্রিয়া প্রভাবিত করে, তাই একে রাসায়নিক দূত বলে।


৭. দীর্ঘ উত্তরধর্মী প্রশ্নোত্তর (প্রতিটি প্রশ্নমান – ৫)

১. জিব্বেরেলিনের উৎস ও শারীরবৃত্তীয় কাজ উল্লেখ করো।

জিব্বেরেলিনের উৎস: উদ্ভিদের পরিণত বীজ, অঙ্কুরিত চারাগাছ, বীজপত্র, শীর্ষমুকুল এবং কচি পাতায় অধিক মাত্রায় সংশ্লেষিত হয়।

শারীরবৃত্তীয় ভূমিকা:

১. সুপ্তাবস্থা ভঙ্গ ও অঙ্কুরোদ্গম: বীজের মধ্যে অ্যামাইলেজ জাতীয় হাইড্রোলাইটিক উৎসেচকের সক্রিয়তা বাড়িয়ে খাদ্যকে তরল করে সুপ্তবীজের অঙ্কুরোদ্গম ঘটায় ।

২. পর্বমধ্যের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি: খর্বাকার গাছের পর্বমধ্যের কোষগুলির বিভাজন ও বৃদ্ধি বাড়িয়ে কাণ্ডের দ্রুত উচ্চতাবৃদ্ধি ঘটায় ।

৩. ফুল ও ফলের বিকাশ: দীর্ঘদিবা উদ্ভিদে আলোককাল পূর্ণ না হলেও ফুল ফোটাতে ভূমিকা রাখে এবং আঙুর, নাশপাতির ফল আকারে বড় করে।


২. উদ্ভিদের ট্রপিক চলন নিয়ন্ত্রণে অক্সিনের ভূমিকা ব্যাখ্যা করো।

ফোটোট্রপিক চলন নিয়ন্ত্রণ: একপার্শ্বীয় আলোর প্রভাবে অক্সিন আলোর বিপরীত অন্ধকার দিকে স্থানান্তরিত হয়ে সঞ্চিত হয়। কাণ্ডের কোষগুলি অক্সিনের উচ্চ ঘনত্বে অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় কাণ্ডের অন্ধকার অংশের কোষ দ্রুত বিভাজিত ও স্ফীত হয়ে কাণ্ডকে আলোর উৎসের দিকে বাঁকিয়ে দেয়। মূল কম অক্সিনে দ্রুত বৃদ্ধি পায় বলে মূল আলোর বিপরীতে বেঁকে যায় ।

জিওট্রপিক চলন নিয়ন্ত্রণ: মাধ্যাকর্ষণের টানে অনুভূমিক অঙ্গের নিচের দিকে অক্সিন সঞ্চিত হয়। কাণ্ডের ক্ষেত্রে নিচের অংশ দ্রুত বেড়ে অভিকর্ষের বিপরীতে উপরের দিকে ওঠে (প্রতিকূলবর্তী), কিন্তু মূলের ক্ষেত্রে নিচের অংশের কোষ বিভাজন বাধা পায় এবং উপরের অংশের বৃদ্ধি বেশি হওয়ায় মূল নিচের দিকে অভিকর্ষের অনুকূলে বৃদ্ধি পায় ।


৩. সাইন্যাপ্স কীভাবে গঠিত হয়? এর কাজ লেখো। নিউরোট্রান্সমিটার কী?

গঠন: সাইন্যাপ্স গঠিত হয় পূর্ববর্তী নিউরোনের অ্যাক্সন প্রান্ত স্ফীত হয়ে তৈরি হওয়া প্রি-সাইন্যাপটিক নব এবং পরবর্তী নিউরোনের ডেনড্রাইটের পোস্ট-সাইন্যাপটিক ঝিল্লি দ্বারা। দুটি ঝিল্লির মধ্যবর্তী ২০০Å স্থানকে সাইন্যাপটিক ক্লেফট বলে। প্রি-সাইন্যাপটিক ভেসিকল থেকে নিঃসৃত রসায়নের মাধ্যমে ফাঁকা অংশ জুড়ে বার্তা সঞ্চালিত হয়।

কাজ: এটি স্নায়ুপ্রবাহকে কেবলমাত্র একমুখী পথে পূর্ববর্তী নিউরোন থেকে পরবর্তী নিউরোনে পরিচালন নিশ্চিত করে ।

নিউরোট্রান্সমিটার: যে সমস্ত রাসায়নিক বার্তাবহ পদার্থ সাইন্যাপটিক ভেসিকল থেকে নিঃসৃত হয়ে সাইন্যাপটিক ক্লেফটের মধ্য দিয়ে স্নায়ুস্পন্দন পৌঁছে দেয়, তাদের নিউরোট্রান্সমিটার বলে। উদাহরণ: অ্যাসিটাইলকোলিন।


৪. চলন ও গমনের মধ্যে পার্থক্য লেখো।
বৈশিষ্ট্যচলনগমন
সংজ্ঞানির্দিষ্ট স্থানে আবদ্ধ থেকে জীবদেহাংশের সঞ্চালন।অঙ্গ সঞ্চালনের মাধ্যমে সামগ্রিক স্থান পরিবর্তন।
নির্ভরতাগমনের ওপর নির্ভর করে না; একা ঘটতে পারে।গমনের অপরিহার্য পূর্বশর্ত চলন।
উপস্থিতিসাধারণত উদ্ভিদদেহের প্রধান বৈশিষ্ট্য।প্রাণীদেহের স্বাভাবিক প্রধান বৈশিষ্ট্য।
উদ্দেশ্যউদ্দীপক শনাক্তকরণ ও রসস্ফীতির প্রয়োজনে ঘটে।খাদ্য, বাসস্থান সন্ধান ও আত্মরক্ষার্থে ঘটে।

