Madhyamik Geography Suggestion 2027 (WBBSE Class 10)
পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের (WBBSE) ২০২৭ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের জন্য ভূগোলের প্রথম অধ্যায়: বহির্জাত প্রক্রিয়া ও তাদের দ্বারা সৃষ্ট ভূমিরূপের সম্ভাব্য এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নাবলির সম্পূর্ণ তালিকা নিচে দেওয়া হলো।
মাধ্যমিক ভূগোল সাজেশন ২০২৭: সম্পূর্ণ অধ্যায়ভিত্তিক প্রস্তুতি নির্দেশিকা
পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের (WBBSE 2027) মাধ্যমিক পরীক্ষায় ভূগোল বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা ও চিত্রসহ উত্তর লিখলে সর্বোচ্চ নম্বর অর্জন সম্ভব। নদী, হিমবাহ ও বায়ুর বিভিন্ন ক্ষয় ও সঞ্চয়জাত ভূমিরূপের নির্বাচিত প্রশ্নোত্তরগুলো এখানে সুন্দরভাবে সাজানো হলো।
সেরা প্রস্তুতি কৌশল: নদীর ক্ষয় ও সঞ্চয় কাজ, হিমবাহ ও বায়ুর কার্য, বালিয়াড়ির প্রকারভেদ এবং সংশ্লিষ্ট ভূমিরূপের পার্থক্য ও টীকাগুলো চিত্রসহ প্রস্তুত রাখুন।
ট্যাগ / কি-ওয়ার্ডস:
WBBSE Class 10 Geography suggestion 2027, মাধ্যমিক ভূগোল গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, Madhyamik Geography question paper, প্রথম অধ্যায় বহির্জাত প্রক্রিয়া ও তাদের দ্বারা সৃষ্ট ভূমিরূপ
প্রথম অধ্যায়: বহির্জাত প্রক্রিয়া ও তাদের দ্বারা সৃষ্ট ভূমিরূপ
The Royal Geography | দশম শ্রেণি ভূগোল সাজেশন
১. বায়ুর কাজ বেশি দেখা যায়—
[A] শীতল মরুভূমিতে
[B] উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে
[C] উষ্ণ মরুভূমিতে
[D] কোনোটিই ঠিক নয়
উত্তর: [C] উষ্ণ মরুভূমিতে
২. পার্বত্য অঞ্চলে হিমবাহ উপত্যকার আকৃতি হয়—
[A] 'U'-এর মতো
[B] 'I'-এর মতো
[C] 'V'-এর মতো
[D] 'W'-এর মতো
উত্তর: [A] 'U'-এর মতো
৩. বার্খান সৃষ্টি হয়—
[A] হিমবাহের কার্যের ফলে
[B] বায়ুর সঞ্চয় কার্যের ফলে
[C] বায়ুর ক্ষয় কার্যের ফলে
[D] কোনোটিই ঠিক নয়
উত্তর: [B] বায়ুর সঞ্চয় কার্যের ফলে
৪. শুষ্ক অঞ্চলে কোমল শিলার ওপর গঠিত নদী উপত্যকা যে নামে পরিচিত—
[A] ওয়াদি
[B] 'I'-এর আকৃতির উপত্যকা
[C] 'U'-আকৃতির উপত্যকা
[D] ক্যানিয়ন
উত্তর: [B] 'I'-এর আকৃতির উপত্যকা
৫. গৌর ভূমিরূপ গঠিত হয়—
[A] নদীর স্রোতের দ্বারা
[B] সমুদ্র তরঙ্গের দ্বারা
[C] হিমবাহের দ্বারা
[D] বায়ুর দ্বারা
উত্তর: [D] বায়ুর দ্বারা
৬. প্রবাহমান বায়ুর গতিপথের সঙ্গে সমান্তরালভাবে গড়ে ওঠা বালিয়াড়িকে বলা হয়—
[A] অনুদৈর্ঘ্য বালিয়াড়ি
[B] ভ্রাম্যমান বালিয়াড়ি
[C] তির্যক বালিয়াড়ি
[D] কোনোটিই ঠিক নয়
উত্তর: [A] অনুদৈর্ঘ্য বালিয়াড়ি
৭. পার্বত্য অঞ্চলে নদী উপত্যকার দু-পাশে থাকা উপযুক্ত ভূমিরূপকে বলা হয়—
[A] জলবিভাজিকা
[B] নদীমঞ্চ
[C] হিমসিঁড়ি
[D] কোনোটিই নয়
উত্তর: [B] নদীমঞ্চ
৮. পলল শঙ্কু দেখা যায়—
[A] পর্বতের পাদদেশে
[B] নদীর ব-দ্বীপ অঞ্চলে
[C] পর্বতের উচ্চভাগে
[D] নদীর নিম্নগতিতে
উত্তর: [A] পর্বতের পাদদেশে
৯. পেডিমেন্ট সমভূমির মধ্যে অনুচ্চ পাহাড়গুলিকে বলে—
[A] স্তূপ পর্বত
[B] ভঙ্গিল পর্বত
[C] মোনাডনক
[D] ইনসেলবার্জ
উত্তর: [D] ইনসেলবার্জ
১০. আবহবিকারের ফলে ভূমিরূপের পরিবর্তন হয়—
[A] ধীরগতিতে
[B] দ্রুত গতিতে
[C] A ও B উভয় গতিতে
[D] কোনোটিই ঠিক নয়
উত্তর: [A] ধীরগতিতে
১১. অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ দেখা যায়—
[A] নদীর উচ্চ গতিতে
[B] নদীর মধ্য গতিতে
[C] নদীর নিম্নগতিতে
[D] নদীর মধ্য ও নিম্নগতিতে
উত্তর: [D] নদীর মধ্য ও নিম্নগতিতে
১২. ওলটানো নৌকোর মতো ভূমিরূপকে বলা হয়—
[A] এসকার
[B] ড্রামলিন
[C] বোল্ডার ক্লে
[D] বার্খান
উত্তর: [B] ড্রামলিন
১৩. নদী গঠিত প্লাবনভূমি দেখা যায়—
[A] মেরু অঞ্চলে
[B] শুষ্ক অঞ্চলে
[C] আর্দ্র অঞ্চলে
[D] কোনোটিই নয়
উত্তর: [C] আর্দ্র অঞ্চলে
১৪. কোল্টি বহির্জাত প্রক্রিয়া নয়—
[A] আবহবিকার
[B] পুঞ্জিত ক্ষয়
[C] নদীর কাজ
[D] ভূমিকম্প
উত্তর: [D] ভূমিকম্প
১৫. একটি আদর্শ নদীর উদাহরণ হল—
[A] সিন্ধু
[B] লুনী
[C] তাপ্তী
[D] নর্মদা
উত্তর: [A] সিন্ধু
১৬. পৃথিবীর অন্যতম লোয়েশ সমভূমি হল—
[A] গাঙ্গেয় সমভূমি
[B] হোয়াং-হো নদীর সমভূমি
[C] সাইবেরিয়ার সমভূমি
[D] তুরানের সমভূমি
উত্তর: [B] হোয়াং-হো নদীর সমভূমি
১৭. বায়ুপ্রবাহের দ্বারা সূক্ষ্ম বালিকণা বহুদূর বাহিত ও সঞ্চিত হয়ে যে ভূমিরূপ গঠন করে তাকে বলে—
[A] ড্রামলিন
[B] সিফ
[C] লোয়েস
[D] বার্খান
উত্তর: [C] লোয়েস
১৮. হিমবাহ থেকে নিঃসৃত জলস্রোতের মাধ্যমে হিমবাহ উপত্যকায় যে সমস্ত পলি সঞ্চিত হয়ে ভূমিরূপ গঠন করে তাকে বলে—
[A] ভ্যালি ট্রেন
[B] মোনাডনক
[C] বোল্ডার ক্লে
[D] ড্রামলিন
উত্তর: [A] ভ্যালি ট্রেন
১৯. হিমবাহের সঞ্চয় কার্যের ফলে প্রান্ত গ্রাবরেখায় সৃষ্টি হওয়া ত্রিকোণাকার ভূমিরূপকে বলে—
[A] পলল ব্যজনী
[B] কেম
[C] ব-দ্বীপ
[D] বার্গসুন্ড
উত্তর: [B] কেম
২০. উৎস থেকে মোহানা পর্যন্ত নদী যে খাত দিয়ে প্রবাহিত হয়, তাকে বলে—
[A] নদী উপত্যকা
[B] নদীমঞ্চ
[C] নদীর গতিপথ
[D] ধারণ অববাহিকা
উত্তর: [C] নদীর গতিপথ
২১. ভারতের দীর্ঘতম হিমবাহ হল—
[A] যমুনোত্রী হিমবাহ
[B] গঙ্গোত্রী হিমবাহ
[C] সিয়াচেন হিমবাহ
[D] জেমু হিমবাহ
উত্তর: [C] সিয়াচেন হিমবাহ
২২. হোয়াং-হো নদী অববাহিকায় লোয়েস সমভূমি সৃষ্টি হয়েছে—
[A] সাহারা মরুভূমির লোয়েস মৃত্তিকা দ্বারা
[B] থর মরুভূমির লোয়েস মৃত্তিকা দ্বারা
[C] ইরানের মরুভূমির লোয়েস মৃত্তিকা দ্বারা
[D] গোবি মরুভূমির লোয়েস মৃত্তিকা দ্বারা
উত্তর: [D] গোবি মরুভূমির লোয়েস মৃত্তিকা দ্বারা
২৩. ভূমিরূপের উচ্চতা বৃদ্ধি পায়—
[A] আরোহণ পদ্ধতিতে
[B] অবরোহণ পদ্ধতিতে
[C] আবহবিকার-এর দ্বারা
[D] ক্ষয়ীভবনের দ্বারা
উত্তর: [A] আরোহণ পদ্ধতিতে
২৪. পাখির পায়ের মতো দেখতে একটি ব-দ্বীপ হল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের—
[A] আমাজন নদীর মোহানায়
[B] নীলনদের মোহানায়
[C] ইরী ও হুরণ নদীর মোহানায়
[D] মিসৌরী-মিসিসিপি নদীর মোহানায়
উত্তর: [D] মিসৌরী-মিসিসিপি নদীর মোহানায়
২৫. ধাপে ধাপে নেমে আসা জলপ্রপাতকে বলে—
[A] ক্যাট্যারাক্ট
[B] কাসকেড
[C] র্যাপিডস
[D] ইনসেলবার্জ
উত্তর: [B] কাসকেড
২৬. হিমবাহে ঢাকা নদীখাতে হিমবাহ বাহিত নুড়ি, কাঁকর, বালি প্রভৃতি সঞ্চিত হয়ে যে দীর্ঘ, স্বল্প উচ্চ আঁকাবাঁকা শৈলশিরার মতো ভূমিরূপ গঠিত হয়, তাকে বলে—
[A] এসকার
[B] কেম
[C] কেটেল
[D] পেডিমেন্ট
উত্তর: [A] এসকার
২৭. প্রস্তরময় অমসৃণ ভূমিরূপকে বলে—
[A] বাজাদা
[B] রেগ
[C] হামাদা
[D] জুগ্যান
উত্তর: [C] হামাদা
২৮. দুটি বা তার অধিক নদী গোষ্ঠীকে পৃথক করে যে উচ্চভূমি গঠিত হয়, তাকে বলে—
[A] নদী চর
[B] নদী উপত্যকা
[C] ধারণ অববাহিকা
[D] জল বিভাজিকা
উত্তর: [D] জল বিভাজিকা
২৯. ভারতের একটি পিরামিড চূড়ার উদাহরণ হল—
[A] গৌরীশংকর শৃঙ্গ
[B] নীলকণ্ঠ শৃঙ্গ
[C] কাকাবোরাজি শৃঙ্গ
[D] দোদাবেতা শৃঙ্গ
উত্তর: [B] নীলকণ্ঠ শৃঙ্গ
৩০. উপকূল অঞ্চলে হিমবাহের ক্ষয়ের ফলে সৃষ্ট জলমগ্ন উপত্যকাকে বলে—
[A] নিমজ্জিত উপত্যকা
[B] ঝুলন্ত উপত্যকা
[C] সার্ক উপত্যকা
[D] ফিয়র্ড উপত্যকা
উত্তর: [D] ফিয়র্ড উপত্যকা
৩১. মরু অঞ্চলে ভূপৃষ্ঠের সঙ্গে সমান্তরালভাবে অবস্থিত কঠিন ও কোমল শিলা ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে যে ভূমিরূপ সৃষ্টি করে তাকে বলে—
[A] জ্যুইগেন
[B] গৌর
[C] ইয়ার্দাং
[D] মোনাডনক
উত্তর: [A] জ্যুইগেন
৩২. আউট-ওয়াশ প্লেন বহিঃবিধৌত সমভূমি গঠিত হয়—
[A] হিমবাহের সঞ্চয় কার্যের ফলে
[B] হিমবাহ ও জলধারার মিলিত সঞ্চয় কার্যের ফলে
[C] বায়ুর সঞ্চয় কার্যের ফলে
[D] কোনোটিই ঠিক নয়
উত্তর: [A] হিমবাহের সঞ্চয় কার্যের ফলে
৩৩. উচ্চ পার্বত্য ও উচ্চ অক্ষাংশে অধিক দেখা যায়—
[A] জলের কার্য
[B] তুষারের কার্য
[C] বায়ুর কার্য
[D] তাপমাত্রার কার্য
উত্তর: [B] তুষারের কার্য
৩৪. বন্যার সময় নদীর দুকূল প্লাবিত হয়ে নদীর তীরবর্তী নিম্নভূমিতে পলি, বালি, কাদা সঞ্চিত হয়ে যে সমভূমির সৃষ্টি হয় তাকে বলে—
[A] উপকূলের সমভূমি
[B] লোয়েশ সমভূমি
[C] পলি-প্লাবন সমভূমি
[D] ব-দ্বীপ সমভূমি
উত্তর: [C] পলি-প্লাবন সমভূমি
৩৫. যান্ত্রিক আবহবিকার সর্বাধিক ঘটে—
[A] নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চলে
[B] মৌসুমি জলবায়ু অঞ্চলে
[C] মরুভূমি অঞ্চলে
[D] কোনোটিই ঠিক নয়
উত্তর: [C] মরুভূমি অঞ্চলে
৩৬. ব্রহ্মপুত্র অববাহিকার সমভূমিটি একটি—
[A] ব-দ্বীপ সমভূমি
[B] প্লাবন সমভূমি
[C] লোয়েশ সমভূমি
[D] কোনোটিই ঠিক নয়
উত্তর: [B] প্লাবন সমভূমি
৩৭. পৃথিবীর বৃহত্তম উচ্চ মালভূমি হল—
[A] আরব মালভূমি
[B] পামির মালভূমি
[C] তিব্বত মালভূমি
[D] ছোটোনাগপুর মালভূমি
উত্তর: [C] তিব্বত মালভূমি
৩৮. ব্যবচ্ছিন্ন মালভূমি বিচ্ছিন্ন হয় মূলত—
[A] হিমবাহ দ্বারা
[B] বায়ু দ্বারা
[C] ব-দ্বীপ দ্বারা
[D] নদী দ্বারা
উত্তর: [D] নদী দ্বারা
৩৯. কর্ণাটকের সহ্যাদ্রি পর্বতের পূর্বপাদদেশে গঠিত মালনাদ একটি—
[A] ব্যবচ্ছিন্ন মালভূমি
[B] আগ্নেয় পর্বত
[C] স্তূপ পর্বত
[D] ভঙ্গিল পর্বত
উত্তর: [A] ব্যবচ্ছিন্ন মালভূমি
৪০. বিস্তৃত প্লাবন সমভূমি দেখা যায় যে নদীর অববাহিকায়—
[A] নর্মদা
[B] তাপ্তী
[C] গঙ্গা
[D] দামোদর
উত্তর: [C] গঙ্গা
৪১. পৃথিবীর ছাদ বলা হয়—
[A] আরব মালভূমিকে
[B] পামির মালভূমিকে
[C] তিব্বত মালভূমিকে
[D] মালনাদ মালভূমিকে
উত্তর: [B] পামির মালভূমিকে
৪২. পৃথিবীর বৃহত্তম সমভূমিটি হল—
[A] সিন্ধু-গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র সমভূমি
[B] ইউরেশিয়া সমভূমি
[C] ইয়াংসি-কিয়াং সমভূমি
[D] কোনোটিই নয়
উত্তর: [B] ইউরেশিয়া সমভূমি
৪৩. জলপ্রবাহ দ্বারা পরিবাহিত মাটিকে বলে—
[A] লোয়েস মাটি
[B] ল্যাটেরাইট মাটি
[C] পলিমাটি
[D] এঁটেল মাটি
উত্তর: [C] পলিমাটি
৪৪. হিমবাহ থেকে নিঃসৃত জলস্রোতের মাধ্যমে হিমবাহ উপত্যকায় যে সমস্ত পলি সঞ্চিত হয় তাকে বলে—
[A] ভ্যালি ট্রেন
[B] বোল্ডার ক্লে
[C] ড্রামলিন
[D] পেডিমেন্ট
উত্তর: [A] ভ্যালি ট্রেন
৪৫. ভূপৃষ্ঠস্থ চূর্ণবিচূর্ণ শিলাসমূহ যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অপসারিত হয়, তাকে বলে—