৫. টেস্টোস্টেরন ও ইস্ট্রোজেনের ক্ষরণস্থল উল্লেখ করে তিনটি করে কাজ লেখো।

টেস্টোস্টেরন: শুক্রাশয়ের লেডিগের আন্তরকোষ থেকে ক্ষরিত হয়।
কাজ: (i) পুরুষের মুখ্য ও গৌণ যৌনাঙ্গের গঠন ও বৃদ্ধি ঘটায়, (ii) শুক্রাণু উৎপাদনে সহায়তা করে, (iii) পুরুষালি লক্ষণ যেমন পেশিবহুল দেহ ও ভারী কণ্ঠস্বর প্রদান করে ।

ইস্ট্রোজেন: ডিম্বাশয়ের পরিণত গ্রাফিয়ান ফলিকল বা থিকা ইনটারনা স্তর থেকে ক্ষরিত হয়।
কাজ: (i) ডিম্বাশয়, জরায়ু ও স্তনগ্রন্থির বৃদ্ধি ও বিকাশ ঘটায়, (ii) মেয়েদের গৌণ যৌন লক্ষণের পূর্ণতা আনে, (iii) নারীদের স্বাভাবিক ঋতুচক্র নিয়ন্ত্রণ করে ।


৬. প্রতিবর্ত ক্রিয়া কাকে বলে? এর শ্রেণিবিন্যাস ও প্রকারভেদ উদাহরণসহ আলোচনা করো।

সংজ্ঞা: উদ্দীপকের প্রতিক্রিয়ায় মস্তিষ্ক ব্যতিরেকে সুষুম্নাকাণ্ড দ্বারা পরিচালিত তাৎক্ষণিক ও অনৈচ্ছিক প্রতিক্রিয়াকে প্রতিবর্ত ক্রিয়া বলে।

প্রকৃতি অনুযায়ী প্রকারভেদ:

১. সহজাত প্রতিবর্ত ক্রিয়া: যা কোনো পূর্ব শর্ত ছাড়াই জন্মসূত্রে প্রাণী অর্জন করে। যেমন—তীব্র আলোয় চোখের তারা সংকুচিত হওয়া বা নবজাতকের স্তন্যপান করা।

২. অর্জিত প্রতিবর্ত ক্রিয়া: যা জন্মের পর ধারাবাহিক অনুশীলন ও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে অর্জিত হয়। যেমন—সাইকেল চালানো, শিশুদের লিখতে বা নাচ-গান শেখা ।


৭. অ্যামিবার অ্যামিবয়েড গমন এবং প্যারামেসিয়ামের সিলিয়ারি গমনের বিবরণ দাও।

অ্যামিবার গমন: অ্যামিবা তার প্রোটোপ্লাজমীয় ঘনত্বের রূপান্তরের (সল-জেল রূপান্তর) মাধ্যমে সাময়িকভাবে আঙুলের মতো অভিক্ষেপ তৈরি করে, যাকে সিউডোপোডিয়া বা ক্ষণপদ বলে। এই ক্ষণপদ কোনো তলে দৃঢ়ভাবে আটকে প্রোটোপ্লাজম সামনের দিকে সঞ্চালিত করে প্রাণীটিকে সামনের দিকে নিয়ে যায়।

প্যারামেসিয়ামের গমন: প্যারামেসিয়াম সমগ্র দেহে বিন্যস্ত সারিবদ্ধ সিলিয়ার ছন্দোবদ্ধ সঞ্চালনের মাধ্যমে জলে অগ্রসর হয়। সক্রিয় আঘাত বা পাওয়ার স্ট্রোকের দ্বারা জলকে পেছনে ঠেলে দেয় এবং রিকভারি স্ট্রোকের মাধ্যমে সিলিয়া পুনরায় আগের অবস্থায় ফিরে আসে ।


৮. উদ্ভিদের বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় কাজের নিয়ন্ত্রণে হরমোনের ভূমিকা সংক্ষেপে লেখো।

(i) বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ: অক্সিন হরমোন কাণ্ড ও মূলের অগ্রস্থ ভাজক কলার কোষবিভাজন ও প্রসারণ বাড়িয়ে উদ্ভিদকে লম্বা হতে সাহায্য করে ।
(ii) অঙ্কুরোদ্গম: জিব্বেরেলিন বীজমধ্যস্থ সঞ্চিত শ্বেতসার বিশ্লেষী উৎসেচক জাগ্রত করে দ্রুত সুপ্তাবস্থা ভেঙে অঙ্কুরোদ্গম নিশ্চিত করে।
(iii) বার্ধক্য বিলম্বিতকরণ: সাইটোকাইনিন ক্লোরোফিল ও প্রোটিন নষ্ট হওয়া থেকে রক্ষা করে পাতা ও ফুলকে সতেজ রেখে বার্ধক্য বিলম্বিত করে।
(iv) পুষ্প প্রস্ফুটন: ফ্লোরিজেন ও জিব্বেরেলিন উদ্ভিদের পাতার আলোক সংবেদন গ্রহণ করে সঠিক ঋতুতে কুঁড়ি উন্মোচনে মুখ্য ভূমিকা নেয় ।