[A] বিচূর্ণীভবন
[B] নগ্নীভবন
[C] অঙ্গারযোজন
[D] ক্ষয়ীভবন
উত্তর: [D] ক্ষয়ীভবন
৪৬. উষ্ণতার তারতম্যে স্তরবিশিষ্ট শিলা পেঁয়াজের খোসার মতো খুলে গেলে তাকে বলে—
[A] ক্ষুদ্রকণা বিশরণ
[B] শল্কমোচন
[C] পিন্ড বিশরণ
[D] খন্ডীকরণ
উত্তর: [B] শল্কমোচন
৪৭. স্তূপ পর্বতের শীর্ষদেশ হয়—
[A] গোলাকার
[B] ছুঁচোলো
[C] চ্যাপটা
[D] কোনোটিই নয়
উত্তর: [C] চ্যাপটা
৪৮. একটি পর্বতবেষ্টিত মালভূমির উদাহরণ হল—
[A] ছোটোনাগপুর মালভূমি
[B] পামির মালভূমি
[C] মালনাদ মালভূমি
[D] তিব্বত মালভূমি
উত্তর: [D] তিব্বত মালভূমি
৪৯. পাত সঞ্চরণের ফলে সৃষ্টি হওয়া ভূমিরূপ হল—
[A] ভঙ্গিল পর্বত
[B] স্তূপ পর্বত
[C] ক্ষয়জাত পর্বত
[D] কোনোটিই নয়
উত্তর: [A] ভঙ্গিল পর্বত
৫০. পার্বত্য প্রবাহে নদী উপত্যকার আকৃতি হয় ইংরেজি অক্ষর—
[A] 'U'-এর মতো
[B] 'V'-এর মতো
[C] 'I'-এর মতো
[D] 'W'-এর মতো
উত্তর: [B] 'V'-এর মতো
১. আবহাওয়ার তারতম্যে শিলা চূর্ণ-বিচূর্ণ হলে তাকে ক্ষয়ীভবন বলে।
উত্তর: অ
২. হিমসিঁড়ির মধ্যে প্যাটার্নস্টার হ্রদ সৃষ্টি হয়।
উত্তর: শু
৩. নদীর মধ্যগতিতে অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ দেখা যায়।
উত্তর: শু
৪. ক্ষয়িত শিলা হল মৃত্তিকা সৃষ্টির প্রধান উপকরণ।
উত্তর: শু
৫. অর্ধচন্দ্রাকৃতি তির্যক বালিয়াড়িকে রোর্ডস বলে।
উত্তর: অ
৬. পার্বত্য অঞ্চলে নদী উপত্যকা 'V'-এর আকৃতির এবং হিমবাহ উপত্যকা 'U'-এর আকৃতির হয়।
উত্তর: শু
৭. মরূদ্যান বায়ুর অবঘর্ষের ফলে সৃষ্টি হয়।
উত্তর: শু
৮. সমুদ্রে ভাসমান বরফের বিশালাকৃতি স্তূপকে হিমশৈল বলে।
উত্তর: শু
৯. বায়ুপ্রবাহের গতির পথে আড়াআড়িভাবে গঠিত বালিয়াড়িকে বলে বার্খান।
উত্তর: শু
১০. মরুভূমি অঞ্চলে সৃষ্ট হ্রদকে বলে গ্রাবেন।
উত্তর: অ
১১. অর্ধচন্দ্রাকার তির্যক বালিয়াড়িকে বলে বার্খান।
উত্তর: শু
১২. ড্রামলিন হিমবাহের ক্ষয়ের ফলে সৃষ্টি হয়।
উত্তর: অ
১৩. নদী যেখানে এসে সমুদ্রে মেশে তাকে নদীর মোহানা বলে।
উত্তর: শু
১৪. সিন্ধু-গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র সমভূমি হল ভারতের সর্ববৃহৎ সঞ্চয়জাত সমভূমি।
উত্তর: শু
১৫. পৃথিবীর বৃহত্তম ব-দ্বীপ সমভূমিটি হল গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনার সমভূমি।
উত্তর: শু
১৬. পর্বত মধ্যবর্তী মালভূমির একটি উদাহরণ হল দাক্ষিণাত্যের মালভূমি।
উত্তর: অ
১৭. শুষ্ক অঞ্চলের নদী উপত্যকা 'I'-এর মতো হয়।
উত্তর: অ
১৮. শুষ্ক অঞ্চলের 'I'-এর আকৃতির উপত্যকাকে ক্যানিয়ন বলে।
উত্তর: শু
১৯. প্রবাহমান হিমবাহের চাপে যখন পর্বত থেকে শিলাখণ্ড বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় তখন তাকে অবঘর্ষ প্রক্রিয়া বলে।
উত্তর: অ
২০. ইনসেলবার্জ হল হিমবাহের ক্ষয়কার্যের ফলে গঠিত ভূমিরূপ।
উত্তর: অ
২১. হিমবাহের সঞ্চয় কাজের ফলে সৃষ্টি হয় ড্রামলিন।
উত্তর: শু
২২. চিনের হোয়াংহো নদী অববাহিকার সমভূমি একটি প্লাবন সমভূমি।
উত্তর: অ
২৩. রাজস্থানের মরুভূমি অঞ্চলে চলন্ত বালিয়াড়িকে বলে বার্খান।
উত্তর: অ
২৪. পলল শঙ্কু নদীর মোহানার কাছে গড়ে ওঠে।
উত্তর: অ
২৫. আমাজন নদীতে অবস্থিত 'ইল্হা দ্য মারাজো' পৃথিবীর বৃহত্তম দ্বীপ।
উত্তর: শু
২৬. ভারতের নীলগিরি একটি স্তূপ পর্বতের উদাহরণ।
উত্তর: অ
২৭. প্রস্তর চাঁই খন্ডীকরণ মেরু অঞ্চলে বেশি মাত্রায় দেখা যায়।
উত্তর: অ
২৮. মরুভূমি অঞ্চলে সৃষ্ট হ্রদকে প্লায়া বলে।
উত্তর: শু
২৯. উষ্ণ মরু অঞ্চলে আর্দ্র বিশ্লেষণ অধিক দেখা যায়।
উত্তর: অ
১. দুটি বা তার বেশি সার্ক পাশাপাশি গঠিত হলে দুটি সার্কের মধ্যবর্তী স্থান উঁচু হয়ে শিরার মতো অবস্থান করলে তাকে বলে __________।
উত্তর: অ্যারেট
২. বায়ুর কাজ প্রাধান্য লাভ করে __________ অঞ্চলে।
উত্তর: মরু
৩. পেডিমেন্টের নীচে গঠিত লবণাক্ত জলের হ্রদকে বলে __________।
উত্তর: প্লায়া
৪. দুটি সিফ বালিয়াড়ির মাঝের অংশের নাম __________।
উত্তর: করিডোর
৫. ভূ-পৃষ্ঠের ওপরে সংঘটিত ভূমিরূপ প্রক্রিয়া হল __________ প্রক্রিয়া।
উত্তর: বহির্জাত
৬. বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী ভূমিরূপ গঠনকারী শক্তিকে দু'ভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে, যেমন-ভূগাঠনিক শক্তি (Geotectonic force) ও __________ (Gradational force)।
উত্তর: পর্যায়ন শক্তি
৭. রাজস্থানের চলন্ত বালিয়াড়িকে বলে __________।
উত্তর: ধ্রিয়ান
| 1. 'A' স্তম্ভ |
'B' স্তম্ভ |
2. 'A' স্তম্ভ |
'B' স্তম্ভ |
| A. সিয়াচেন |
I. ভাসমান বরফ |
A. জাম্বেসি নদী |
I. ক্যুয়াব্যাক |
| B. অ্যাঞ্জেল |
II. অবঘর্ষ প্রক্রিয়া |
B. চিত্রকূট জলপ্রপাত |
II. এল ক্যানন দ্য কলকা |
| C. গৌর |
III. জলপ্রপাত |
C. পৃথিবীর গভীরতম ক্যানিয়ন |
III. ছত্তিশগড় |
| D. হিমশৈল |
IV. হিমবাহ |
D. দ্রুততম হিমবাহ |
IV. ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাত |
উত্তর: ১. A-IV, B-III, C-II, D-I | ২. A-IV, B-III, C-II, D-I
১. নদীর গতিপথে সৃষ্ট পৃথিবীর বৃহত্তম চর বা দ্বীপ কোন্টি?
উত্তর: নদীর গতিপথে সৃষ্ট পৃথিবীর বৃহত্তম চর বা দ্বীপ হল অসম সমভূমিতে অবস্থিত ব্রহ্মপুত্র নদের মাজুলি দ্বীপ।
২. প্রান্ত গ্রাবরেখা কাকে বলে?
উত্তর: হিমবাহবাহিত পাথর-নুড়ি, কাঁকর প্রভৃতি যখন হিমবাহের সামনে বা শেষপ্রান্তে সঞ্চিত হয়, তখন তাকে প্রান্ত গ্রাবরেখা বলে।
৩. তির্যক বালিয়াড়ির আর এক নাম কী?
উত্তর: তির্যক বালিয়াড়ির আর এক নাম বার্খান।
৪. পৃথিবীর মরু খাতটি কোথায় অবস্থিত?
উত্তর: পৃথিবীর বৃহত্তম মরুখাতটি মিশরের কাতারায় অবস্থিত।
৫. হিমশৈল কী?
উত্তর: সমুদ্রে ভাসমান বিশালাকৃতি বরফের স্তূপকে বলে হিমশৈল। হিমশৈলের মাত্র 1/9 ভাগ জলের ওপরে ভেসে থাকে।
৬. নদী উপত্যকা ও হিমবাহ উপত্যকার আকৃতিগত পার্থক্য নিরূপণ করো।
উত্তর: নদী উপত্যকার আকৃতি ইংরেজি বর্ণমালার 'V' অক্ষরের মতো এবং হিমবাহ উপত্যকার আকৃতি ইংরেজি বর্ণমালার 'U' অক্ষরের মতো হয়।
৭. হিমবাহ বলতে কী বোঝো?
উত্তর: স্থলভাগের তুষার ও জমাটবাঁধা কঠিন বরফের স্তূপ যখন মাধ্যাকর্ষণ শক্তির প্রভাবে ধীর গতিতে উচ্চভূমি থেকে নিম্নভূমিতে অবতরণ করে, তখন তাকে বলে হিমবাহ।
৮. হামাদা কী?
উত্তর: কোনো কোনো সময় মরুভূমির যে সব স্থান বন্ধুর ও শিলা-গঠিত বা পাথুরে সেখানে বায়ু প্রবাহের অবঘর্ষ প্রক্রিয়ায় ক্ষয়কাজের দরুন স্থানটি সমতল ও মসৃণ আকার ধারণ করে। সাহারা মরুভূমিতে এই ধরনের শিলা গঠিত সমতল ভূমিকে হামাদা বলে।
৯. একটি বহির্জাত প্রক্রিয়ার উদাহরণ দাও।
উত্তর: একটি বহির্জাত প্রক্রিয়ার উদাহরণ হল—নদীর কাজ।
১০. একটি লোয়েস সমভূমির উদাহরণ দাও।
উত্তর: উত্তর চিনের হোয়াংহো নদী অববাহিকায় বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে লোয়েস সমভূমি গঠিত হয়েছে।
১১. একটি ব্যবচ্ছিন্ন মালভূমির উদাহরণ দাও।
উত্তর: ভারতের ছোটোনাগপুর মালভূমি ব্যবচ্ছিন্ন মালভূমির উদাহরণ। [কর্ণাটক মালভূমির মালনাদ অঞ্চল বা কানাডার লরেন্সিয়ান মালভূমিকেও এরূপ মালভূমির উদাহরণ হিসেবে লেখা যেতে পারে।]
১২. একটি লাভা গঠিত মালভূমির উদাহরণ দাও।
উত্তর: দাক্ষিণাত্য মালভূমির উত্তর-পশ্চিমাংশে অবস্থিত মহারাষ্ট্রের লাভা মালভূমি বা ডেকানট্র্যাপ লাভা মালভূমির উদাহরণ।
১৩. দুটি পর্বতবেষ্টিত মালভূমির উদাহরণ দাও।
উত্তর: তিব্বতের মালভূমি এবং ইরানের মালভূমি হল দুটি পর্বতবেষ্টিত মালভূমির উদাহরণ।
১৪. ক্ষয়ীভবন কাকে বলে?
উত্তর: ভূ-পৃষ্ঠের বিভিন্ন ক্ষয়কারী শক্তির (নদী, বায়ুপ্রবাহ, হিমবাহ, সমুদ্রতরঙ্গ প্রভৃতি) ঘাত-প্রতিঘাতে শিলাস্তরের চূর্ণীকরণ, বিয়োজন ও স্থানচ্যুতিকরণের সম্মিলিত প্রক্রিয়াকে ক্ষয়ীভবন বলে।
১৫. দুটি পলিগঠিত সমভূমির উদাহরণ দাও।
উত্তর: দুটি পলিগঠিত সমভূমির উদাহরণ হল— (i) গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র সমভূমি ও (ii) হোয়াংহো সমভূমি।
১৬. হিমরেখা কী?
উত্তর: ভূ-পৃষ্ঠের যে সীমারেখার ওপর সারাবছর তুষার জমে থাকে অথবা যার নীচে তুষার (বরফ) গলে জলে পরিণত হয় তাকেই বলে হিমরেখা।
১৭. চ্যুতিরেখা ও চ্যুতিতল কী?
উত্তর: ভূত্বকে যে রেখা বরাবর চ্যুতি ঘটে, তাকে চ্যুতিরেখা এবং যে তলে চ্যুতি ঘটে, তাকে চ্যুতিতল বলে।
১৮. দুটি জীবন্ত আগ্নেয়গিরির উদাহরণ দাও।
উত্তর: দুটি জীবন্ত আগ্নেয়গিরির উদাহরণ হল— (i) ইতালির ভিসুভিয়াস এবং (ii) ভারতের ব্যারেন।
১৯. 'প্রশান্ত মহাসাগরীয় আগ্নেয় মেখলা' কী?
উত্তর: প্রশান্ত মহাসাগরকে বলয়ের মতো ঘিরে রয়েছে যে আগ্নেয়গিরি মণ্ডল, তাকেই 'প্রশান্ত মহাসাগরীয় আগ্নেয় মেখলা' বলে।
২০. ভারতের উচ্চতম জলপ্রপাত কোন্টি?
উত্তর: ভারতের উচ্চতম জলপ্রপাতটি হল যোগ বা গেরসোপ্পা জলপ্রপাত। এর উচ্চতা 253 মিটার।
২১. প্লাঞ্জপুল কী?
উত্তর: জলপ্রপাতের জল যেখানে প্রবলবেগে আছড়ে পড়ে সেখানে বিশালাকার খাঁড়ির মতো গর্তের সৃষ্টি হয়। একে প্লাঞ্জপুল বলে।
২২. পৃথিবীর সুদৃশ্য জলপ্রপাতটির নাম কী?
উত্তর: পৃথিবীর সুদৃশ্য জলপ্রপাতটির নাম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নায়াগ্রা জলপ্রপাত।
২৩. পৃথিবীর উচ্চতম জলপ্রপাতটির নাম কী?
উত্তর: পৃথিবীর উচ্চতম জলপ্রপাতটির নাম দক্ষিণ আমেরিকার সাল্টো অ্যাঞ্জেল জলপ্রপাত। এটির উচ্চতা 979 মিটার।
২৪. দুটি মৃত আগ্নেয়গিরির উদাহরণ দাও।
উত্তর: দুটি মৃত আগ্নেয়গিরির উদাহরণ হল— (i) আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের নারকোন্ডাম ও (ii) মায়ানমারের পোপা।
২৫. ওভারথ্রাস্ট কাকে বলে?
উত্তর: প্রচণ্ড চাপ ও টানের ফলে যখন ঊর্ধ্বভঙ্গের একটি বাহু অপর একটি বাহু থেকে আলাদা হয়ে কিছুটা এগিয়ে যায়, তখন তাকে ওভারথ্রাস্ট বলে।
২৬. ডেকানট্র্যাপ ও রাজমহল পাহাড় কোন্ শিলায় গঠিত?
উত্তর: ডেকানট্র্যাপ ও রাজমহল পাহাড় ব্যাসল্ট শিলায় গঠিত।
২৭. ন্যাপ কী?
উত্তর: ভঙ্গিল পর্বত গঠনের সময় চাপ অত্যন্ত বেশি হলে ঊর্ধ্বভঙ্গের এক বাহু অন্য বাহু থেকে একেবারে আলাদা হয়ে স্থানচ্যুত হয়। একে ন্যাপ বলে।
২৮. কোন্ শিলাকে স্তরীভূত শিলা বলা হয়?
উত্তর: পাললিক শিলাকে স্তরীভূত শিলা বলা হয়।
২৯. খরস্রোত কী?
উত্তর: জলপ্রপাতের ঢাল খুব বেশি হলে এবং তীব্র গতিতে জল নীচের অংশে আছড়ে পড়লে তাকে খরস্রোত বলে।
৩০. কাসকেড কী?
উত্তর: জলপ্রপাত একাধিক ধাপে ধাপে নীচে নেমে এলে তাকে কাসকেড বলে। নর্মদা নদীর উৎসের কাছে কয়েক কিলোমিটারের মধ্যে বেশ কিছু কাসকেড দেখা যায়।
৩১. ক্যাটার্যাক্ট কী?
উত্তর: জলপ্রপাতে বিপুল পরিমাণে জল প্রবাহিত হলে তাকে ক্যাটার্যাক্ট বলে।
৩২. কোন্ শিলায় জীবাশ্ম দেখতে পাওয়া যায়?
উত্তর: পাললিক শিলায় জীবাশ্ম দেখতে পাওয়া যায়।
৩৩. কী কী প্রক্রিয়ায় শিলা রূপান্তরিত হয়?
উত্তর: (i) চাপ, (ii) তাপ ও (iii) রাসায়নিক প্রক্রিয়ার প্রভাবে শিলা রূপান্তরিত হয়।
৩৪. হর্নব্লেন্ড কী?
উত্তর: হর্নব্লেন্ড একটি রূপান্তরিত শিলা। আগ্নেয়শিলা অগাইট রূপান্তরিত হলে হর্নব্লেন্ড সৃষ্টি হয়।
৩৫. রিকামবেন্ট ফোল্ড কাকে বলে?
উত্তর: ভঙ্গিল পর্বতে ঊর্ধ্বভঙ্গের দুটি বাহু ক্রমশ হেলতে হেলতে যদি একটি বাহু অপর একটি বাহুর ওপর শায়িত হয়, তখন তাকে রিকামবেন্ট ফোল্ড বলে।
৩৬. জার্মানির ব্ল্যাক ফরেস্ট কী জাতীয় পর্বত?
উত্তর: জার্মানির ব্ল্যাক ফরেস্ট একটি স্তূপ পর্বত।
৩৭. গ্রাবেন কী?
উত্তর: যে গ্রস্ত উপত্যকার দু'পাশে স্তূপ পর্বত থাকে, তাকে গ্রাবেন জাতীয় গ্রস্ত উপত্যকা বলে।
৩৮. মোনাডনক কী?
উত্তর: সমপ্রায় ভূমির মাঝে মাঝে দু-একটি কঠিন শিলায় গঠিত পাহাড় বা টিলা দেখা যায়। এগুলির নাম মোনাডনক।
৩৯. ক্ষয়জাত পর্বতকে অবশিষ্ট পর্বত বলা হয় কেন?
উত্তর: মূল পর্বত বা মালভূমির অবশিষ্ট অংশ নিয়ে গঠিত হয় বলে ক্ষয়জাত পর্বতের অপর নাম অবশিষ্ট পর্বত।
৪০. পৃথিবীর বৃহত্তম মালভূমির নাম কী?
উত্তর: পৃথিবীর বৃহত্তম মালভূমি হল তিব্বত মালভূমি।
৪১. একটি উন্নত ও একটি অবনত সমভূমির উদাহরণ দাও।
উত্তর: উন্নত সমভূমি—মেক্সিকো উপসাগরের তীরবর্তী উপসাগরীয় সমভূমি। অবনত সমভূমি—তুরানের নিম্নভূমি।
৪২. আবহাওয়ার তারতম্যে শিলা চূর্ণ-বিচূর্ণ হলে তাকে কী বলে?
উত্তর: আবহাওয়ার তারতম্যে শিলা চূর্ণ-বিচূর্ণ হলে তাকে আবহবিকার বা বিচূর্ণীভবন বলে।
৪৩. পৃথিবীর কোন্ অঞ্চলে রাসায়নিক আবহবিকার সবচেয়ে বেশি হয়?
উত্তর: উষ্ণ-আর্দ্র ক্রান্তীয় জলবায়ু অঞ্চলে রাসায়নিক আবহবিকার সবচেয়ে বেশি হয়।
৪৪. কিউসেক কী?
উত্তর: নদীর একটি নির্দিষ্ট অংশ দিয়ে প্রতি সেকেন্ডে যত ঘনফুট জল প্রবাহিত হয়, তাকে বলে কিউসেক [Cubic feet per second]। সুতরাং নদীপ্রবাহ পরিমাপের একক হল কিউসেক।
৪৫. হিমবাহ সমভূমির উদাহরণ দাও।
উত্তর: উত্তর আমেরিকার প্রেইরি ভূমির উত্তরাংশ ও উত্তর ইউরোপের সমভূমিগুলি হিমবাহ সমভূমির প্রকৃষ্ট উদাহরণ।
৪৬. ভারতের সর্ববৃহৎ সঞ্চয়জাত সমভূমি কোন্টি?
উত্তর: ভারতের সর্ববৃহৎ সঞ্চয়জাত সমভূমিটি হল—উত্তর ভারতের সমভূমি (সিন্ধু-ব্রহ্মপুত্র-গঙ্গা সমভূমি)।
৪৭. ভারতের প্রাচীনতম ভঙ্গিল পর্বত কোন্টি?
উত্তর: ভারতের প্রাচীনতম ভঙ্গিল পর্বতটি হল আরাবল্লি।
৪৮. পৃথিবীর বৃহত্তম গিরিখাত বা ক্যানিয়ন কোন্টি?
উত্তর: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো নদীর গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন।
৪৯. নদীর কোন্ প্রবাহে জলপ্রপাতের সৃষ্টি হয়?
উত্তর: নদীর পার্বত্য প্রবাহে জলপ্রপাতের সৃষ্টি হয়।
৫০. রাজস্থানের মরু অঞ্চলের চলমান বালিয়াড়িকে কী বলে?
উত্তর: রাজস্থানের মরু অঞ্চলের চলমান বালিয়াড়িকে ধ্রিয়ান বলে।
৫১. নদীখাত খুব সংকীর্ণ ও গভীর হলে তাকে কী বলে?
উত্তর: নদীখাত খুব সংকীর্ণ ও গভীর হলে তাকে গিরিখাত বলে।
১. অনুদৈর্ঘ্য বা সিফ বালিয়াড়ি কী?
উত্তর: বায়ুপ্রবাহের সমান্তরালে দীর্ঘ ও সংকীর্ণ শৈলশিরার মতো বালির পাহাড়গুলিকে সিফ বালিয়াড়ি বলে। এই বালিয়াড়ি দেখতে অনেকটা তলোয়ারের মতো বলে একে 'সিফ বালিয়াড়ি' বলে। ব্যাগনল্ডের মতে বার্খান থেকেই এই বালিয়াড়ির সৃষ্টি হয়। নিয়মিত বায়ুপ্রবাহের দিক পরিবর্তনের ফলে বার্খানের একটি শিং প্রসারিত হয়ে সিফ বালিয়াড়ির আকার ধারণ করে।
২. ফিয়র্ড বলতে কী বোঝো?
উত্তর: সমুদ্র উপকূলে মহাদেশীয় হিমবাহের ক্ষয়ের ফলে অনেক সময় সমুদ্রতল অপেক্ষা গভীর উপত্যকার সৃষ্টি হয়। এরূপ জলমগ্ন উপত্যকাকে ফিয়র্ড বলে। পৃথিবীর গভীরতম ফিয়র্ড হল নরওয়ের সোজানে ফিয়র্ড।
৩. অপসারণ প্রক্রিয়ায় সৃষ্ট ভূমিরূপগুলি কী কী?
উত্তর:
(i) অবনত ভূমি: বায়ু অপসারণ প্রক্রিয়ায় বিশাল আয়তনযুক্ত গর্ত সৃষ্টি করে অবনত ভূমির সৃষ্টি করে। উদাহরণ—মিশরের কাতার অবনমিত ভূমি।
(ii) ধান্দ: বায়ুর অপসারণ প্রক্রিয়ায় মরু অঞ্চলে ছোটো ছোটো গর্তের সৃষ্টি হয়। এদের রাজস্থানে ধান্দ বলে।
(iii) মরূদ্যান: বায়ুর অপসারণ প্রক্রিয়ায় ধান্দগুলি সুগভীর হয়ে জলস্তর পর্যন্ত পৌঁছে গেলে তখন সেখানে জল বেরিয়ে এসে মরূদ্যানের সৃষ্টি করে।
৪. জলবিভাজিকা কাকে বলে?
উত্তর: যে উচ্চভূমি দুই বা ততোধিক নদী গোষ্ঠীকে পৃথক করে তাকে জলবিভাজিকা বলে। পাহাড়-পর্বত প্রভৃতি উচ্চভূমি জলবিভাজিকা রূপে অবস্থান করে। ভারতের হিমালয়, পশ্চিমঘাট, বিন্ধ্য, সাতপুরা প্রভৃতি পর্বত হল উল্লেখযোগ্য জলবিভাজিকা।
৫. জলপ্রপাত কাকে বলে?
উত্তর: নদীর গতিপথে কঠিন ও কোমল শিলা আড়াআড়িভাবে অবস্থান করলে নদীর প্রবল স্রোতে কোমল শিলা দ্রুত ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে নীচু হয় আর কঠিন শিলা অল্প ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে খাড়াভাবে অবস্থান করে। এর ফলে নদী যখন খাড়া ঢাল বেয়ে নীচে প্রবল বেগে প্রবাহিত হয়, তখন তাকে জলপ্রপাত বা waterfall বলে। উদাহরণ—পৃথিবীর উচ্চতম জলপ্রপাতটি হল সাল্টো অ্যাঞ্জেল জলপ্রপাত (৯৭৯ মিটার)।
৬. নদীমঞ্চ বলতে কী বোঝো?
উত্তর: সমভূমি প্রবাহে নদীর মধ্যগতিতে নদীর উভয় তীরে অনেক সময় একাধিক অসমান ধাপ বা মঞ্চ দেখা যায়, এদের নদীমঞ্চ বলে। মধ্যগতিতে নদী উপত্যকার দু'ধারে নদীবাহিত বিভিন্ন পদার্থ ক্রমাগত সঞ্চিত হয়ে এই ধরনের অসমান ধাপ বা নদীমঞ্চ গঠিত হয়। উদাহরণ—ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা প্রভৃতি নদীর উভয় তীরে নদীমঞ্চ দেখা যায়।
৭. বাজাদা বলতে কী বোঝো?
উত্তর: মরুভূমি এবং মরুপ্রায় অঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি প্রবল বর্ষণের প্রভাবে সৃষ্টি হওয়া অস্থায়ী জলধারা ও বায়ুপ্রবাহের মিলিত সঞ্চয় কাজের ফলে পর্বতের পাদদেশীয় নিম্নভূমি বা প্লায়া অঞ্চলে নুড়ি, বালি, কাদা ও পলি সঞ্চয়ের ফলে যে প্রায় সমতল ভূমির সৃষ্টি হয় তাকে বাজাদা বলে। কখনো কখনো মরু অঞ্চলের পর্বতের পাদদেশে অস্থায়ী জলধারা গঠিত একাধিক পললব্যজনী একসঙ্গে অবস্থান করলে বাজাদা গড়ে ওঠে। উদাহরণ—সাহারা মরুভূমির অ্যাটলাস পর্বতের পাদদেশ অঞ্চলে বাজাদা ভূমিরূপ দেখা যায়।
৮. বায়ু কোন্ কোন্ পদ্ধতিতে কাজ করে?
উত্তর: বায়ু প্রধানত দুটি পদ্ধতিতে কাজ করে—
(i) বায়ুর ক্ষয় কাজ: বায়ুর ক্ষয় কাজের ক্ষমতা তিনটি অবস্থার ওপর নির্ভর করে—(a) বালুকণার পরিমাণ, (b) বালুকণার আকৃতি ও (c) বায়ুর গতিবেগ।
(ii) বায়ুর সঞ্চয় কাজ: বায়ু সাধারণত তিনটি পদ্ধতিতে সঞ্চয় কাজ সম্পন্ন করে—(a) থিতানো পদ্ধতি, (b) উপলেপ পদ্ধতি ও (c) দখলি পদ্ধতি।
১. সমপ্রায়ভূমি ও পেডিমেন্টের মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করো।
| পার্থক্যের বিষয় |
সমপ্রায়ভূমি |
পেডিমেন্ট |
| অবস্থান ও উৎপত্তি |
আর্দ্র অঞ্চলে প্রাচীন উচ্চভূমি বা মালভূমি নদী দ্বারা দীর্ঘকাল ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে সমপ্রায়ভূমির সৃষ্টি হয়। |
শুষ্ক মরুভূমি ও মরুপ্রায় অঞ্চলে পর্বতের ঢাল ও পাদদেশ বরাবর পেডিমেন্ট সৃষ্টি হয়। |
| উৎপত্তির কারণ |
নদী বা প্রবহমান জলধারার দীর্ঘমেয়াদী ক্ষয়কাজের ফলে এটি গঠিত হয়। |
প্রবল বায়ুপ্রবাহ ও অস্থায়ী জলধারার ক্ষয় ও সঞ্চয়কাজের যৌথ প্রক্রিয়ায় এটি গড়ে ওঠে। |
| টিলা বা অবশিষ্টাংশ |
সমপ্রায়ভূমিতে কঠিন শিলাগঠিত অনুচ্চ টিলাকে 'মোনাডনক' বলে। |
পেডিমেন্টের পশ্চাদ্বর্তী অংশে অনুচ্চ টিলাকে 'ইনসেলবার্জ' বলে। |
২. বহির্জাত প্রক্রিয়ার বৈশিষ্ট্যগুলি লেখো।
সংজ্ঞা ও উৎস: যে সকল প্রক্রিয়া ভূ-পৃষ্ঠের ওপর সব সময় ক্রিয়াশীল থেকে ভূমিরূপ গঠনে সাহায্য করে তাদের বহির্জাত প্রক্রিয়া বলা হয়। এই শক্তিগুলি মূলত সৌরশক্তি ও মাধ্যাকর্ষণ শক্তি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। নদী, হিমবাহ, বায়ু, সমুদ্রতরঙ্গ, আবহবিকার প্রভৃতি এর প্রধান মাধ্যম।
পদ্ধতিসমূহ: বহির্জাত শক্তি মূলত তিনটি প্রক্রিয়ায় কাজ করে—
(a) আরোহণ বা সঞ্চয়: ক্ষয়িত পদার্থ নিচু স্থানে সঞ্চিত হয়ে ভূপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাওয়ার প্রক্রিয়া।
(b) অবরোহণ বা ক্ষয়: আবহবিকার ও ক্ষয়ীভবনের মাধ্যমে উঁচু ভূমিরূপ ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে নিচু হওয়ার প্রক্রিয়া।
(c) জৈবিক পদ্ধতি: উদ্ভিদ, প্রাণী এবং মানুষের বিভিন্ন কার্যাবলির মাধ্যমে ভূমিরূপের রূপান্তর ঘটে।
৩. সব নদী মোহানায় ব-দ্বীপ গড়ে ওঠে না কেন?
ব-দ্বীপ গঠনের অনুকূল শর্তের অভাব: অবক্ষেপণ যেখানে ক্ষয়ের তুলনায় বেশি হয়, কেবল সেখানেই ব-দ্বীপ গঠিত হতে পারে।
নদী অত্যন্ত খরস্রোতা হলে কিংবা মোহানায় তীব্র সমুদ্রস্রোত ও জোয়ার-ভাটার টান থাকলে নদীবাহিত পলি সমুদ্রে ভেসে দূরে চলে যায় এবং মোহানায় জমা হতে পারে না। এছাড়া নদীতে বহনযোগ্য পলির পরিমাণ কম থাকলে অথবা নদীর মোহানায় সমুদ্রের গভীরতা অতিরিক্ত হলে ব-দ্বীপ গড়ে উঠতে পারে না। যেমন—নর্মদা ও তাপ্তী নদীর মোহানায় কোনো ব-দ্বীপ গড়ে ওঠেনি।
৪. বহির্জাত শক্তি ও অন্তর্জাত শক্তি প্রক্রিয়ার মধ্যে পার্থক্য লেখো।
| পার্থক্যের বিষয় |
বহির্জাত শক্তি |
অন্তর্জাত শক্তি |
| উৎপত্তি ও ক্ষেত্র |
ভূপৃষ্ঠের উপরিভাগে এবং বায়ুমণ্ডলে উৎপন্ন হয়ে কাজ করে। |
ভূ-অভ্যন্তরে পরিচলন স্রোত ও তাপের কারণে উৎপন্ন হয়। |
| প্রক্রিয়াসমূহ |
নদী, হিমবাহ, বায়ু ও সমুদ্রতরঙ্গের ক্ষয় ও সঞ্চয়কাজ। |
পাত সঞ্চালন, অগ্ন্যুৎপাত, ভূমিকম্প প্রভৃতি। |
| সময়কাল |
ভূমিরূপ গঠনে অত্যন্ত দীর্ঘ সময় লাগে (ধীর প্রক্রিয়া)। |
অনেক ক্ষেত্রে অত্যন্ত আকস্মিক ও কম সময়ে পরিবর্তন ঘটায়। |
৫. নদী উপত্যকা ও হিমবাহ উপত্যকার মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করো।
| পার্থক্যের বিষয় |
নদী উপত্যকা |
হিমবাহ উপত্যকা |
| উপত্যকার আকৃতি |
নদী উপত্যকার আকৃতি সাধারণত ইংরেজি 'V' বা 'I' অক্ষরের মতো হয়। |
হিমবাহ উপত্যকার আকৃতি সাধারণত ইংরেজি 'U' অক্ষরের মতো হয়। |
| ক্ষয়ের ধরন |
নদী মূলত নিম্নক্ষয় ও কিছুটা পার্শ্বক্ষয় করে। |
হিমবাহ সমান তালে নিম্নক্ষয় ও পার্শ্বক্ষয় উভয়ই সম্পন্ন করে। |
| ভৌগোলিক বিস্তার |
মেরু অঞ্চল ব্যতিরেকে ভূপৃষ্ঠের প্রায় সর্বত্র দেখা যায়। |
উচ্চ পার্বত্য ও শীতল মেরু অঞ্চলেই সীমাবদ্ধ। |
৬. বায়ুর অপসারণ কাজের দ্বারা সৃষ্ট ভূমিরূপগুলির বিবরণ দাও।
বায়ুর অপসারণ প্রক্রিয়ায় সৃষ্ট ভূমিরূপ:
(i) ধান্দ বা ব্লো-আউট: মরু অঞ্চলে বায়ুর অপসারণের ফলে আলগা বালি উড়ে গিয়ে ছোটো-বড়ো গর্তের সৃষ্টি হয়, এদের ধান্দ বা ব্লো-আউট বলে।
(ii) অবনমিত খাদ: বায়ুর দীর্ঘমেয়াদী অপসারণের ফলে যখন বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে গভীর অবনমিত খাদের সৃষ্টি হয়, তাকে মরুখাত বলে। মিশরের 'কাতারা' হলো পৃথিবীর বৃহত্তম ব্লো-আউট বা অবনমিত অঞ্চল।
(iii) মরূদ্যান: অপসারণ গর্তটি ক্রমে গভীর হতে হতে যখন ভূগর্ভস্থ জলস্তর স্পর্শ করে, তখন সেখানে জল জমা হয়ে গাছপালা জন্মায় ও সুদৃশ্য পরিবেশ গঠিত হয়—একে মরূদ্যান (Oasis) বলে।
৭. জলপ্রপাত সৃষ্টির কারণগুলি লেখো।
জলপ্রপাত সৃষ্টির কারণ:
১. নদীর গতিপথে কঠিন ও কোমল শিলাস্তর আড়াআড়িভাবে অবস্থান করলে কোমল শিলা দ্রুত ক্ষয়ে গিয়ে ঢাল সৃষ্টি করে।
২. নদীর গতিপথে কোনো চ্যুতি বা ভূ-আলোড়নজনিত কারণে খাড়া ঢালের উৎপত্তি ঘটলে জলপ্রপাত গড়ে ওঠে।
৩. ঝুলন্ত উপত্যকা থেকে বরফ গলে সৃষ্ট নদী যখন মূল উপত্যকায় এসে প্রবল বেগে আছড়ে পড়ে, তখন জলপ্রপাত তৈরি হয়। যেমন—ভারতের সরাবতী নদীর গেরসোপ্পা বা যোগ জলপ্রপাত।
৮. নদী কোন্ কোন্ পদ্ধতিতে ক্ষয়কাজ সম্পন্ন করে?
নদীর ক্ষয়কাজের পাঁচটি প্রধান পদ্ধতি:
১. জলপ্রবাহ ক্ষয়: তীব্র জলপ্রবাহের সরাসরি আঘাতে নদীগর্ভের নরম শিলাস্তর আলগা হয়ে ভেঙে যায়।
২. অবঘর্ষজনিত ক্ষয়: নদীবাহিত নুড়ি, পাথর নদীগর্ভ ও দুই কূলের গায়ে আঘাত করে ঘর্ষণজনিত ক্ষয় ঘটায়।
৩. ঘর্ষণ ক্ষয়: জলস্রোতের সাথে বাহিত পাথরের টুকরোগুলো নিজেদের মধ্যে ঠোকাঠুকি লেগে ছোটো ছোটো কণায় পরিণত হয়।
৪. দ্রবণ ক্ষয়: দ্রবণীয় খনিজ সমৃদ্ধ শিলাস্তরের ওপর দিয়ে জল প্রবাহিত হলে খনিজ পদার্থ জলে গুলে অপসারিত হয়।
৫. বুদ্বুদ বা ক্যাভিটেশন ক্ষয়: দ্রুতগামী জলপ্রবাহে সৃষ্ট বুদ্বুদের অতিরিক্ত চাপে শিলা দুর্বল হয়ে ভেঙে যায়।
৯. কাজ অনুসারে নদী প্রবাহকে কটি ভাগে ভাগ করা যায় ও কী কী?
নদী প্রবাহের শ্রেণিবিভাগ: উৎস থেকে মোহানা পর্যন্ত কাজের ধরন অনুসারে নদী প্রবাহকে প্রধানত তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়—
(i) উচ্চগতি বা পার্বত্য প্রবাহ: এখানে ভূমির ঢাল বেশি থাকায় নদীর প্রধান কাজ হয় 'ক্ষয়সাধন' ও বাহিত পদার্থের পরিবহন। উদাহরণ—গঙ্গার উৎস গোমুখ থেকে হরিদ্বার পর্যন্ত অংশ।
(ii) মধ্যগতি বা সমভূমি প্রবাহ: এখানে ঢাল কমে আসায় নদী মূলত 'বহন' ও সামান্য সঞ্চয়কাজ করে। উদাহরণ—হরিদ্বার থেকে পশ্চিমবঙ্গের ধূলিয়ান পর্যন্ত গঙ্গার গতিপথ।
(iii) নিম্নগতি বা বদ্বীপ প্রবাহ: নদীর শেষ ভাগে ঢাল প্রায় সমতল হয়ে যাওয়ায় নদী প্রধানত 'সঞ্চয়কাজ' করে ব-দ্বীপ গঠন করে। উদাহরণ—ধূলিয়ান থেকে বঙ্গোপসাগরের মোহানা পর্যন্ত অংশ।
১০. যান্ত্রিক ও রাসায়নিক আবহবিকারের মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করো।
| পার্থক্যের বিষয় |
যান্ত্রিক আবহবিকার |
রাসায়নিক আবহবিকার |
| প্রক্রিয়া ও রূপান্তর |
শিলা কেবল চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়, মূল রাসায়নিক গঠন অপরিবর্তিত থাকে। |
শিলার রাসায়নিক বিয়োজন ঘটে এবং নতুন খনিজের সৃষ্টি হয়। |
| প্রধান উপাদান |
উষ্ণতার তারতম্য, চাপমুক্তি, তুষার ইত্যাদির প্রভাবে ঘটে। |
জল, অক্সিজেন, কার্বন ডাই-অক্সাইড এবং বিভিন্ন অ্যাসিডের প্রভাবে ঘটে। |
| জলবায়ু অঞ্চল |
উষ্ণ মরুভূমি ও শীতল উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে বেশি কার্যকরী। |
উষ্ণ ও আর্দ্র ক্রান্তীয়/নিরক্ষীয় অঞ্চলে সর্বাধিক পরিলক্ষিত হয়। |
১. আকৃতি ও অবস্থান অনুসারে বালিয়াড়ির শ্রেণিবিভাগ করো। তির্যক ও অনুদৈর্ঘ্য বালিয়াড়ি সম্বন্ধে সংক্ষেপে আলোচনা করো।
বালিয়াড়ি কী: বায়ুপ্রবাহের পথে কোনো বাধা থাকলে বায়ুবাহিত বালিকণা স্তূপাকারে সঞ্চিত হয়ে যে বালির ঢিবি বা শৈলশিরা গড়ে তোলে, তাকে বালিয়াড়ি বলে।
অবস্থান অনুসারে শ্রেণিবিভাগ: (a) অগ্রবর্তী বালিয়াড়ি, (b) মস্তক বালিয়াড়ি, (c) পার্শ্বস্থ বালিয়াড়ি, (d) পুচ্ছ বালিয়াড়ি এবং (e) চলন্ত বা অস্থির বালিয়াড়ি (যাকে থর মরুভূমিতে 'ধ্রিয়ান' বলা হয়)।
আকৃতি অনুসারে প্রধান দুটি বালিয়াড়ি:
১. তির্যক বা বার্খান বালিয়াড়ি: বায়ুর প্রবাহপথের সঙ্গে আড়াআড়ি বা তির্যকভাবে গঠিত অর্ধচন্দ্রাকৃতি বালিয়াড়িকে বার্খান বলে।
বৈশিষ্ট্য: এর বায়ুমুখী ঢাল মৃদু এবং বিপরীত দিকের ঢাল খাড়া হয়। এর দু-পাশে দুটি বাঁকানো শিং-এর মতো প্রান্তভাগ বর্তমান থাকে। উচ্চতা সাধারণত ১৫ থেকে ৩৫ মিটার হয়।
২. অনুদৈর্ঘ্য বা সিফ বালিয়াড়ি: বায়ুর গতির সমান্তরালে গঠিত দীর্ঘ, সরু ও তরবারির মতো শৈলশিরা রূপ বালিয়াড়িকে সিফ বালিয়াড়ি বলে।
বৈশিষ্ট্য: নিয়মিত বায়ুর দিক পরিবর্তনের ফলে বার্খানের একটি শিং দীর্ঘায়িত হয়ে সিফের সৃষ্টি হয়। দুটি সমান্তরাল সিফ বালিয়াড়ির মধ্যবর্তী বালিহীন অংশকে 'করিডোর' বা 'গাছি' বলা হয়।
২. নদীর ক্ষয়কাজের ফলে সৃষ্ট ভূমিরূপগুলির সচিত্র বিবরণ দাও।
ভূমিকা: উচ্চগতি বা পার্বত্য প্রবাহে নদীর মূল কাজ হলো নিম্নক্ষয় ও পশ্চাৎ ক্ষয়। এর ফলে নিম্নলিখিত প্রধান ভূমিরূপগুলি গড়ে ওঠে—
১. 'I' ও 'V' আকৃতির উপত্যকা: নদীর প্রবল নিম্নক্ষয়ের ফলে প্রথমে অত্যন্ত গভীর ও খাড়া 'I' আকৃতির উপত্যকা তৈরি হয়। পরবর্তীকালে পার্শ্বক্ষয় ও আবহবিকারের কারণে তা চওড়া হয়ে ইংরেজি 'V' অক্ষরের আকার ধারণ করে।
২. গিরিখাত ও ক্যানিয়ন: আর্দ্র পার্বত্য অঞ্চলে নদীর প্রবল নিম্নক্ষয়ে অত্যন্ত গভীর ও সংকীর্ণ উপত্যকা তৈরি হলে তাকে গিরিখাত বলে। শুষ্ক মরুপ্রায় অঞ্চলে নদী দ্বারা সৃষ্ট গভীর গিরিখাতকে ক্যানিয়ন বলে (যেমন—গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন)।
৩. জলপ্রপাত ও খরস্রোত: কঠিন ও কোমল শিলাস্তর আড়াআড়িভাবে অবস্থান করলে নরম শিলা দ্রুত ক্ষয়ে যায় এবং নদীর জল উপর থেকে খাড়াভাবে নিচে পতিত হয়ে জলপ্রপাতের সৃষ্টি করে। ধাপে ধাপে জল নামলে তাকে কাসকেড বলে।
৪. মন্থকূপ (Potholes): জলস্রোতের সাথে ঘুরতে থাকা পাথরের খণ্ড নদীর তলদেশে অবঘর্ষ প্রক্রিয়ায় আঘাত করে যে হাঁড়ির মতো গোলাকার গর্ত তৈরি করে, তাকে মন্থকূপ বলে।
৫. প্রপাতকূপ (Plunge Pool): জলপ্রপাতের পাদদেশে জলের বিপুল আঘাত ও প্রস্তরখণ্ডের ঘর্ষণে সৃষ্ট গভীর খাঁদকে প্রপাতকূপ বলে।
৬. শৃঙ্খলিত শৈলশিরা (Interlocking Spurs): পার্বত্য অঞ্চলে শৈলশিরার বাঁক এড়িয়ে যাওয়ার জন্য নদী এঁকেবেঁকে চলে, ফলে দূর থেকে শৈলশিরাগুলিকে একটির মধ্যে আরেকটি আবদ্ধ বলে মনে হয়।
১. টীকা: গৌর (Gour / Mushroom Rock)
মরু অঞ্চলে বায়ুর অবঘর্ষ প্রক্রিয়ায় ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি অংশে (১ মিটার উচ্চতার মধ্যে) ক্ষয়কাজ সর্বাধিক হয়। কোনো শিলাস্তূপের উপরিভাগ কঠিন এবং নিচের ভাগ নরম শিলা দ্বারা গঠিত হলে নিচের অংশ দ্রুত ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে সরু স্তম্ভের আকার নেয় এবং ওপরের কঠিন অংশটি বড়ো হয়ে ছাতার মতো দাঁড়িয়ে থাকে। ব্যাঙের ছাতার মতো দেখতে এই ভূমিরূপকে গৌর বা পেডেস্টাল বলে। সাহারা মরুভূমিতে বহু গৌর দেখতে পাওয়া যায়।
২. টীকা: ঝুলন্ত উপত্যকা (Hanging Valley)
উপত্যকা হিমবাহে প্রধান হিমবাহটি বিশালাকার হওয়ায় তার উপত্যকাটি খুব গভীর ও প্রশস্ত হয়। পক্ষান্তরে, পার্শ্ববর্তী ক্ষুদ্রাকার উপনদী সদৃশ হিমবাহগুলির উপত্যকা অগভীর হয়। পরবর্তীকালে বরফ গলে গেলে মনে হয় যেন ছোট ছোট উপত্যকাগুলি মূল গভীর হিমবাহ উপত্যকার ওপর শূন্যে ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছে। একেই ঝুলন্ত উপত্যকা বলে। ঝুলন্ত উপত্যকা থেকে জল মূল উপত্যকায় নেমে এলে জলপ্রপাত সৃষ্টি হয় (যেমন—বদ্রীনাথের ঋষিগঙ্গা উপত্যকা)।